ঢাকা , শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে ‘ইলেকশন’ দাবিতে জোর, শেষ মেয়াদের পর শুরু তীব্র আলোচনা রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালে বিরোধীদের ওয়াকআউট, প্রশ্ন তুললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গৃহীত নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রক্রিয়া বহাল, লিভ টু আপিল খারিজ ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় প্রায় দুই ঘণ্টা ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা নেই BMDC তবুও তিনি ডাক্তার  তেহরানে নতুন বিমান হামলা: আবাসিক এলাকায় ধ্বংসস্তূপ, নিহত অন্তত ৬ নেতানিয়াহু নিহতের গুঞ্জন: ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, নিশ্চিত নয় আন্তর্জাতিক মহল নারায়ণগঞ্জে এএসআইকে কুপিয়ে পিস্তল ছিনতাই, তিনজন আটক—উদ্ধার অস্ত্র ও গুলি

বগুড়া-৬ আসন শূন্য: উপনির্বাচন ঘিরে জল্পনা, জিয়া পরিবারের নাম নিয়ে জোর আলোচনা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা তারিখ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সময়: ১২:৪০ পিএম। 

বগুড়া-৬ আসন শূন্য: উপনির্বাচন ঘিরে জল্পনা, জিয়া পরিবারের নাম নিয়ে জোর আলোচনা

বগুড়া-৬ (সদর) আসন শূন্য ঘোষণার পরপরই জেলায় উপনির্বাচনের আমেজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে দল কাকে প্রার্থী করবে—তা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় জিয়া পরিবারের একাধিক নাম দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থী বাছাই নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে। স্থানীয় একটি অংশের প্রত্যাশা, আসনটি জিয়া পরিবারের কাউকে দেওয়া হোক। আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, তাঁদের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো-এর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতাও মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, আলী আজগর তালুকদার হেনা এবং সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। ভোটারদের প্রত্যাশা: পরিচিত মুখ নয়, কার্যকর প্রতিনিধি বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় কথা হয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে। ব্যবসায়ী মোজাফফর হোসেন বলেন, দল এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে। তাই এমন একজন এমপি প্রয়োজন, যিনি বড় উন্নয়ন প্রকল্প আনতে সক্ষম হবেন। তাঁর মতে, বগুড়া দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল—এখন বাস্তব কাজের সময়। কলেজছাত্র রাকিব ইসলাম মনে করেন, বড় রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে কর্মক্ষমতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান তিনি। অটোরিকশাচালক জাহাঙ্গীর আলমের অভিজ্ঞতা, নির্বাচনের আগে নেতাদের দেখা মিললেও পরে তাঁদের পাওয়া যায় না। তিনি চান নিয়মিত এলাকায় উপস্থিত থেকে মানুষের সমস্যা শোনেন—এমন একজন প্রতিনিধি। নারী ভোটার জাহানারা বেগমের প্রত্যাশা, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর গফুরের মতে, সরকার গঠনের পর এটি হবে প্রথম উপনির্বাচন। ফলে প্রার্থী নির্বাচন ও নির্বাচনী কৌশল জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে আসন ছেড়ে দেওয়ায় যিনি প্রার্থী হবেন, তিনি কার্যত সরকারের আস্থাভাজন প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হবেন। জামায়াতের সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি আসন্ন উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। বগুড়া শহর আমির আবিদুর রহমান সোহেল জানিয়েছেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পর্যালোচনায় রয়েছে। আসনের রাজনৈতিক পটভূমি বগুড়া-৬ আসন দীর্ঘদিন বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারবার এখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বিজয়ী হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তবে তিনি শপথ না নেওয়ায় উপনির্বাচনে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ জয়ী হন। পরে আরেক উপনির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর প্রার্থী রাগেবুল আহসান বিজয়ী হন এবং ২০২৪ সালেও আসনটি ধরে রাখেন। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান এই আসন থেকে ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আবিদুর রহমান। সামনে বড় সমীকরণ দলীয় সূত্রের দাবি, জামায়াতের সম্ভাব্য ভোটের সমীকরণ বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী নির্ধারণে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জিয়া পরিবারের বাইরে কাউকে মনোনয়ন দিলে বিজয়ের পথ কঠিন হতে পারে বলেও মত রয়েছে একটি অংশের। সব মিলিয়ে বগুড়া-৬ উপনির্বাচন এখন শুধু একটি আসনের লড়াই নয়; এটি জাতীয় রাজনীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠতে পারে।   প্রস্তুতকারক: জেটিভি নিউজ বাংলা নিউজ ডেস্ক

