🔴 ঢাকায় ঝটিকা মিছিল: আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৩ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার — ডিএমপি
নিজস্ব প্রতিবেদক | জেটিভি নিউজ বাংলা | ঢাকা, শুক্রবার (৩১ অক্টোবর)
ঢাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রায়ই ঝটিকা মিছিল করছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এসব মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।
চলতি বছরে এ ধরনের তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে
প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার
মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
ডিএমপি কর্মকর্তার ভাষায়,
“চলতি বছরের আজকের দিন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা সরাসরি মিছিলে অংশ নিয়েছে, কেবল তাদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
তিনি জানান, ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকেই এসে এসব ঝটিকা মিছিলে অংশ নিচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকে আর্থিক প্রণোদনা পাচ্ছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন তারা।
“আমরা যাদের গ্রেপ্তার করেছি, তাদের মধ্যে অনেকে ঢাকার বাইরে থেকে এসে মিছিলে অংশ নিয়েছে। প্রতিটি মিছিলে অংশগ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়া হচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ঢাকায় অবস্থান জানান দেওয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি–ভিডিও ছড়িয়ে নিজেদের সক্রিয়তা প্রদর্শন।”
একই দিনে ঢাকায় একাধিক ঝটিকা মিছিলের চেষ্টার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি তালেবুর রহমান বলেন,
“এটাকে গণগ্রেপ্তার বলা যাবে না। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করছি। যাচাই-বাছাইয়ের পর সন্তুষ্ট হলেই মামলায় চালান দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান,
“অনেকে ককটেলসহ ধরা পড়েছে। এসব ককটেল খুবই বিপজ্জনকভাবে তৈরি করা। তাদের উদ্দেশ্য জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।”
ডিসি তালেব বলেন,
“আমরা আগে একদিনে ২৪৪ জন, আরেকদিন ১৩১ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। মিছিলগুলো থেকে ককটেল বিস্ফোরণ করে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়। আমরা সতর্ক আছি যাতে তারা কোনো অপতৎপরতা চালাতে না পারে।”
আর্থিক প্রণোদনার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,
“ঢাকার বাইরে থেকে আসা-যাওয়ার খরচ, থাকা-খাওয়ার বাইরে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেওয়া হচ্ছে। আমরা জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পেয়েছি এবং যারা অর্থায়ন করছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।”
সবশেষে তিনি বলেন,
“বেশিরভাগ গ্রেপ্তারকৃতই ঢাকার বাইরের ইউনিয়ন, থানা বা উপজেলা পর্যায়ের নেতা। এতে বোঝা যায়, তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঢাকায় এসেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে। নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও আতঙ্কের কিছু নেই। যে কোনো অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার সক্ষমতা ডিএমপির আছে।”