ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ রাজধানীতে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর হামের পর এবার ডেঙ্গুর প্রকোপে বিপর্যস্ত ময়মনসিংহ, হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন আফতাবনগর প্রকল্পের ভেতরে ২১ কোটি টাকার সরকারি খাস জমি উদ্ধার দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ও উসকানি ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপরাধ অনেক নিয়ন্ত্রণে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাড়িবহর ছাড়াই সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ভর্তুকির সার সাগরপথে নিয়মিত মিয়ানমারে পাচার, দুই মাসে জব্দ ৩ হাজার ৩১০ বস্তা

গুরুদাসপুরে প্রকৃতির বিস্ময়—১৩ মাথাওয়ালা নারকেল গাছ!

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৬৫ বার পড়া হয়েছে

 
জে টিভি নিউজ বাংলা | নাটোর প্রতিনিধি 📅 প্রকাশ: শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের কাছিকাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আছে প্রকৃতির এক আশ্চর্য সৃষ্টি—১৩ মাথাওয়ালা একটি নারকেল গাছ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন একঝাঁক নারকেল গাছ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। তবে কাছে গেলেই বোঝা যায়—এটি আসলে একক কাণ্ড থেকে জন্ম নেওয়া ১৩টি মাথাওয়ালা একটিমাত্র গাছ। স্থানীয়দের কাছে এটি পরিচিতি পেয়েছে ‘কুদরতি নিদর্শন’ হিসেবে। বিরল এই গাছটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশের এলাকার মানুষ। কেউ গাছটির মাথা গুনছেন, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বিস্ময়ের গল্প। শনিবার (১১ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাছটির একসময় মাথা ছিল ১৪টি। বর্তমানে ১৩টি মাথা সবুজ ও সতেজ রয়েছে। প্রতিটি মাথায় ঘন পাতার বিন্যাস এমনভাবে ছড়ানো যে দেখে মনে হয়, প্রকৃতি নিজেই যেন এক শিল্পকর্ম এঁকেছে। কাছিকাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক নজরুল ইসলাম জানান, “গাছটির বয়স প্রায় ২৫ থেকে ২৬ বছর। লাগানোর পর কয়েক বছরের মধ্যেই কাণ্ডে একাধিক মাথা গজাতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে মাথার সংখ্যা বেড়েছে, আবার কিছু শুকিয়েও গেছে। বর্তমানে ১৩টি টিকে আছে। কলেজের পক্ষ থেকে নিয়মিত সার ও ওষুধ দিয়ে পরিচর্যা করা হয়।” তিনি আরও বলেন, “আমার জীবনে এমন গাছ আর দেখিনি। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে এই গাছ দেখতে, বিস্মিত হয়। এটি নিঃসন্দেহে প্রকৃতির এক অনন্য রূপ।” স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল আহমেদ বলেন, “একটি নারকেল গাছের এতগুলো মাথা—এমন দৃশ্য আমি আর কোথাও দেখিনি। এটি আল্লাহর কুদরতি নিদর্শন। এখন গাছের ১৪টি মাথা, যার ১৩টি সতেজ। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে এটি দেখতে, আমাদের জন্য এটি গর্বের বিষয়।” গাছটি ঘিরে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মাঝেও রয়েছে উচ্ছ্বাস। কাছিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম জানায়, “নারিকেল গাছের এত মাথা দেখতে অনেক মানুষ আমাদের স্কুলে আসে। সবাই খুশি হয়, আমরাও খুব ভালো লাগি।” গাছটি দেখতে আসা পাবনার চাটমোহর উপজেলার বাহাদুরপুরের মকবুল হোসেন (৬০) বলেন, “বাজারে এসে শুনলাম এখানে এক বহুমাথার নারকেল গাছ আছে। পরে এসে দেখি সত্যিই ১৪টি মাথা। এটা আল্লাহর কুদরতি নিদর্শন ছাড়া কিছুই না।” এলাকাবাসীর দাবি, গাছটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি স্থানীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। এতে এলাকার পরিচিতি যেমন বাড়বে, তেমনি দর্শনার্থীরাও কাছ থেকে প্রকৃতির এই বৈচিত্র্য উপভোগের সুযোগ পাবেন। গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে. এম. রাফিউল ইসলাম বলেন, “একটি নারকেল গাছের ১৩-১৪টি মাথা হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এটি জেনেটিক কারণে হয়েছে। গাছটির কারণে এই এলাকা এখন দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। সঠিক পরিচর্যা ও সার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গাছটি যেন দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং আরও দর্শনীয় রূপ নেয়—সে বিষয়ে কৃষি অফিস সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।”
 
 

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

গুরুদাসপুরে প্রকৃতির বিস্ময়—১৩ মাথাওয়ালা নারকেল গাছ!

