ডেস্ক রিপোর্ট | JTV NEWS BANGLA
২১ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ৩:৪০ পিএম। পুরুষের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক স্থিতিশীলতা ও যৌনস্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান নিয়ামক হলো টেস্টোস্টেরন হরমোন। ‘পুরুষ হরমোন’ নামে পরিচিত এই হরমোন শরীরের পেশি গঠন, কর্মক্ষমতা, মনমেজাজ ও প্রজনন স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমতে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধ ছাড়াও সঠিক জীবনযাপন ও প্রাকৃতিক কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে শরীরে টেস্টোস্টেরনের নিঃসরণ বাড়ানো সম্ভব। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মশৃঙ্খল জীবনধারা অনুসরণ করলে শরীর নিজ থেকেই এই হরমোনের উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়। খাদ্যাভ্যাসে আনতে হবে সচেতনতা টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সুষম খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত জরুরি। কিছু নির্দিষ্ট খাবার রয়েছে, যেগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে সহায়ক বলে প্রমাণিত। এর মধ্যে অন্যতম হলো আদা। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় আদা ব্যবহার করলে রক্তে টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ বাড়তে পারে এবং বয়সজনিত ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া ডালিম বা বেদানার রস টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ডালিম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণে সহায়ক। ঠান্ডা পরিবেশে থাকার উপকারিতা গবেষণায় দেখা গেছে, ঠান্ডা পরিবেশে থাকলে শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখতে বেশি মাত্রায় টেস্টোস্টেরন উৎপাদন করে। এ কারণে ঠান্ডা পানিতে নিয়মিত গোসল টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে সকালে ঠান্ডা পানিতে গোসলের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্রীড়াবিদদের মধ্যে ব্যায়ামের পর ঠান্ডা পানিতে গোসল বা বরফ পানিতে ডুবে থাকার প্রবণতার পেছনেও রয়েছে এই বৈজ্ঞানিক কারণ। ব্যায়ামে বাড়ে পুরুষ হরমোন নিয়মিত শরীরচর্চা টেস্টোস্টেরন বাড়ানোর অন্যতম কার্যকর উপায়। তবে সব ব্যায়ামের চেয়ে কিছু নির্দিষ্ট শক্তিবর্ধক ব্যায়াম বেশি উপকারী। স্কোয়াট, ডেডলিফট, বেঞ্চ প্রেস ও পুশ-আপের মতো ব্যায়াম শরীরে টেস্টোস্টেরনের নিঃসরণ বাড়াতে সহায়তা করে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভিটামিন ও খনিজের গুরুত্ব টেস্টোস্টেরন উৎপাদনে কিছু ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জিংক প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। ভিটামিন ডি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে কার্যকর। ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় পাতাযুক্ত সবজি ও বাদামে। আর বোরন পাওয়া যায় আপেল, অ্যাভোকাডো ও কিশমিশসহ বিভিন্ন ফলে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পর্যাপ্ত বোরন গ্রহণ করলে রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। প্লাস্টিক ব্যবহারে সতর্কতা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পাত্রে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদান টেস্টোস্টেরন নিঃসরণ হ্রাস করতে পারে। তাই খাবার সংরক্ষণ ও পানি পান করার ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাঁচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মত বিশেষজ্ঞদের মতে, টেস্টোস্টেরন বাড়াতে ওষুধ গ্রহণের আগে অবশ্যই জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা উচিত। তবে দীর্ঘদিন ধরে হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Reporter Name 






















