জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ২০ মার্চ ২০২৬ | সময়: রাত ৮:২১ মিনিট।ভিআইপি বন্দিদের বিষাদময় ঈদ
একসময় যাদের ঈদ কাটত গণভবন-এর রাজসিক পরিবেশে কিংবা অনুসারীদের ভিড়ে, আজ তারা বন্দি কারাগারের নির্জন কক্ষে। ক্ষমতার জৌলুস পেছনে ফেলে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী আমলারা এবার ঈদ উদযাপন করছেন বন্দিজীবনের বাস্তবতায়। কারা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ২০০ ভিআইপি আসামি দেশের বিভিন্ন কারাগারে রয়েছেন। এর মধ্যে ১৬১ জন ডিভিশন সুবিধা পাচ্ছেন, অর্থাৎ প্রথম শ্রেণির বন্দি হিসেবে কিছু উন্নত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে প্রায় ৬০ জন ভিআইপি বন্দিকে রাখা হয়েছে ঢাকার কেরানীগঞ্জ-এর বিশেষ কারাগারে। ঈদের দিন তারা একসঙ্গে নামাজ আদায় করবেন এবং সীমিত পরিসরে কুশল বিনিময়ের সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে ঈদের দিন ও পরবর্তী দুই দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং নির্ধারিত নম্বরে মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ রাখা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। সকালের নাশতায় পায়েশ বা সেমাই, দুপুরে পোলাও, গরু বা খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, মিষ্টি এবং অন্যান্য আইটেম থাকবে। রাতের খাবারে পরিবেশন করা হবে সাদা ভাত, আলুর দম ও মাছ ভাজা। তবে আয়োজন যতই সমৃদ্ধ হোক, বন্দিদের কাছে সবচেয়ে বড় কষ্ট হয়ে উঠেছে প্রিয়জনদের থেকে দূরে থাকা। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক অধিকাংশ সময় নীরবতায় কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু ও কামরুল ইসলাম বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছেন। সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক-এর জন্য এবারের ঈদ আরও বেদনাদায়ক, কারণ তার স্ত্রী বিদেশে থাকায় দেখা সম্ভব হচ্ছে না। পরিবার থেকে মা ও ভাই দেখা করতে এলেও জীবনসঙ্গিনীর অনুপস্থিতি তাকে নাড়া দিচ্ছে। ব্যবসায়ী ও সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান-এর ক্ষেত্রেও একই চিত্র—আইনি জটিলতার কারণে পরিবারের অনেক সদস্যের সঙ্গে দেখা হচ্ছে না। সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম-ও পারিবারিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। এছাড়া হাজী সেলিম ও তার ছেলে সোলাইমান সেলিম পৃথক কারাগারে থাকায় ঈদের দিনেও একে অপরের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন না। বিশেষ কারাগারে ঈদের নামাজে অংশ নেবেন আরও কয়েকজন হেভিওয়েট বন্দি—রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, ব্যারিস্টার সুমন এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। একসময়ের রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা আজ একই কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করবেন—যা যেন সময়ের নির্মম বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। সবশেষে বলা যায়, বাহ্যিক আয়োজন থাকলেও এই ঈদ ভিআইপি বন্দিদের জন্য আনন্দের নয়—বরং অনিশ্চয়তা, বিচ্ছিন্নতা আর মুক্তির অপেক্ষার এক নিঃশব্দ প্রহর।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

Reporter Name 





















