ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

ড্রামভর্তি ২৬ টুকরো মরদেহ: পরকীয়ার জেরে হত্যা, প্রধান আসামি জরেজ ও বান্ধবী শামীমা গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৪১ বার পড়া হয়েছে

ড্রামভর্তি ২৬ টুকরো মরদেহ: পরকীয়ার জেরে হত্যা, প্রধান আসামি জরেজ ও বান্ধবী শামীমা গ্রেফতার স্টাফ রিপোর্টার | জেটিভি নিউজ বাংলা রাজধানীর হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া ড্রামভর্তি ২৬ টুকরো মরদেহের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি জরেজ মিয়া ও তার বান্ধবী শামীমাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ডিবির একটি বিশেষ টিম তাদের আটক করে। ডিবির দক্ষিণ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা জরেজ মিয়া ও তার বান্ধবী শামীমাকে বিভিন্ন আলামতসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। পরকীয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।”

মামলার বাদী নিহতের বোন

এর আগে শুক্রবারই শাহবাগ থানায় নিহত আশরাফুল হকের বোন আনজিনা বেগম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আশরাফুলের বাল্যবন্ধু জরেজ মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর বলেন, “নিহতের বোন মামলার বাদী। প্রধান আসামি আশরাফুলের বাল্যবন্ধু জরেজ মিয়া। অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।” গত ১৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় জাতীয় ঈদগাহ সংলগ্ন পানির পাম্পের পাশে ফুটপাতে নীল রঙের দুটি প্লাস্টিক ড্রামে খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ পাওয়া যায়। প্রথমে পরিচয় না মিললেও পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণে মরদেহটি আশরাফুল হকের বলে শনাক্ত হয়। রংপুরের বদরগঞ্জের শ্যামপুর গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আশরাফুল পেশায় কাঁচামালের আমদানিকারক ছিলেন। ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ ও আলু আমদানি করতেন তিনি।

শেষবার পরিবারের সঙ্গে কথা বুধবার রাতে

ডিএমপির রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম জানান, “মঙ্গলবার ঢাকায় আসেন আশরাফুল। বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়। এরপর আর যোগাযোগ ছিল না।”

বন্ধু জরেজকে নিয়ে ঢাকায় আসেন আশরাফুল

নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ বলেন, “১১ নভেম্বর রাতে পাশের গ্রামের বন্ধু জরেজকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় যায় আশরাফুল। মালয়েশিয়া প্রবাসী জরেজ দেশে ফিরে জাপানে যাওয়ার জন্য ২০ লাখ টাকা ধার চায়। ছেলের ব্যবসায়িক লেনদেন থেকে টাকা আনতে তাকে সঙ্গে নিয়েছিল। তারপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলে মরল, কিন্তু জরেজ তো বেঁচে আছে। তাকে ধরলেই সব বের হবে।”

নিহতের স্ত্রীর সন্দেহ

নিহত আশরাফুলের স্ত্রী লাকি বেগম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি জরেজের সঙ্গে কথা বললে জরেজ জানান যে আশরাফুলের মোবাইল তার কাছেই আছে। তবে স্বামীর অবস্থান জানাতে রাজি হননি তিনি। এর পরপরই সন্ধ্যায় খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধারের খবর পান লাকি বেগম। তিনি বলেন, “তখনই আমার মনে সন্দেহ হয়। পরে লাশ পাওয়ার খবর এলে সব পরিষ্কার হয়ে যায়।”

ডিবি বলছে, তদন্তে মিলছে পরকীয়ার ইঙ্গিত

ডিবি সূত্র জানিয়েছে, জরেজ ও তার বান্ধবী শামীমার সঙ্গে নিহত আশরাফুলের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনায় এসেছে। পরকীয়াজনিত দ্বন্দ্ব থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত তদন্তকারীরা।

গ্রেফতার হওয়া জরেজ ও শামীমাকে ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খুনের উদ্দেশ্য, হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত কি না এবং মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার কারণ—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে ডিবি জানিয়েছে।
জেটিভি নিউজ বাংলা | প্রিন্ট ভার্সন