আপডেট সময় ০২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
 
জে টিভি নিউজ বাংলা | নাটোর প্রতিনিধি 📅 প্রকাশ: শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের কাছিকাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আছে প্রকৃতির এক আশ্চর্য সৃষ্টি—১৩ মাথাওয়ালা একটি নারকেল গাছ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন একঝাঁক নারকেল গাছ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। তবে কাছে গেলেই বোঝা যায়—এটি আসলে একক কাণ্ড থেকে জন্ম নেওয়া ১৩টি মাথাওয়ালা একটিমাত্র গাছ। স্থানীয়দের কাছে এটি পরিচিতি পেয়েছে ‘কুদরতি নিদর্শন’ হিসেবে। বিরল এই গাছটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশের এলাকার মানুষ। কেউ গাছটির মাথা গুনছেন, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বিস্ময়ের গল্প। শনিবার (১১ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাছটির একসময় মাথা ছিল ১৪টি। বর্তমানে ১৩টি মাথা সবুজ ও সতেজ রয়েছে। প্রতিটি মাথায় ঘন পাতার বিন্যাস এমনভাবে ছড়ানো যে দেখে মনে হয়, প্রকৃতি নিজেই যেন এক শিল্পকর্ম এঁকেছে। কাছিকাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক নজরুল ইসলাম জানান, “গাছটির বয়স প্রায় ২৫ থেকে ২৬ বছর। লাগানোর পর কয়েক বছরের মধ্যেই কাণ্ডে একাধিক মাথা গজাতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে মাথার সংখ্যা বেড়েছে, আবার কিছু শুকিয়েও গেছে। বর্তমানে ১৩টি টিকে আছে। কলেজের পক্ষ থেকে নিয়মিত সার ও ওষুধ দিয়ে পরিচর্যা করা হয়।” তিনি আরও বলেন, “আমার জীবনে এমন গাছ আর দেখিনি। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে এই গাছ দেখতে, বিস্মিত হয়। এটি নিঃসন্দেহে প্রকৃতির এক অনন্য রূপ।” স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল আহমেদ বলেন, “একটি নারকেল গাছের এতগুলো মাথা—এমন দৃশ্য আমি আর কোথাও দেখিনি। এটি আল্লাহর কুদরতি নিদর্শন। এখন গাছের ১৪টি মাথা, যার ১৩টি সতেজ। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে এটি দেখতে, আমাদের জন্য এটি গর্বের বিষয়।” গাছটি ঘিরে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মাঝেও রয়েছে উচ্ছ্বাস। কাছিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম জানায়, “নারিকেল গাছের এত মাথা দেখতে অনেক মানুষ আমাদের স্কুলে আসে। সবাই খুশি হয়, আমরাও খুব ভালো লাগি।” গাছটি দেখতে আসা পাবনার চাটমোহর উপজেলার বাহাদুরপুরের মকবুল হোসেন (৬০) বলেন, “বাজারে এসে শুনলাম এখানে এক বহুমাথার নারকেল গাছ আছে। পরে এসে দেখি সত্যিই ১৪টি মাথা। এটা আল্লাহর কুদরতি নিদর্শন ছাড়া কিছুই না।” এলাকাবাসীর দাবি, গাছটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি স্থানীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। এতে এলাকার পরিচিতি যেমন বাড়বে, তেমনি দর্শনার্থীরাও কাছ থেকে প্রকৃতির এই বৈচিত্র্য উপভোগের সুযোগ পাবেন। গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে. এম. রাফিউল ইসলাম বলেন, “একটি নারকেল গাছের ১৩-১৪টি মাথা হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এটি জেনেটিক কারণে হয়েছে। গাছটির কারণে এই এলাকা এখন দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। সঠিক পরিচর্যা ও সার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গাছটি যেন দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং আরও দর্শনীয় রূপ নেয়—সে বিষয়ে কৃষি অফিস সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।”