ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ রাজধানীতে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর হামের পর এবার ডেঙ্গুর প্রকোপে বিপর্যস্ত ময়মনসিংহ, হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন আফতাবনগর প্রকল্পের ভেতরে ২১ কোটি টাকার সরকারি খাস জমি উদ্ধার দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ও উসকানি ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপরাধ অনেক নিয়ন্ত্রণে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাড়িবহর ছাড়াই সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ভর্তুকির সার সাগরপথে নিয়মিত মিয়ানমারে পাচার, দুই মাসে জব্দ ৩ হাজার ৩১০ বস্তা

১২৫৩ টাকার এলপিজি ২০০০ টাকা, দায় কার? স্টাফ রিপোর্টার:

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৭:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮৪ বার পড়া হয়েছে

১২৫৩ টাকার এলপিজি ২০০০ টাকা, দায় কার? স্টাফ রিপোর্টার: জেটিভি নিউজ বাংলা, ছবি সংগৃহীত  ২ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ৭:২২ পিএম। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করেই অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্যাস সংযোগবিহীন লাখো মানুষ। রাজধানীর টঙ্গীতে বসবাসকারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রাকিব হাসান বলেন, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে খরচ কমাতে শহরতলিতে থাকলেও রান্নার জন্য একমাত্র ভরসা এলপিজি। বৃহস্পতিবার বাজারে গিয়ে জানতে পারি, সরকার নির্ধারিত ১২৫৩ টাকার সিলিন্ডারের দাম চাওয়া হচ্ছে ১৮০০ টাকা। বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ৫৪৭ টাকা দিয়েই কিনতে হয়েছে। রাকিবের মতো একই অভিজ্ঞতার কথা জানান আরও অনেক ভোক্তা। আদাবর, ডেমরা, মিরপুর, যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায়। কোথাও কোথাও দাম উঠেছে ২৫০০ টাকাও। আরমান হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, “চারটি দোকান ঘুরেও কোথাও নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাইনি। সব জায়গায় একই দাম চাওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দুই হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে।” ভোক্তাদের অভিযোগ, আগে কখনো কখনো ২০ থেকে ৫০ টাকা বেশি নিলেও এবার একলাফে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ সংকট থাকায় তাদেরও বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। আদাবরের এক বিক্রেতা রিয়াজুল হোসেন বলেন, বর্তমানে এক হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকায় সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় বিক্রির দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। ডিসেম্বর মাসে প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৪ টাকা ৪১ পয়সা, সে অনুযায়ী ১২ কেজির সিলিন্ডারের ভোক্তা পর্যায়ের দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা। এই মূল্য ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। তবে কোনো নতুন মূল্য ঘোষণা ছাড়াই বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিইআরসি জানিয়েছে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়ার পর এলপিজি অপারেটরদের সংগঠনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তা অধিদপ্তরকে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বলেন, সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা লুটপাট করছে। অথচ আইন প্রয়োগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা নেই। তিনি বলেন, বিইআরসি চাইলে অর্থদণ্ড ও জেল দিতে পারে, কিন্তু সেই ক্ষমতা কখনো প্রয়োগ করা হয় না। এদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন এই পরিস্থিতিকে বিইআরসির ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এলপিজি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম ধারণা ও নিয়মিত মনিটরিং থাকলে এমন সংকট তৈরি হতো না। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। নতুন করে জানুয়ারি মাসের জন্য এলপিজির দাম ঘোষণা করা হবে ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায়। ততদিন পর্যন্ত নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

১২৫৩ টাকার এলপিজি ২০০০ টাকা, দায় কার? স্টাফ রিপোর্টার:

আপডেট সময় ০৭:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
১২৫৩ টাকার এলপিজি ২০০০ টাকা, দায় কার? স্টাফ রিপোর্টার: জেটিভি নিউজ বাংলা, ছবি সংগৃহীত  ২ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ৭:২২ পিএম। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করেই অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্যাস সংযোগবিহীন লাখো মানুষ। রাজধানীর টঙ্গীতে বসবাসকারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রাকিব হাসান বলেন, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে খরচ কমাতে শহরতলিতে থাকলেও রান্নার জন্য একমাত্র ভরসা এলপিজি। বৃহস্পতিবার বাজারে গিয়ে জানতে পারি, সরকার নির্ধারিত ১২৫৩ টাকার সিলিন্ডারের দাম চাওয়া হচ্ছে ১৮০০ টাকা। বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ৫৪৭ টাকা দিয়েই কিনতে হয়েছে। রাকিবের মতো একই অভিজ্ঞতার কথা জানান আরও অনেক ভোক্তা। আদাবর, ডেমরা, মিরপুর, যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায়। কোথাও কোথাও দাম উঠেছে ২৫০০ টাকাও। আরমান হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, “চারটি দোকান ঘুরেও কোথাও নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাইনি। সব জায়গায় একই দাম চাওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দুই হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে।” ভোক্তাদের অভিযোগ, আগে কখনো কখনো ২০ থেকে ৫০ টাকা বেশি নিলেও এবার একলাফে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ সংকট থাকায় তাদেরও বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। আদাবরের এক বিক্রেতা রিয়াজুল হোসেন বলেন, বর্তমানে এক হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকায় সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় বিক্রির দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। ডিসেম্বর মাসে প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৪ টাকা ৪১ পয়সা, সে অনুযায়ী ১২ কেজির সিলিন্ডারের ভোক্তা পর্যায়ের দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা। এই মূল্য ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। তবে কোনো নতুন মূল্য ঘোষণা ছাড়াই বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিইআরসি জানিয়েছে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়ার পর এলপিজি অপারেটরদের সংগঠনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তা অধিদপ্তরকে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বলেন, সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা লুটপাট করছে। অথচ আইন প্রয়োগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা নেই। তিনি বলেন, বিইআরসি চাইলে অর্থদণ্ড ও জেল দিতে পারে, কিন্তু সেই ক্ষমতা কখনো প্রয়োগ করা হয় না। এদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন এই পরিস্থিতিকে বিইআরসির ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এলপিজি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম ধারণা ও নিয়মিত মনিটরিং থাকলে এমন সংকট তৈরি হতো না। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। নতুন করে জানুয়ারি মাসের জন্য এলপিজির দাম ঘোষণা করা হবে ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায়। ততদিন পর্যন্ত নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।