ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ রাজধানীতে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর হামের পর এবার ডেঙ্গুর প্রকোপে বিপর্যস্ত ময়মনসিংহ, হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন আফতাবনগর প্রকল্পের ভেতরে ২১ কোটি টাকার সরকারি খাস জমি উদ্ধার দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ও উসকানি ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপরাধ অনেক নিয়ন্ত্রণে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাড়িবহর ছাড়াই সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ভর্তুকির সার সাগরপথে নিয়মিত মিয়ানমারে পাচার, দুই মাসে জব্দ ৩ হাজার ৩১০ বস্তা

বেনজীর আহমেদকে ফেরত পাঠানোর আগে আরও তথ্য-নথি চাইল দুবাই, আইনি যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

বেনজীর আহমেদকে ফেরত পাঠানোর আগে আরও তথ্য-নথি চাইল দুবাই, আইনি যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া

তারিখ: ২২ জুলাই ২০২৬ ইং,সময়: রাত ০৯:৪১ মিনিট। পলাতক সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আগে মামলার আইনি ভিত্তি, অভিযোগের প্রকৃতি, আদালতের আদেশ এবং প্রয়োজনীয় নথির যথার্থতা নিয়ে আরও স্পষ্টতা চেয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ। তবে ঠিক কোন কোন বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বা আনুষ্ঠানিকভাবে কী শর্ত দেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুবাই পুলিশের চিঠিতে চাওয়া ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুবাই কর্তৃপক্ষের নতুন চিঠি প্রত্যর্পণ আবেদন বাতিলের সিদ্ধান্ত নয়। বরং বাংলাদেশ যে অভিযোগ ও আইনি নথির ভিত্তিতে বেনজীরকে ফেরত চাইছে, সেগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনে প্রত্যর্পণযোগ্য কি না, তা যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। নীতিগতভাবে দুবাই কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও হস্তান্তরের আগে আইনি ও প্রক্রিয়াগত কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত হতে চাইছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার ও দুদকের কাছে আরও তথ্য চায় দুবাই পুলিশ। এরপর সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠান। পরে মামলাসহ আরও কিছু বিষয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা চেয়ে নতুন করে সরকারকে একটি চিঠি পাঠায় দুবাই পুলিশ। চিঠিটি দুদকেও পৌঁছেছে এবং বর্তমানে তার জবাব প্রস্তুতের কাজ চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে দুবাই পুলিশের চিঠিতে ঠিক কী জানতে চাওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি দুদক। ফলে ‘শর্ত’ হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তবে প্রত্যর্পণের প্রচলিত আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে দুবাই কর্তৃপক্ষ মূলত পাঁচটি বিষয়ে স্পষ্টতা চাইতে পারে বলে মনে করছেন দুদকের কর্মকর্তারা। দুদক সূত্র জানায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কোন মামলার ভিত্তিতে তাকে ফেরত চাওয়া হচ্ছে এবং সেই মামলার বর্তমান আইনি অবস্থা কী— তা পরিষ্কার করতে হতে পারে। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন, পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কোন মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, কোনটিতে বিচার শুরু হয়েছে, কোথায় তদন্ত চলছে এবং কোন আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন— এসব তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। এ ছাড়া বাংলাদেশে যে অভিযোগে বেনজীরকে বিচার করা হবে, তা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়ে থাকতে পারে। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় ‘দ্বৈত অপরাধনীতি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অর্থাৎ, যে অপরাধের জন্য একজনকে ফেরত চাওয়া হচ্ছে, তা আবেদনকারী ও প্রত্যর্পণকারী— উভয় দেশেই অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত হতে হয়। অবৈধ সম্পদ, অর্থপাচার কিংবা জালিয়াতির অভিযোগ আমিরাতের আইনি সংজ্ঞার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, বাংলাদেশকে তা নথিপত্রে উপস্থাপন করতে হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, অভিযুক্তের পরিচয়, নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট এবং অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যের নির্ভুলতা নিয়েও স্পষ্টতা প্রয়োজন। বেনজীরের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগ থাকায় তার ব্যবহৃত পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ এবং ভ্রমণ নথিতে কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে দুবাই কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত যাচাই চাইতেই পারে। কারণ প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে সামান্য দ্বন্দ্বও পুরো প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে পারে। আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার এজাহার, অভিযোগের বিবরণ, শাস্তির বিধান এবং সংশ্লিষ্ট নথির সত্যায়ন ও অনুবাদ নিয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো প্রত্যর্পণ নথি আরবি ভাষায় অনূদিত, যথাযথভাবে সত্যায়িত এবং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো প্রয়োজন। নথির কোনো অংশ অসম্পূর্ণ থাকলে, অনুবাদে অস্পষ্টতা দেখা দিলে কিংবা আদালতের আদেশের সঙ্গে মামলার তথ্যের অসামঞ্জস্য থাকলে সংশোধিত কাগজপত্র চাইতে পারে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া দেশে ফেরানোর পর বেনজীর আহমেদের বিচার কোন কোন মামলায় সীমাবদ্ধ থাকবে, সেটিও দুবাই কর্তৃপক্ষের আগ্রহের বিষয় হতে পারে। প্রত্যর্পণ আইনের ‘রুল অব স্পেশালিটি’ বা বিশেষত্বের নীতি অনুযায়ী, যে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে ফেরত দেওয়া হয়, সাধারণত সেই অভিযোগেই বিচার পরিচালিত হয়। প্রত্যর্পণ আবেদনে অন্তর্ভুক্ত নয়— এমন পুরোনো মামলায় ব্যবস্থা নিতে হলে প্রত্যর্পণকারী রাষ্ট্রের নতুন সম্মতি প্রয়োজন হতে পারে। তাই বাংলাদেশ মূল আবেদনে কোন কোন মামলা ও অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করেছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, মানিলন্ডারিং মামলার ভিত্তিতেই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরত আনতে চাওয়া হচ্ছে এবং সেই বিষয়েই মূলত ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ। দুদক সূত্র আরও জানায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হয় ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল। সেই নোটিশের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতারের পর গত ১২ জুন বাংলাদেশকে বিষয়টি জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ। এরপর দুদক দ্রুত মামলার নথি, আদালতের পরোয়ানা ও অভিযোগের বিবরণ সংগ্রহ করে। গ্রেফতারের খবর পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে ইংরেজি ও আরবি ভাষায় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব প্রস্তুত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তা আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। দুই দেশের মধ্যে কার্যকর কোনো দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতাসংক্রান্ত আইনের আওতায় আবেদনটি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই ব্যবস্থায় প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিদেশি রাষ্ট্রের আবেদন গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তবে আবেদন যাচাইয়ের সময় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্য, ব্যাখ্যা ও নথি চাইতে পারে। উল্লেখ্য, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ বেনজীর আহমেদকে শনাক্ত ও আটকের পথ তৈরি করলেও এটি নিজে কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা নয়। তাকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত তার নিজস্ব আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নেবে। আবেদন প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য হলে বিষয়টি পাবলিক প্রসিকিউশন ও আদালতে যেতে পারে। সেখানে বেনজীর আহমেদ তার আইনজীবীর মাধ্যমে প্রত্যর্পণের বিরোধিতা এবং আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন। বেনজীর আহমেদের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুবাই কর্তৃপক্ষের চাওয়া ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথি খুব শিগগিরই পাঠানো হবে। দুদক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দুবাই কর্তৃপক্ষের এই চিঠি বেনজীর আহমেদকে ফেরানোর পথ বন্ধ হওয়ার ইঙ্গিত নয়। বরং বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ আবেদন আইনি পরীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে— সেটিই এর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। এখন অভিযোগের আইনি ভিত্তি, আদালতের আদেশ, পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য এবং নথির সত্যায়ন কতটা পূর্ণাঙ্গ ও পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা যায়, তার ওপরই পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে। জবাব সন্তোষজনক হলে প্রক্রিয়া বিচারিক ও নির্বাহী পরবর্তী ধাপে এগোবে। আর কোনো ত্রুটি থাকলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।  

