ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের অব্যাহতির সুপারিশ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯৪ বার পড়া হয়েছে

হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের অব্যাহতির সুপারিশ জেটিভি নিউজ বাংলা, ডেস্ক, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ৩:১৬ পিএম। জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি-২৭ এলাকায় সাহেদ আলী আহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ মোট ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ বিষয়ে সম্প্রতি আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ জানান, জুলাই আন্দোলনে আহতদের তালিকা নিয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। তবে মামলায় যেসব আহতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, গেজেটে তাদের কারও নাম পাওয়া যায়নি। তথ্যগত অসামঞ্জস্য ও প্রমাণের ঘাটতির কারণে আপাতত আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আহতদের নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে পুনরায় অভিযোগপত্র দাখিলের সুযোগ থাকবে বলেও জানান তিনি। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এজাহারে আসামিদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য, কমিশনার, আওয়ামী লীগ দলীয় ক্যাডার, অর্থদাতা, সমর্থক এবং দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে বাদী শরীফের দেওয়া ঠিকানায় হাজারীবাগে নোটিশ পাঠানো হলে বাড়িওয়ালা জানান, ওই নামে কেউ সেখানে বসবাস করেন না। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে জানা যায়, বাদীর প্রকৃত নাম শরিফুল ইসলাম। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৪ নম্বর মান্দারী এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তবে ওই এলাকাতেও তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, বাদীর মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ থাকলেও হোয়াটসঅ্যাপে মাঝে মাঝে সংযোগ পাওয়া যায়। একপর্যায়ে ধানমন্ডি লেক এলাকায় শরিফুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ সময় ভুক্তভোগীকে হাজির করা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও দীর্ঘদিন পার হলেও তা সরবরাহ করা হয়নি। এমনকি এজাহারেও চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য উল্লেখ ছিল না। গত ২৩ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপে বাদীকে পরদিন ঘটনাস্থলে আহত ব্যক্তি ও সাক্ষীদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হলেও কেউ উপস্থিত হননি। পরে সাহেদ আলীসহ অন্যান্য আহতদের বিভিন্নভাবে খোঁজ করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এজাহারে ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার কথা বলা হলেও তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম, ঠিকানা ও রোল নম্বর না থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও কোনো তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। আশপাশের হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উল্লেখিত নামের কেউ সেখানে চিকিৎসা নেননি বা ভর্তি হননি। এজাহারে উল্লেখিত আহত সাহেদ আলী, রাশেদ, জুয়েল, মাহমুদ, নাহিদ, রাসেল, মিরাজ, জান্নাতুল ফেরদৌস নাঈমা, আইশ আক্তার ও সাম্মি আক্তারের চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। সবশেষে পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের অভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জন আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের অব্যাহতির সুপারিশ

আপডেট সময় ০৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের অব্যাহতির সুপারিশ জেটিভি নিউজ বাংলা, ডেস্ক, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ৩:১৬ পিএম। জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি-২৭ এলাকায় সাহেদ আলী আহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ মোট ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ বিষয়ে সম্প্রতি আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ জানান, জুলাই আন্দোলনে আহতদের তালিকা নিয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। তবে মামলায় যেসব আহতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, গেজেটে তাদের কারও নাম পাওয়া যায়নি। তথ্যগত অসামঞ্জস্য ও প্রমাণের ঘাটতির কারণে আপাতত আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আহতদের নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে পুনরায় অভিযোগপত্র দাখিলের সুযোগ থাকবে বলেও জানান তিনি। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এজাহারে আসামিদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য, কমিশনার, আওয়ামী লীগ দলীয় ক্যাডার, অর্থদাতা, সমর্থক এবং দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে বাদী শরীফের দেওয়া ঠিকানায় হাজারীবাগে নোটিশ পাঠানো হলে বাড়িওয়ালা জানান, ওই নামে কেউ সেখানে বসবাস করেন না। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে জানা যায়, বাদীর প্রকৃত নাম শরিফুল ইসলাম। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৪ নম্বর মান্দারী এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তবে ওই এলাকাতেও তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, বাদীর মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ থাকলেও হোয়াটসঅ্যাপে মাঝে মাঝে সংযোগ পাওয়া যায়। একপর্যায়ে ধানমন্ডি লেক এলাকায় শরিফুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ সময় ভুক্তভোগীকে হাজির করা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও দীর্ঘদিন পার হলেও তা সরবরাহ করা হয়নি। এমনকি এজাহারেও চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য উল্লেখ ছিল না। গত ২৩ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপে বাদীকে পরদিন ঘটনাস্থলে আহত ব্যক্তি ও সাক্ষীদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হলেও কেউ উপস্থিত হননি। পরে সাহেদ আলীসহ অন্যান্য আহতদের বিভিন্নভাবে খোঁজ করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এজাহারে ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার কথা বলা হলেও তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম, ঠিকানা ও রোল নম্বর না থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও কোনো তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। আশপাশের হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উল্লেখিত নামের কেউ সেখানে চিকিৎসা নেননি বা ভর্তি হননি। এজাহারে উল্লেখিত আহত সাহেদ আলী, রাশেদ, জুয়েল, মাহমুদ, নাহিদ, রাসেল, মিরাজ, জান্নাতুল ফেরদৌস নাঈমা, আইশ আক্তার ও সাম্মি আক্তারের চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। সবশেষে পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের অভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জন আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।