মাত্র ৬৫-৭০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের এক সহকারী সচিবের ব্যাংক হিসাবে যদি ১৭ কোটি টাকার লেনদেন ধরা পড়ে, তবে সেটি যে সাধারণ নয়— তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. সেলিম শিকদারের তিনটি ব্যাংক হিসাবে এমন বিপুল আর্থিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অথচ আয়কর বিবরণীতে তার বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা। ফলে প্রশ্ন জাগছে— এই টাকার উৎস কোথায়? দুদক সূত্রে জানা যায়, অগ্রণী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংক— এই তিন ব্যাংক হিসাবে সেলিম শিকদার ও তার পরিবারের নামে ১৬ কোটি ৯২ লাখ টাকার বেশি টাকা জমা হয়েছে। এর সবটিই বিভিন্ন সময়ে উত্তোলন করা হয়েছে।
- অগ্রণী ব্যাংক (জাতীয় প্রেস ক্লাব শাখা): জমা হয়েছে ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা
- ন্যাশনাল ব্যাংক (রোকেয়া সরণি শাখা): লেনদেন ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা
- সাউথইস্ট ব্যাংক: পাওয়া গেছে ২ কোটি ২৮ লাখ টাকার লেনদেন
আয়কর বিবরণী ঘেঁটে দেখা গেছে— ২০০৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সেলিম শিকদার টাঙ্গাইলের নিজ এলাকা বাসাইলে ২৭৮ শতাংশ জমি কিনেছেন। পাশাপাশি রাজধানীর মিরপুর এলাকার সেনপাড়া ও আশপাশে ১১টির বেশি ফ্ল্যাট, একাধিক প্লট ও ১০ তলা ভবনে অংশীদারিত্ব রয়েছে। বাজারমূল্যে এসব স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকার বেশি বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা। কাগজে-কলমে তার সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে আড়াই কোটি টাকার মতো। কিন্তু বাস্তবে সেই সম্পদ ২০ গুণ বেশি— এমন তথ্য মিলেছে দুদকের অনুসন্ধানে। দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন,
“একজন সহকারী সচিবের ব্যাংক হিসাবেতে এমন অস্বাভাবিক লেনদেন স্বাভাবিক নয়। অনুসন্ধান চলছে, তদন্তেই প্রকৃত উৎস বেরিয়ে আসবে। পরবর্তীতে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
■ অভিযুক্ত সেলিম শিকদারের ব্যাখ্যা:
গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে সহকারী সচিব সেলিম শিকদার দাবি করেন—“সেনপাড়া এলাকায় আমরা কয়েকজন মিলে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করেছি। আমি ক্যাশিয়ার হিসেবে অংশীদারদের টাকা আমার ব্যাংক হিসাবে রেখেছিলাম। এটি আমার ব্যক্তিগত টাকা নয়।”সম্পদের জবাবদিহি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,
“আমি জমি ও প্লট কেনাবেচার মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করেছি। কোনো সম্পদ অবৈধ নয়। দুদকে সম্পদের হিসাব দাখিল করেছি।”
সেলিম শিকদার ১৯৯২ সালে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। ২০১৯ সালে সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নিরীক্ষা ও আইন শাখায় কর্মরত। বেতন স্কেল অনুযায়ী তার মাসিক আয় সর্বোচ্চ ৭০ হাজার টাকার মধ্যে। স্ত্রী শাহনাজ আক্তার অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক।
- সরকারি চাকরিজীবী হয়েও শতকোটি টাকার সম্পদ
- ব্যাংকে ১৭ কোটি টাকার জমা ও উত্তোলন
- আয়কর বিবরণীতে আয় দেখানো হয় মাত্র ৭-১০ লাখ টাকা বছরে
- দুদকের কাছে সম্পদ বিবরণীতে অসঙ্গতি
- ঘুষ, কমিশন বা অবৈধ উপার্জনের সম্ভাবনা— সন্দেহসূত্রে উত্থাপিত।

Reporter Name 






















