জেটিভি নিউজ বাংলা
সাভার (নিজস্ব প্রতিনিধি)
সাভারের বাজাররোড এলাকায় “আফজাল সন্দেশ” নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চলছে ভয়াবহ অসাস্থ্যকর পরিবেশে শিশু খাদ্য তৈরির কাজ। ক্যামেরায় ধরা পড়েছে— ময়লা, মাছি, দূর্গন্ধে ভরা অস্বাস্থ্যকর স্থানে খোলা অবস্থায় সন্দেশ তৈরি করা হচ্ছে। নেই কোনো স্যানিটারি ব্যবস্থা, নেই মান নিয়ন্ত্রণের ন্যূনতম ব্যবস্থা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব সন্দেশ তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ও নিম্নমানের উপকরণ, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তবুও প্রতিষ্ঠানটির কারিগর ও ম্যানেজার দাবি করেন— তাদের পণ্য “একশত ভাগ বিশুদ্ধ”
ম্যানেজার বলেন, “আপনি চান আমি এখনই খেয়ে দেখাই? আমাদের সন্দেশে কোনো ভেজাল নাই, সব বিশুদ্ধ।”
তবে বাস্তবে দেখা গেছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। সাংবাদিকদের হাতে আসা ফুটেজে দেখা যায়, একটি ভূয়া বিএসটিআই লোগো বসিয়ে সন্দেশগুলো মোড়কজাত করে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, “আফজাল সন্দেশ” নামের এই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩০ বছর ধরে ম্যানেজ করেই টিকে আছে। অনেক সাংবাদিক, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এখানে এলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এক দোকানদার জানান, “র্যাব, সাংবাদিক অনেকবার এসেছে। শেষে সবাই এক প্যাকেট সন্দেশ নিয়ে চলে গেছে।”
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর টিকে আছে এই ভেজাল শিশু খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।
ভেজাল ও রাসায়নিক মিশ্রিত এই খাবার শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে— এমন মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরাও।
একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, “রাসায়নিক মিশ্রিত খাবার শিশুদের শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
প্রশ্ন উঠেছে— প্রশাসন কি টাকার বিনিময়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে?
শিশু খাদ্যে ভেজাল মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন নিয়ে খেলা, আর এ বিষয়ে এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দ্রুত অভিযান পরিচালনা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে এসব ভেজাল খাদ্য উৎপাদন বন্ধ হয়ে শিশুরা নিরাপদ খাদ্যের অধিকার ফিরে পায়।

Reporter Name 




















