জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ২০ জুলাই ২০২৬ ইং,সময় রাত :০৯:৩৭ মিনিট। প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদকফরিদপুরের মধুখালীতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় এক শিল্পপতির বাড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে মো. রহমত আলী (৪৩) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের নরসিংদী সদর উপজেলার একটি শাখার ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে নিজ বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। নিহত রহমত আলী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার খাগালিয়া গ্রামের বাসিন্দা দেওয়ান আলীর ছেলে। তার স্ত্রী কাকন বেগম। তাদের ষষ্ঠ ও প্রথম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধুখালী উপজেলার আলতুখান জুট মিলস লিমিটেডের মালিক শিল্পপতি লোকমান হোসেনের বাসায় পরিচিত কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে রোববার ঢাকা থেকে বেড়াতে আসেন রহমত আলী। সারা দিন বিভিন্ন স্থান ঘোরাঘুরি এবং রাতে খাবার শেষে সবাই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ রহমত আলী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। রহমত আলীর সঙ্গে ফরিদপুরে বেড়াতে আসা এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সবার সঙ্গে রহমত আলীও মদপান করেছিলেন। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার বুকে ব্যথা শুরু হলে প্রথমে তাকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আল আমীন বলেন, “রোববার রাত ১০টা ৬ মিনিটে রহমত আলীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এখানে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।” ওই সময় জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. জ্যোতি প্রকাশ বলেন, “স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা পালস, শ্বাস-প্রশ্বাস ও হার্টবিট পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করি। পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বলা সম্ভব নয়। লাশ নিয়ে যারা এসেছিলেন, তারা জানিয়েছেন তিনি সুস্থ-সবল ছিলেন। হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে সংজ্ঞা হারান। এরপর তার মৃত্যু হয়।” আলতুখান জুট মিলস লিমিটেডের মালিক লোকমান হোসেন জানান, “মোট আটজন রোববার বিকেলে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তাদের মধ্যে সোহান নামে একজন আমার পরিচিত। বাকি সাতজন তার বন্ধু, যাদের আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। রাতে রহমত আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।” মো. সোহান সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জানান, ব্যবসায়িক সূত্রে লোকমান হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় রয়েছে। সেই পরিচয়ের ভিত্তিতে তিনি বন্ধুদের নিয়ে আলতুখান জুট মিলসহ মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, “ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে আমরা মরদেহ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পথে রয়েছি।” এ ঘটনায় মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “সুরতহাল প্রতিবেদনের সময় মৃতের মুখ থেকে কোনো গন্ধ পাওয়া যায়নি এবং শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্নও ছিল না। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।” জেটিভি নিউজ বাংলা বিষয়টির পরবর্তী অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ হলে সে অনুযায়ী বিস্তারিত তথ্য পাঠকদের সামনে তুলে ধরবে। জেটিভি নিউজ বাংলাদেশ ও দশের কথা বলে....

স্টাফ রিপোর্টার 


























