জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ :১৯ জুলাই ২০২৬ ইং,সময়: সকাল ১১:৩৭ মিনিট।অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ৭ জেলায় মৃত্যু বেড়ে ৫৯, কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৩২ নিহত
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের সাত জেলায় সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে এখন পর্যন্ত ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু কক্সবাজারেই মারা গেছেন ৩২ জন। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা রয়েছেন। এছাড়া দুর্যোগে আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন এবং কক্সবাজারে একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৪টা পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন জানান, কক্সবাজারের পর সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে চট্টগ্রামে। জেলাটিতে ১৬ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। বান্দরবানে সাত জন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়িতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও একজন আহত হয়েছেন। কক্সবাজারে নিহতদের পাশাপাশি ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২০ জন স্থানীয় এবং পাঁচজন রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে সাত জেলায় আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাত জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জেলার ৫৬টি উপজেলার ৩৭৪টি ইউনিয়ন এবং চারটি পৌরসভা দুর্যোগের কবলে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য মোট ৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে বান্দরবানে ৬৭টি, মৌলভীবাজারে চারটি এবং হবিগঞ্জে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত এসব আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ২৯৮ জন অবস্থান করছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আশ্রিতদের সবাই মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা। চট্টগ্রাম জেলার মহানগরসহ ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন বা এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কক্সবাজারের ১০ উপজেলার ৭৫টি ইউনিয়ন, রাঙামাটির নয় উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা এবং বান্দরবানের সাত উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা দুর্যোগের আওতায় এসেছে। এছাড়া খাগড়াছড়ির ৩৬টি ইউনিয়ন, মৌলভীবাজার সদরের পাঁচটি ইউনিয়ন এবং হবিগঞ্জের তিন উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নগদ অর্থ, চাল, শুকনো খাবার, শিশু ও গোখাদ্য, ঢেউটিন এবং ঘর নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৭৫ লাখ টাকা ও এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজারে ৪০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল এবং রাঙামাটিতে ৩০ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য পৃথকভাবে ২৫ লাখ টাকা এবং ৪০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশের ৬৪ জেলার জন্য মোট ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ৯ হাজার ৫০ মেট্রিক টন চাল, চার হাজার ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং ঘর নির্মাণে এক কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব বরাদ্দের পুরোটা বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য নয়; সাধারণ দুর্যোগ সহায়তা হিসেবে দেশের অন্যান্য জেলাও এই বরাদ্দের আওতায় রয়েছে। জেটিভি নিউজ বাংলাদেশ ও দশের কথা বলে....

কক্সবাজার প্রতিনিধি 






















