জেটিভি নিউজ বাংলা | ডেস্ক রিপোর্ট: ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের রায়ের দিন নির্ধারণ করা হবে আজ। এ উপলক্ষে আজ ভোর থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
🔶 কঠোর নিরাপত্তা বলয়
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ভোর থেকে ট্রাইব্যুনাল চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের। আশপাশে গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক নিরাপত্তা বলয়। তল্লাশি চালিয়ে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বিকেল থেকেই ট্রাইব্যুনালের সামনে বিজিবির সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কেউ যেন উসকানিমূলক কার্যকলাপ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।⚖️ রায়ের দিন নির্ধারণ করবেন ট্রাইব্যুনাল-১
এদিন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ের তারিখ ঘোষণা করবেন। এর আগে গত ২৩ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান মামলার সমাপনী বক্তব্য দেন।🧾 মামলার বিবরণ
এই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন — ১️⃣ উসকানি, ২️⃣ মারণাস্ত্র ব্যবহার, ৩️⃣ আবু সাঈদ হত্যা, ৪️⃣ চানখারপুলে হত্যা, ৫️⃣ আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মোট আয়তন ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠা। এর মধ্যে—- তথ্যসূত্র: ২,০১৮ পৃষ্ঠা
- জব্দতালিকা ও প্রমাণাদি: ৪,০০৫ পৃষ্ঠা
- শহীদদের তালিকা: ২,৭২৪ পৃষ্ঠা
সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এ মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ দণ্ডের দাবি জানালেও মামুনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। তার আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ মামুনের খালাসের আবেদন জানিয়েছেন।
🚨 আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি
রায়ের দিন ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ফলে আগুন, ককটেল ও নাশকতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তারা কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি অনুভব করছেন না।রায়ের আগের দিন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সেনা সদর দফতরে সেনা মোতায়েনের আবেদন করে। নিরাপত্তা বাহিনী ও ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে— রায়ের দিন নির্বিঘ্ন আদালত কার্যক্রম নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য।
📍সংবাদ সংকলন: জেটিভি নিউজ বাংলা ডেস্ক 📅 প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

Reporter Name 






















