ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় তদন্তে অগ্রগতি, সন্দেহভাজন চিহ্নিত

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

   

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় তদন্তে অগ্রগতি, সন্দেহভাজন চিহ্নিত

  জেটিভি নিউজ বাংলা  নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা   ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হলেও এখনো তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সন্দেহভাজনের বাসাসহ অন্তত পাঁচটি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে অভিযুক্তকে কোথাও পাওয়া যায়নি। তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন—এমন কোনো তথ্যও এখন পর্যন্ত পুলিশের হাতে নেই। পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযুক্ত যুবক একাধিক মোবাইল ফোন ও সিম ব্যবহার করতেন এবং ঘন ঘন নম্বর পরিবর্তন করতেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হলেও তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান এখনও শনাক্ত করা যায়নি। ডিএমপি কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী বলেন, “চিহ্নিত হওয়া সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেফতারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। ডিবি, র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” এদিকে শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলায় মোটরসাইকেল চালক এবং তার পেছনে বসে গুলি করা ব্যক্তিকে আসামি করা হবে। মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশিদ জানান, “ভুক্তভোগীর পরিবার বাদী হয়ে মামলা করবে। তারা বর্তমানে হাসপাতালে অবস্থান করায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।” এর আগে শনিবার দুপুরে ডিএমপি সন্দেহভাজন হামলাকারীর ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়ে, তার সম্পর্কে যেকোনো তথ্য দিতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। হামলাকারীকে ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সন্দেহভাজন হামলাকারীর পরিচয়

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, সন্দেহভাজন যুবকের নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। তার বাবার নাম হুমায়ুন কবির। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়। পুলিশের পিসিআর রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি ঢাকার আদাবর থানার পিসি কালচার হাউজিং এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে আদাবর থানায় একাধিক অপরাধমূলক মামলার তথ্য রয়েছে। ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালের ১১ মে ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া, গত বছরের ২৮ অক্টোবর আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটিতে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া স্কুলের অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন তিনি। ওই মামলায় ৭ নভেম্বর র‍্যাব তাকে গ্রেফতার করে। তখন তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে অস্ত্র আইনের মামলায় তিনি জামিনে মুক্তি পান, যা পরবর্তীতে বাড়ানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অতীত অপরাধের ইতিহাস এবং সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার সূত্র ধরে সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
 

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় তদন্তে অগ্রগতি, সন্দেহভাজন চিহ্নিত

আপডেট সময় ০৯:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
   

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় তদন্তে অগ্রগতি, সন্দেহভাজন চিহ্নিত

  জেটিভি নিউজ বাংলা  নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা   ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হলেও এখনো তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সন্দেহভাজনের বাসাসহ অন্তত পাঁচটি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে অভিযুক্তকে কোথাও পাওয়া যায়নি। তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন—এমন কোনো তথ্যও এখন পর্যন্ত পুলিশের হাতে নেই। পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযুক্ত যুবক একাধিক মোবাইল ফোন ও সিম ব্যবহার করতেন এবং ঘন ঘন নম্বর পরিবর্তন করতেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হলেও তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান এখনও শনাক্ত করা যায়নি। ডিএমপি কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী বলেন, “চিহ্নিত হওয়া সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেফতারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। ডিবি, র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” এদিকে শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলায় মোটরসাইকেল চালক এবং তার পেছনে বসে গুলি করা ব্যক্তিকে আসামি করা হবে। মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশিদ জানান, “ভুক্তভোগীর পরিবার বাদী হয়ে মামলা করবে। তারা বর্তমানে হাসপাতালে অবস্থান করায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।” এর আগে শনিবার দুপুরে ডিএমপি সন্দেহভাজন হামলাকারীর ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়ে, তার সম্পর্কে যেকোনো তথ্য দিতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। হামলাকারীকে ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সন্দেহভাজন হামলাকারীর পরিচয়

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, সন্দেহভাজন যুবকের নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। তার বাবার নাম হুমায়ুন কবির। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়। পুলিশের পিসিআর রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি ঢাকার আদাবর থানার পিসি কালচার হাউজিং এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে আদাবর থানায় একাধিক অপরাধমূলক মামলার তথ্য রয়েছে। ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালের ১১ মে ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া, গত বছরের ২৮ অক্টোবর আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটিতে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া স্কুলের অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন তিনি। ওই মামলায় ৭ নভেম্বর র‍্যাব তাকে গ্রেফতার করে। তখন তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে অস্ত্র আইনের মামলায় তিনি জামিনে মুক্তি পান, যা পরবর্তীতে বাড়ানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অতীত অপরাধের ইতিহাস এবং সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার সূত্র ধরে সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।