জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ০২ মার্চ ২০২৬ সময়: রাত ১:১৬ মিনিট।মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরান দাবি করেছে,
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র-এর যৌথ হামলার জবাবে তারা কঠোর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইহুদিবাদী ভূখণ্ড লক্ষ্যবস্তু করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনাতেও আঘাত হানা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র সাইপ্রাস-এর দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। তিনি জানান, সাইপ্রাসের অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, যেখানে ব্রিটিশ সেনারা মোতায়েন রয়েছেন। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দ্বীপটিতে অবস্থিত ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলোকে সরাসরি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল কিনা—সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হিলি বলেন, “আমরা মোটামুটি নিশ্চিত যে আমাদের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এগুলো ছোড়া হয়নি।” তিনি হামলার ধরনকে ‘বিবেচনাহীন’ বলে মন্তব্য করেন। এদিকে বাহরাইনে আক্রান্ত স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি প্রায় ৩০০ ব্রিটিশ সৈন্য অবস্থান করছেন বলেও জানান তিনি। ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানের একদিন পর এ নিয়ে ব্রিফিং দেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এর আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা করেন, রক্ষণাত্মক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। সাইপ্রাস: ভৌগোলিকভাবে পশ্চিম এশিয়া, রাজনৈতিকভাবে ইউরোপ ভৌগোলিকভাবে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত হলেও সাইপ্রাস নিজেকে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে ইউরোপের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। দেশটি ২০০৪ সালের ১ মে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয় এবং ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ইউরো মুদ্রা গ্রহণ করে। বর্তমানে এটি ইউরোজোনের সদস্য রাষ্ট্র। কেন সাইপ্রাসকে লক্ষ্যবস্তু? বিশ্লেষকদের মতে, সাইপ্রাসের সঙ্গে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। সেখানে ইসরাইলি বিনিয়োগ ও সম্পত্তির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। আঞ্চলিক সংঘাতের সময় ইসরাইল তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও উড়োজাহাজ বহর সাইপ্রাসে সরিয়ে রাখে বলেও বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। এ কারণে অতীতেও উত্তেজনার সময়ে সাইপ্রাসকে ঘিরে সামরিক হুমকি দেখা গেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান সংঘাতে কৌশলগত বার্তা দিতেই ইরান এ পদক্ষেপ নিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্বনেতারা সংযম ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানালেও, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস।

Reporter Name 





