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

বেনজীর আহমেদকে ফেরত পাঠানোর আগে আরও তথ্য-নথি চাইল দুবাই, আইনি যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া

আপডেট সময় ০৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

বেনজীর আহমেদকে ফেরত পাঠানোর আগে আরও তথ্য-নথি চাইল দুবাই, আইনি যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া

তারিখ: ২২ জুলাই ২০২৬ ইং,সময়: রাত ০৯:৪১ মিনিট। পলাতক সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আগে মামলার আইনি ভিত্তি, অভিযোগের প্রকৃতি, আদালতের আদেশ এবং প্রয়োজনীয় নথির যথার্থতা নিয়ে আরও স্পষ্টতা চেয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ। তবে ঠিক কোন কোন বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বা আনুষ্ঠানিকভাবে কী শর্ত দেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুবাই পুলিশের চিঠিতে চাওয়া ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুবাই কর্তৃপক্ষের নতুন চিঠি প্রত্যর্পণ আবেদন বাতিলের সিদ্ধান্ত নয়। বরং বাংলাদেশ যে অভিযোগ ও আইনি নথির ভিত্তিতে বেনজীরকে ফেরত চাইছে, সেগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনে প্রত্যর্পণযোগ্য কি না, তা যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। নীতিগতভাবে দুবাই কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও হস্তান্তরের আগে আইনি ও প্রক্রিয়াগত কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত হতে চাইছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার ও দুদকের কাছে আরও তথ্য চায় দুবাই পুলিশ। এরপর সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠান। পরে মামলাসহ আরও কিছু বিষয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা চেয়ে নতুন করে সরকারকে একটি চিঠি পাঠায় দুবাই পুলিশ। চিঠিটি দুদকেও পৌঁছেছে এবং বর্তমানে তার জবাব প্রস্তুতের কাজ চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে দুবাই পুলিশের চিঠিতে ঠিক কী জানতে চাওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি দুদক। ফলে ‘শর্ত’ হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তবে প্রত্যর্পণের প্রচলিত আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে দুবাই কর্তৃপক্ষ মূলত পাঁচটি বিষয়ে স্পষ্টতা চাইতে পারে বলে মনে করছেন দুদকের কর্মকর্তারা। দুদক সূত্র জানায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কোন মামলার ভিত্তিতে তাকে ফেরত চাওয়া হচ্ছে এবং সেই মামলার বর্তমান আইনি অবস্থা কী— তা পরিষ্কার করতে হতে পারে। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন, পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কোন মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, কোনটিতে বিচার শুরু হয়েছে, কোথায় তদন্ত চলছে এবং কোন আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন— এসব তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। এ ছাড়া বাংলাদেশে যে অভিযোগে বেনজীরকে বিচার করা হবে, তা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়ে থাকতে পারে। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় ‘দ্বৈত অপরাধনীতি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অর্থাৎ, যে অপরাধের জন্য একজনকে ফেরত চাওয়া হচ্ছে, তা আবেদনকারী ও প্রত্যর্পণকারী— উভয় দেশেই অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত হতে হয়। অবৈধ সম্পদ, অর্থপাচার কিংবা জালিয়াতির অভিযোগ আমিরাতের আইনি সংজ্ঞার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, বাংলাদেশকে তা নথিপত্রে উপস্থাপন করতে হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, অভিযুক্তের পরিচয়, নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট এবং অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যের নির্ভুলতা নিয়েও স্পষ্টতা প্রয়োজন। বেনজীরের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগ থাকায় তার ব্যবহৃত পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ এবং ভ্রমণ নথিতে কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে দুবাই কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত যাচাই চাইতেই পারে। কারণ প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে সামান্য দ্বন্দ্বও পুরো প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে