ঢাকা , বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে বসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর সম্ভাব্য আলোচনার নতুন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার থেকে টানা পতনে পোশাক রপ্তানি, কর্মসংস্থানে শঙ্কার মেঘ কূটনীতিককে পেছন থেকে জড়িয়ে! ঈদের খুনসুটি নাকি ‘অতিরিক্ত আবেগ’—ট্রলে সরব নেটদুনিয়া পরিবারের বাইরে, দায়িত্বেই ঈদ—রাজধানীর সড়কে ব্যস্ত ট্রাফিক পুলিশ ঈদের দিনেও রাজধানীতে সচল গণপরিবহন, যাত্রী কম হলেও চলছে বাস-সিএনজি ইসরায়েলে ড্রোন হামলা, নেতানিয়াহু টার্গেট ভিআইপি  বন্দিদের বিষাদময় ঈদ ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা

কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেল দেড় হাজার ঘর

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮৫ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা ডেস্ক


কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেল দেড় হাজার ঘর

 

হঠাৎ গৃহহীন হাজারো মানুষ; পুনর্বাসনের আশ্বাস দিল সরকার—তবে প্রশ্ন রয়ে গেল আগুনের উৎস নিয়ে

রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দেড় হাজারের বেশি ঘর। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে শুরু হওয়া আগুন পাঁচ ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট কঠোর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নেভার পর দেখা যায়—বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছাই আর ধ্বংসস্তূপ। রাত নামতেই খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন হাজারো বাসিন্দা, যাদের বেশিরভাগই নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ।

ক্ষতিগ্রস্তদের আর্তনাদ: “সব হারিয়ে এখন কোথায় যাব?”

সাত বছর ধরে কড়াইল বস্তিতে থাকা লাভলী বেগম আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের পাশে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সব শেষ হয়ে গেছে। কিস্তিতে কেনা জিনিস, সঞ্চয়ের টাকা, বাচ্চাদের কাপড়—কিছুই রইল না। এখন ওদের নিয়ে কোথায় ঘুমাব?” তার স্বামী মোহসিন আলী, পেশায় ভ্যানচালক, বলেন, “খবর পেয়ে দৌড়ে এলাম, কিন্তু তখন আর কিছুই করার ছিল না। ঘর-দরজা, টাকা-পয়সা সব শেষ। শীতে বাচ্চাদের নিয়ে কীভাবে থাকব বুঝতে পারছি না।” মাত্র দুই মাস আগে বস্তিতে উঠেছিলেন দিনমজুর শামসুল ইসলাম। আগুনে তিনিও হারিয়েছেন সব। “আগুন এত দ্রুত ছড়ায় যে কিছুই নিতে পারিনি। চারদিকে ধোঁয়া আর আগুন—কষ্ট করে প্রাণটাই শুধু বাঁচিয়েছি।” তিনি জানান, রাতটি কেটেছে মাঠের পাশে অস্থায়ী চৌকি বানিয়ে—বিশেষ করে শিশুদের জন্য পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত কঠিন।

খাবার ও পানির সংকট তীব্র

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই দেখা দেয় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও কিছু রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সীমিত পরিসরে খাবার-পানি সরবরাহ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, “এখানে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। যে সাহায্য আসছে, সেটা প্রচণ্ড অপ্রতুল। তারপরও আমরা যেটুকু পারছি, করছি।”

সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া

বিস্তীর্ণ এ অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ায় গভীর উদ্বেগ ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “কড়াইল বস্তির গৃহহীন পরিবারগুলোর দুঃখ আমাদের সবার বেদনা। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সব ধরনের সহায়তা দেবে।” তিনি আগুনের কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এক বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।

প্রতিবছরই আগুন—দুর্ঘটনা, নাকি ইচ্ছাকৃত?

কড়াইল বস্তিতে প্রায় প্রতি বছরই এমন অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফলে জনমনে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন—এগুলো কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করতে নেপথ্যে রয়েছে কোনো পরিকল্পনা? প্রশ্ন ওঠে, অভিযোগও ওঠে; কিন্তু সময়ের সঙ্গে এসব প্রশ্নের উত্তর মেলে না—আগুনের ছাইয়ের মতোই সব মিশে যায়।

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে বসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি।

কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেল দেড় হাজার ঘর

আপডেট সময় ১১:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

জেটিভি নিউজ বাংলা ডেস্ক


কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেল দেড় হাজার ঘর

 

হঠাৎ গৃহহীন হাজারো মানুষ; পুনর্বাসনের আশ্বাস দিল সরকার—তবে প্রশ্ন রয়ে গেল আগুনের উৎস নিয়ে

রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দেড় হাজারের বেশি ঘর। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে শুরু হওয়া আগুন পাঁচ ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট কঠোর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নেভার পর দেখা যায়—বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছাই আর ধ্বংসস্তূপ। রাত নামতেই খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন হাজারো বাসিন্দা, যাদের বেশিরভাগই নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ।

ক্ষতিগ্রস্তদের আর্তনাদ: “সব হারিয়ে এখন কোথায় যাব?”

সাত বছর ধরে কড়াইল বস্তিতে থাকা লাভলী বেগম আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের পাশে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সব শেষ হয়ে গেছে। কিস্তিতে কেনা জিনিস, সঞ্চয়ের টাকা, বাচ্চাদের কাপড়—কিছুই রইল না। এখন ওদের নিয়ে কোথায় ঘুমাব?” তার স্বামী মোহসিন আলী, পেশায় ভ্যানচালক, বলেন, “খবর পেয়ে দৌড়ে এলাম, কিন্তু তখন আর কিছুই করার ছিল না। ঘর-দরজা, টাকা-পয়সা সব শেষ। শীতে বাচ্চাদের নিয়ে কীভাবে থাকব বুঝতে পারছি না।” মাত্র দুই মাস আগে বস্তিতে উঠেছিলেন দিনমজুর শামসুল ইসলাম। আগুনে তিনিও হারিয়েছেন সব। “আগুন এত দ্রুত ছড়ায় যে কিছুই নিতে পারিনি। চারদিকে ধোঁয়া আর আগুন—কষ্ট করে প্রাণটাই শুধু বাঁচিয়েছি।” তিনি জানান, রাতটি কেটেছে মাঠের পাশে অস্থায়ী চৌকি বানিয়ে—বিশেষ করে শিশুদের জন্য পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত কঠিন।

খাবার ও পানির সংকট তীব্র

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই দেখা দেয় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও কিছু রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সীমিত পরিসরে খাবার-পানি সরবরাহ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, “এখানে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। যে সাহায্য আসছে, সেটা প্রচণ্ড অপ্রতুল। তারপরও আমরা যেটুকু পারছি, করছি।”

সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া

বিস্তীর্ণ এ অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ায় গভীর উদ্বেগ ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “কড়াইল বস্তির গৃহহীন পরিবারগুলোর দুঃখ আমাদের সবার বেদনা। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সব ধরনের সহায়তা দেবে।” তিনি আগুনের কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এক বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।

প্রতিবছরই আগুন—দুর্ঘটনা, নাকি ইচ্ছাকৃত?

কড়াইল বস্তিতে প্রায় প্রতি বছরই এমন অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফলে জনমনে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন—এগুলো কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করতে নেপথ্যে রয়েছে কোনো পরিকল্পনা? প্রশ্ন ওঠে, অভিযোগও ওঠে; কিন্তু সময়ের সঙ্গে এসব প্রশ্নের উত্তর মেলে না—আগুনের ছাইয়ের মতোই সব মিশে যায়।