জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ৯ এপ্রিল ২০২৬ ইং সময়: ০৮:৩৩ মিনিট।দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
বাজারজুড়ে সরবরাহ সংকট ও দাম বৃদ্ধির অভিযোগে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু সিন্ডিকেট, অসাধু ব্যবসায়ী এবং আমদানিকারক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অনৈতিক মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে সিটি গ্রুপ, টি কে গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ ও আবুল খায়ের গ্রুপের বিরুদ্ধে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে চাপ তৈরির অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জাহাজ ভাড়ার খরচ বাড়ার কারণে বাজারে প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি ডলার সংকটও একটি বড় কারণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর মতো কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নিজেই বাজার পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। পাইকারি ও খুচরা বাজারে দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত দাম উপেক্ষা করে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। বেসরকারি ভোক্তা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) জানিয়েছে, বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম ১৭০ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার অস্থিরতার মূল কারণ সরবরাহ চেইনে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ। শীর্ষ কয়েকটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান আমদানি, পরিশোধন ও বিপণনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করায় ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে বোতলজাত তেলের ঘাটতি তৈরি হয়ে খোলা তেলের ওপর চাপ বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের অতিরিক্ত খরচ বহনে বাধ্য করছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের পর সরবরাহ কমে যাওয়া, ডিলার পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মজুতদারির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অনেক জায়গায় বোতলজাত তেল পাওয়া না যাওয়ায় খোলা তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে, যার সুযোগ নিয়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে। ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের দুর্বল তদারকির সুযোগে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে তিনি সরকারকে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে—সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করা, সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, মজুতদারির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং অস্বাস্থ্যকর পাত্রে তেল বিক্রি বন্ধ করা। এদিকে চট্টগ্রামে র্যাব অভিযান চালিয়ে ২২ হাজার ৬৪২ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে এবং দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে। বিভিন্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবৈধ মজুতদারির ঘটনাও ধরা পড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। তবে ভোক্তারা বলছেন, কার্যকর তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে বাজারে এই অস্থিরতা কাটানো কঠিন হবে।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

Reporter Name 



















