ক্ষেতজুড়ে দোল খাচ্ছে সোনালি ধান, ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
-
Reporter Name
-
আপডেট সময়
০৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
-
১৮৯
বার পড়া হয়েছে
জে টি ভি নিউজ বাংলা – ডেস্ক
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন দুলছে সোনালি আমন ধান। বাতাসে ভেসে আসছে ধানের মৌ-মৌ ঘ্রাণ। নানা জাতের আগাম ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তি আর আনন্দের ঝিলিক। যেন কবির সেই চরণ— ‘ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা’।
গতকাল শুক্রবার উপজেলার সারোয়াতলি, আমুচিয়া, করলডেঙ্গা ও জৈষ্টপুরা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দিগন্তভরা সোনালি ধানের শীষে দুলছে মনমাতানো কৃষিভূমি। ক্ষেতের ধান কাটার অপেক্ষায় কৃষকেরা এখন দিন গুনছেন। ফসল ঘরে তোলার আনন্দঘন মুহূর্তের অপেক্ষায় কৃষক পরিবারে এখন সোনালি স্বপ্নের ছাপ।
🌾 ধানের জাত ও চাষাবাদ
এবার বোয়ালখালীতে চাষ হয়েছে ব্রি ধান-৪৭, ৪৯, ৯৩, ৯৬, সাদা পাই জাম ও কাটারীসহ বেশ কয়েকটি আগাম জাতের ধান। কৃষকরা জানান, এসব আগাম জাতের ধান বিক্রি করে তারা ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন।
কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৪০ শতক জমিতে আমন ধান চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ১৪–১৫ হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়ায় খরচ তুলেই লাভ হবে বলে তাদের আশা।
👨🌾 কৃষকের অভিজ্ঞতা
- মোর্শেদ আলম, সারোয়াতলি গ্রামের কৃষক, ৪ একর জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। তিনি বলেন,
“বোরো ধানে ভালো দামে বিক্রি পেয়েছি। তাই এবার আমনেও আশাবাদী।”
- মো. আবদুল জলিল, আমুচিয়া ইউনিয়ন, ২০ একর জমিতে ব্রি ধান ৯৩, ৯৬, ৪৯ ও ১০৩ চাষ করেছেন। তিনি জানান,
“আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ধান কাটার কাজ শুরু হবে।”
এস এম বাবর, মো. ইছাক, আহম্মদ, মো. জামাল উদ্দিনসহ অন্যান্য কৃষকরাও জানান, ফলন আশানুরূপ হয়েছে এবং তারা ভালো বাজারমূল্যের প্রত্যাশা করছেন।
🏢 কৃষি বিভাগের তথ্য
উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব মতে, চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নে প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান বলেন,
“ধানের রোগবালাই কম, ফসলের মাঠ ভালো আছে। আগামী ১০–১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণোদ্যমে ধান কাটার কাজ শুরু হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার ভালো ফলন হবে।”
তিনি আরও জানান, আগাম ধান কাটার পর অনেক কৃষক শীতকালীন সবজি ও ডাল জাতীয় ফসলের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন।
ট্যাগস