📰 জেটিভি নিউজ বাংলা – প্রিন্ট ভার্সন
মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড — তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচ অভিযোগ প্রমাণিত
স্টাফ রিপোর্টার | জেটিভি নিউজ বাংলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। মোট দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) বেলা পৌনে তিনটায়, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের পক্ষে এই রায় ঘোষণা করেন। অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালেরও পাঁচ অভিযোগেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে দায় স্বীকার ও রাজসাক্ষী হওয়ায় ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।আদালত কক্ষে কঠোর নিরাপত্তা – কানায় কানায় পূর্ণ ট্রাইব্যুনাল
রায় ঘোষণার সময় জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে নিহত সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামছি আরা জামান, নিহত ছাত্র মীর মুগ্ধর ভাই মীর স্নিগ্ধ, এবং আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। বসার জায়গা না থাকায় বহু মানুষ দাঁড়িয়ে রায় শোনেন। রায় পড়া শুরু হওয়ার কথা ছিল সকাল ১১টায়, তবে দেড় ঘণ্টা বিলম্বে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়। মোট ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায় ছয় ভাগে পড়ে শোনান তিন বিচারক। বাংলাদেশ টেলিভিশন, রয়টার্স ও ট্রাইব্যুনালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ রায় সরাসরি সম্প্রচার করে। ঢাকার দশটি স্থানে বড় পর্দায়ও রায় দেখানো হয়।সাক্ষ্য–প্রমাণ
এই মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দেন—- আন্দোলনকারীরা
- আহত ব্যক্তিরা
- প্রত্যক্ষদর্শী
- নিহতদের পরিবার
- চিকিৎসক
- জুলাই আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম
- আসিফ মাহমুদ সজীব
- সম্পাদক মাহমুদুর রহমান
- এবং রাজসাক্ষী হিসেবে সাবেক আইজিপি মামুন
- শেখ হাসিনার ফোনালাপ ও অডিও–ভিডিও
- গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনা
- উদ্ধার হওয়া গুলি ও অন্যান্য আলামত
- ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন
🔎 তিনজনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ প্রমাণিত হলো
মানবতাবিরোধী অপরাধে মোট ৫টি অভিযোগ গঠন হয়। পাঁচটিই আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।১. উসকানিমূলক বক্তব্য ও গণহত্যা (১৪ জুলাই)
গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী ছাত্রদের “রাজাকারের বাচ্চা”, “রাজাকারের নাতিপুতি” বলে উসকানি দেন শেখ হাসিনা। এর পর তার নির্দেশে—- আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
- সশস্ত্র আওয়ামী সন্ত্রাসীরা
- ১,৫০০ জন নিহত
- ২৫,০০০ জন আহত
২. হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ
শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এএসএম মাকসুদ কামাল ও সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে ফোনালাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে** “মারণাস্ত্র ব্যবহার”** করার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করেন—- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান
- আইজিপি আল মামুন
৩. ছাত্র আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড (রংপুর)
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় তিনজনই অভিযুক্ত।৪. চাঁনখারপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা
রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় নিরস্ত্র ছয়জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগও প্রমাণিত হয়।৫. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা
আশুলিয়ায় আন্দোলনকারী ছয়জনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান ও মামুনকে দায়ী করা হয়।| আসামির নাম | রায় | অভিযোগ সংখ্যা |
|---|---|---|
| শেখ হাসিনা | দুই অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড, একটি আমৃত্যু কারাদণ্ড | ৩ |
| আসাদুজ্জামান খান কামাল | পাঁচ অভিযোগেই মৃত্যুদণ্ড | ৫ |
| চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন | রাজসাক্ষী হিসেবে ৫ বছর কারাদণ্ড | ৫ |
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার ভয়াবহ সহিংসতা ও গণহত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের এই রায় দেশ-বিদেশে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Reporter Name 






