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে ‘ইলেকশন’ দাবিতে জোর, শেষ মেয়াদের পর শুরু তীব্র আলোচনা

বগুড়া-৬ আসন শূন্য: উপনির্বাচন ঘিরে জল্পনা, জিয়া পরিবারের নাম নিয়ে জোর আলোচনা

আপডেট সময় ১২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
জেটিভি নিউজ বাংলা তারিখ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সময়: ১২:৪০ পিএম। 

বগুড়া-৬ আসন শূন্য: উপনির্বাচন ঘিরে জল্পনা, জিয়া পরিবারের নাম নিয়ে জোর আলোচনা

বগুড়া-৬ (সদর) আসন শূন্য ঘোষণার পরপরই জেলায় উপনির্বাচনের আমেজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে দল কাকে প্রার্থী করবে—তা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় জিয়া পরিবারের একাধিক নাম দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থী বাছাই নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে। স্থানীয় একটি অংশের প্রত্যাশা, আসনটি জিয়া পরিবারের কাউকে দেওয়া হোক। আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, তাঁদের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো-এর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতাও মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, আলী আজগর তালুকদার হেনা এবং সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। ভোটারদের প্রত্যাশা: পরিচিত মুখ নয়, কার্যকর প্রতিনিধি বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় কথা হয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে। ব্যবসায়ী মোজাফফর হোসেন বলেন, দল এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে। তাই এমন একজন এমপি প্রয়োজন, যিনি বড় উন্নয়ন প্রকল্প আনতে সক্ষম হবেন। তাঁর মতে, বগুড়া দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল—এখন বাস্তব কাজের সময়। কলেজছাত্র রাকিব ইসলাম মনে করেন, বড় রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে কর্মক্ষমতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান তিনি। অটোরিকশাচালক জাহাঙ্গীর আলমের অভিজ্ঞতা, নির্বাচনের আগে নেতাদের দেখা মিললেও পরে তাঁদের পাওয়া যায় না। তিনি চান নিয়মিত এলাকায় উপস্থিত থেকে মানুষের সমস্যা শোনেন—এমন একজন প্রতিনিধি। নারী ভোটার জাহানারা বেগমের প্রত্যাশা, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর গফুরের মতে, সরকার গঠনের পর এটি হবে প্রথম উপনির্বাচন। ফলে প্রার্থী নির্বাচন ও নির্বাচনী কৌশল জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে আসন ছেড়ে দেওয়ায় যিনি প্রার্থী হবেন, তিনি কার্যত সরকারের আস্থাভাজন প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হবেন। জামায়াতের সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি আসন্ন উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। বগুড়া শহর আমির আবিদুর রহমান সোহেল জানিয়েছেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পর্যালোচনায় রয়েছে। আসনের রাজনৈতিক পটভূমি বগুড়া-৬ আসন দীর্ঘদিন বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারবার এখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বিজয়ী হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তবে তিনি শপথ না নেওয়ায় উপনির্বাচনে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ জয়ী হন। পরে আরেক উপনির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর প্রার্থী রাগেবুল আহসান বিজয়ী হন এবং ২০২৪ সালেও আসনটি ধরে রাখেন। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান এই আসন থেকে ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আবিদুর রহমান। সামনে বড় সমীকরণ দলীয় সূত্রের দাবি, জামায়াতের সম্ভাব্য ভোটের সমীকরণ বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী নির্ধারণে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জিয়া পরিবারের বাইরে কাউকে মনোনয়ন দিলে বিজয়ের পথ কঠিন হতে পারে বলেও মত রয়েছে একটি অংশের। সব মিলিয়ে বগুড়া-৬ উপনির্বাচন এখন শুধু একটি আসনের লড়াই নয়; এটি জাতীয় রাজনীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠতে পারে।   প্রস্তুতকারক: জেটিভি নিউজ বাংলা নিউজ ডেস্ক