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

ড্রামভর্তি ২৬ টুকরো মরদেহ: পরকীয়ার জেরে হত্যা, প্রধান আসামি জরেজ ও বান্ধবী শামীমা গ্রেফতার

আপডেট সময় ১১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
ড্রামভর্তি ২৬ টুকরো মরদেহ: পরকীয়ার জেরে হত্যা, প্রধান আসামি জরেজ ও বান্ধবী শামীমা গ্রেফতার স্টাফ রিপোর্টার | জেটিভি নিউজ বাংলা রাজধানীর হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া ড্রামভর্তি ২৬ টুকরো মরদেহের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি জরেজ মিয়া ও তার বান্ধবী শামীমাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ডিবির একটি বিশেষ টিম তাদের আটক করে। ডিবির দক্ষিণ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা জরেজ মিয়া ও তার বান্ধবী শামীমাকে বিভিন্ন আলামতসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। পরকীয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।”

মামলার বাদী নিহতের বোন

এর আগে শুক্রবারই শাহবাগ থানায় নিহত আশরাফুল হকের বোন আনজিনা বেগম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আশরাফুলের বাল্যবন্ধু জরেজ মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর বলেন, “নিহতের বোন মামলার বাদী। প্রধান আসামি আশরাফুলের বাল্যবন্ধু জরেজ মিয়া। অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।” গত ১৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় জাতীয় ঈদগাহ সংলগ্ন পানির পাম্পের পাশে ফুটপাতে নীল রঙের দুটি প্লাস্টিক ড্রামে খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ পাওয়া যায়। প্রথমে পরিচয় না মিললেও পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণে মরদেহটি আশরাফুল হকের বলে শনাক্ত হয়। রংপুরের বদরগঞ্জের শ্যামপুর গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আশরাফুল পেশায় কাঁচামালের আমদানিকারক ছিলেন। ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ ও আলু আমদানি করতেন তিনি।

শেষবার পরিবারের সঙ্গে কথা বুধবার রাতে

ডিএমপির রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম জানান, “মঙ্গলবার ঢাকায় আসেন আশরাফুল। বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়। এরপর আর যোগাযোগ ছিল না।”

বন্ধু জরেজকে নিয়ে ঢাকায় আসেন আশরাফুল

নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ বলেন, “১১ নভেম্বর রাতে পাশের গ্রামের বন্ধু জরেজকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় যায় আশরাফুল। মালয়েশিয়া প্রবাসী জরেজ দেশে ফিরে জাপানে যাওয়ার জন্য ২০ লাখ টাকা ধার চায়। ছেলের ব্যবসায়িক লেনদেন থেকে টাকা আনতে তাকে সঙ্গে নিয়েছিল। তারপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলে মরল, কিন্তু জরেজ তো বেঁচে আছে। তাকে ধরলেই সব বের হবে।”

নিহতের স্ত্রীর সন্দেহ

নিহত আশরাফুলের স্ত্রী লাকি বেগম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি জরেজের সঙ্গে কথা বললে জরেজ জানান যে আশরাফুলের মোবাইল তার কাছেই আছে। তবে স্বামীর অবস্থান জানাতে রাজি হননি তিনি। এর পরপরই সন্ধ্যায় খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধারের খবর পান লাকি বেগম। তিনি বলেন, “তখনই আমার মনে সন্দেহ হয়। পরে লাশ পাওয়ার খবর এলে সব পরিষ্কার হয়ে যায়।”

ডিবি বলছে, তদন্তে মিলছে পরকীয়ার ইঙ্গিত

ডিবি সূত্র জানিয়েছে, জরেজ ও তার বান্ধবী শামীমার সঙ্গে নিহত আশরাফুলের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনায় এসেছে। পরকীয়াজনিত দ্বন্দ্ব থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত তদন্তকারীরা।

গ্রেফতার হওয়া জরেজ ও শামীমাকে ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খুনের উদ্দেশ্য, হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত কি না এবং মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার কারণ—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে ডিবি জানিয়েছে।
জেটিভি নিউজ বাংলা | প্রিন্ট ভার্সন