পারে। আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার এজাহার, অভিযোগের বিবরণ, শাস্তির বিধান এবং সংশ্লিষ্ট নথির সত্যায়ন ও অনুবাদ নিয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো প্রত্যর্পণ নথি আরবি ভাষায় অনূদিত, যথাযথভাবে সত্যায়িত এবং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো প্রয়োজন। নথির কোনো অংশ অসম্পূর্ণ থাকলে, অনুবাদে অস্পষ্টতা দেখা দিলে কিংবা আদালতের আদেশের সঙ্গে মামলার তথ্যের অসামঞ্জস্য থাকলে সংশোধিত কাগজপত্র চাইতে পারে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া দেশে ফেরানোর পর বেনজীর আহমেদের বিচার কোন কোন মামলায় সীমাবদ্ধ থাকবে, সেটিও দুবাই কর্তৃপক্ষের আগ্রহের বিষয় হতে পারে। প্রত্যর্পণ আইনের ‘রুল অব স্পেশালিটি’ বা বিশেষত্বের নীতি অনুযায়ী, যে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে ফেরত দেওয়া হয়, সাধারণত সেই অভিযোগেই বিচার পরিচালিত হয়। প্রত্যর্পণ আবেদনে অন্তর্ভুক্ত নয়— এমন পুরোনো মামলায় ব্যবস্থা নিতে হলে প্রত্যর্পণকারী রাষ্ট্রের নতুন সম্মতি প্রয়োজন হতে পারে। তাই বাংলাদেশ মূল আবেদনে কোন কোন মামলা ও অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করেছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, মানিলন্ডারিং মামলার ভিত্তিতেই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরত আনতে চাওয়া হচ্ছে এবং সেই বিষয়েই মূলত ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ। দুদক সূত্র আরও জানায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হয় ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল। সেই নোটিশের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতারের পর গত ১২ জুন বাংলাদেশকে বিষয়টি জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ। এরপর দুদক দ্রুত মামলার নথি, আদালতের পরোয়ানা ও অভিযোগের বিবরণ সংগ্রহ করে। গ্রেফতারের খবর পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে ইংরেজি ও আরবি ভাষায় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব প্রস্তুত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তা আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। দুই দেশের মধ্যে কার্যকর কোনো দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতাসংক্রান্ত আইনের আওতায় আবেদনটি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই ব্যবস্থায় প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিদেশি রাষ্ট্রের আবেদন গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তবে আবেদন যাচাইয়ের সময় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্য, ব্যাখ্যা ও নথি চাইতে পারে। উল্লেখ্য, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ বেনজীর আহমেদকে শনাক্ত ও আটকের পথ তৈরি করলেও এটি নিজে কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা নয়। তাকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত তার নিজস্ব আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নেবে। আবেদন প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য হলে বিষয়টি পাবলিক প্রসিকিউশন ও আদালতে যেতে পারে। সেখানে বেনজীর আহমেদ তার আইনজীবীর মাধ্যমে প্রত্যর্পণের বিরোধিতা এবং আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন। বেনজীর আহমেদের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুবাই কর্তৃপক্ষের চাওয়া ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথি খুব শিগগিরই পাঠানো হবে। দুদক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দুবাই কর্তৃপক্ষের এই চিঠি বেনজীর আহমেদকে ফেরানোর পথ বন্ধ হওয়ার ইঙ্গিত নয়। বরং বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ আবেদন আইনি পরীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে— সেটিই এর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। এখন অভিযোগের আইনি ভিত্তি, আদালতের আদেশ, পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য এবং নথির সত্যায়ন কতটা পূর্ণাঙ্গ ও পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা যায়, তার ওপরই পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে। জবাব সন্তোষজনক হলে প্রক্রিয়া বিচারিক ও নির্বাহী পরবর্তী ধাপে এগোবে। আর কোনো ত্রুটি থাকলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।  

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে....