ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী বারিধারায় ময়লার ডিপো নিয়ে গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিন আসামি গ্রেফতার, আত্মগোপনে ছিলেন বান্দরবানের রিসোর্টে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মাটিচাপা পড়ে নারীর মৃত্যু, ঝুঁকিতে এখনও লাখো শরণার্থী ফরিদপুরের মধুখালীতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জন্মগত জটিল রোগে আক্রান্ত শিশু আনিফার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ, গঠন করা হলো বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড শ্রমিকদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ই-পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর স্মৃতি, অনুমোদন দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিটফোর্ডের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা মামলা: আদালতের প্রতি এক আসামির অনাস্থা, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জুলাই ইসিতে বিএনপির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা, বছরে আয় ২২.১৯ কোটি টাকা, উদ্বৃত্ত ৬.৯৩ কোটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধি লঙ্ঘন নিয়ে স্পিকারের কড়া বার্তা: ‘সংসদ ফ্রি স্টাইল বক্তব্য দেওয়ার জায়গা নয়’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১৯ জুন ২০২৬ ইং,সময়: সকাল ১০:৩০ মিনিট। ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধি লঙ্ঘন নিয়ে স্পিকারের কড়া বার্তা: ‘সংসদ ফ্রি স্টাইল বক্তব্য দেওয়ার জায়গা নয়’

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম বাজেট অধিবেশনে বারবার কার্যপ্রণালী বিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, সংসদ কোনোভাবেই ‘ফ্রি স্টাইল বক্তব্য দেওয়ার জায়গা নয়’; এখানে সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি মেনেই কথা বলতে হবে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বের কার্যসূচি উপস্থাপনের পর বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নেন স্পিকার। এ সময় একজন সংসদ সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার জন্য দাঁড়ালে স্পিকার তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘পয়েন্ট অব অর্ডার তো চলমান বিষয়ের ওপর হয়। আপনার কারও বক্তব্যে আপত্তি আছে কিনা? কিংবা সংসদের ডিসিপ্লিন নষ্ট হয়ে গেছে, সে সম্পর্কে কিছু বলবেন?’ সংসদ সদস্য বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে স্পিকার আরও বলেন, ‘সংসদ তো ফ্রি স্টাইল বক্তব্য দেওয়ার জায়গা না। আইন মোতাবেক, রুলস অব প্রসিডিউর বা কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী আপনাকে দাঁড়াতে হবে। তারপরও আপনারটা শুনবো, দু-একজনের বক্তব্য শুনে নিই।’ এরপর তিনি অন্য একজন সংসদ সদস্যকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনার সুযোগ দেন। তবে কার্যপ্রণালী বিধি অমান্য করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই এমন ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন বৈঠকে স্পিকার সংসদ সদস্যদের এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং কার্যপ্রণালী বিধি অধ্যয়নের তাগিদ দিয়েছেন। কিন্তু দ্বিতীয় অধিবেশনেও প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে।

পয়েন্ট অব অর্ডার: হুটহাট বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই

সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৩০১ বিধি অনুযায়ী, বৈধতার প্রশ্ন বা পয়েন্ট অব অর্ডার অবশ্যই কার্যপ্রণালী বিধি এবং সংসদের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণকারী সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা ও কার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে। শুধু সংসদের বিবেচনাধীন বিষয়ের ওপর বৈধতার প্রশ্ন উত্থাপন করা যায়। তবে সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা বা কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত হলে স্পিকার কার্যসূচির এক দফা শেষ হওয়ার পর ও অন্য দফা শুরুর আগে পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপনের অনুমতি দিতে পারেন। কোনো প্রশ্ন বৈধতার প্রশ্ন হিসেবে গণ্য হবে কিনা, তা নির্ধারণের একমাত্র ক্ষমতা স্পিকারের হাতে ন্যস্ত। স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং এ বিষয়ে কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে প্রয়োজন মনে করলে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে তিনি সদস্যদের বক্তব্য শুনতে পারেন। একই বিধিতে আরও বলা হয়েছে, তথ্য জানার জন্য, নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যার জন্য, কোনো প্রস্তাবে ভোট গ্রহণের সময়, অনুমাননির্ভর বিষয়ে কিংবা বিভক্তি-ভোটের ঘণ্টা না শোনা যাওয়ার অভিযোগে বৈধতার প্রশ্ন তোলা যাবে না। তবে মঙ্গলবার (১৬ জুন) একাধিকবার এ বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন এবং রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। পরে স্পিকার বলেন, ‘সংসদ চলে রুলস অব প্রসিডিউর ও সংবিধানের ভিত্তিতে। এখানে ৩৫০ জন সদস্যই সমান অধিকার ভোগ করেন এবং সবারই বক্তব্য দেওয়ার অধিকার আছে। তবে সমস্যা অন্তহীন হলেও সংসদ চলে নির্দিষ্ট আইন-কানুনের মধ্যে।’ পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার সঠিক সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পরপরই পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপনের নির্দিষ্ট সময়। বাজেট অধিবেশন চলাকালে সাধারণত পয়েন্ট অব অর্ডার দেওয়া হয় না, কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন এবং এখানে দীর্ঘ সময় বক্তব্য রাখতে হয়। যখন ইচ্ছা দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়ে দেওয়া সংসদে চলে না।’ মুজিবুর রহমানের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ‘তিনি দেখেছেন, আমি মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেছি, যা তার কাছে সংসদীয় রীতির পরিপন্থি মনে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি পয়েন্ট অব অর্ডার তুলেছেন।’ অন্যদিকে, মো. নুরুল আমীনের বক্তব্যের বিষয়ে স্পিকার বলেন, ‘আমি আপনার অনুভূতির প্রশংসা করি। আপনি শিক্ষক এবং বেতন না পাওয়া পৌর কর্মচারীদের দুঃখ-দুর্দশার কথা বলেছেন। কিন্তু সবকিছুর একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সংসদ মুখোমুখি চালানো যায় না। কোনো বিষয়ে আলোচনা করতে হলে আগে নোটিশ দিতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দিতেন, তবে আমরা হয়তো বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করতে পারতাম। ভবিষ্যতে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে দাঁড়ানোর জন্য আপনাদের কাছে সবিনয় নিবেদন রইলো।’

ফ্লোর ক্রস: সংসদীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের আরেক চিত্র

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বা অবস্থান নেওয়াকে সাধারণত ‘ফ্লোর ক্রস’ বলা হয়। তবে সংসদীয় কার্যক্রম চলাকালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, স্পিকারের সামনে দিয়ে চলাচল কিংবা অপ্রত্যাশিত আলাপ-আলোচনাও সংসদীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা চলাকালে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংসদ সদস্যদের মোবাইল ফোনে কথা বলা এবং বক্তব্যের সময় মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি চিফ হুইপ নুরুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘সংসদের ভেতর থেকে অনেক সদস্য মোবাইল ফোনে কথা বলছেন। আওয়াজ এই পর্যন্ত আসছে। নিশ্চয় যারা বক্তব্য রাখছেন বা শুনছেন, তাদের জন্য এটি বিরক্তিকর।’ জবাবে চিফ হুইপ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা কথা বলছি, সে কথা তার (স্পিকার) কান পর্যন্ত পৌঁছেছে। আমরা হাউজের মধ্যে কেউ কথা না বলি। ফ্লোর ক্রস না করি।’

নোটিশ ছাড়া সংসদে বিষয় উত্থাপন নয়

সংসদে কোনো বিষয় উত্থাপন, আলোচনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আগে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিতভাবে জানানোকে নোটিশ বলা হয়। কোনো সংসদ সদস্য হঠাৎ করে কোনো বিষয় উত্থাপন করতে পারেন না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্দেশ করে স্পিকার বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু হলে চলবে না মিস্টার আবদুল্লাহ। দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট। এখানে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে, শুনতে হবে। আর মৌখিক কথাবার্তার স্কোপ খুবই কম। নোটিশ দেবেন, উইল এডুকেট ইউ অন দ্য নোটিসেস।’

৩০০ বিধি নিয়ে বিতর্ক

কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধি অনুযায়ী, কোনো মন্ত্রী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিবৃতি দিতে পারেন। তবে এ সময় তাকে প্রশ্ন করা যাবে না এবং একবার দাঁড়িয়ে একটির বেশি বিবৃতি দেওয়ার সুযোগও নেই। গত ১৪ জুন বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের ৩০০ বিধিতে দেওয়া একটি বিবৃতি ঘিরে সংসদে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের এক নিখোঁজ নেতাকে উদ্ধার, ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়ে তিনি বিবৃতি দেন। এর বিরোধিতা করে বক্তব্য দিতে দাঁড়ান বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের। ডেপুটি স্পিকার রুলিং দিলে সংসদে হট্টগোল শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘৩০০ বিধিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর কোনো প্রশ্ন বা বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে বিরোধীদলীয় উপনেতা যেহেতু দাঁড়িয়েছেন, তাকে বিশেষ বিবেচনায় সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।’

এক্সপাঞ্জ: কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয় আপত্তিকর শব্দ

কার্যপ্রণালী বিধির ৩০৭ বিধি অনুযায়ী, সংসদীয় বিতর্কে অবমাননাকর, অশোভন, অমর্যাদাকর বা সংসদীয় রীতিবিরোধী কোনো শব্দ ব্যবহার হলে স্পিকার তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিতে পারেন। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘এক্সপাঞ্জ’। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার সরকার কিছু আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করলে স্পিকার তাকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ‘বক্তব্য রাখার সময় সাবধানতা অবলম্বন করবেন। অরুচিকর, অশ্লীল কোনো কথা এই সংসদে উচ্চারিত হোক, এটা আমরা চাই না। আপনার বক্তব্যে কিছু অশ্লীল শব্দ রয়েছে, সেগুলো এক্সপাঞ্জ করা হলো।’

৬৮ বিধি: জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা

৬৮ বিধি অনুযায়ী জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা উত্থাপন করতে হলে অন্তত দুই দিন আগে সচিবের কাছে লিখিত নোটিশ দিতে হয়। নোটিশে কমপক্ষে পাঁচজন সদস্যের স্বাক্ষর থাকতে হবে এবং কেন বিষয়টি জরুরি, তার ব্যাখ্যা সংযুক্ত করতে হবে। গত ৯ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ ৬৮ বিধিতে নোটিশ উত্থাপন করলে তা নিয়ে সংসদে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ-মার্কিন স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করলে স্পিকার তাকে ৬৮ বিধিতে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে প্রয়োজনীয় পাঁচজন সদস্যের সমর্থন না পাওয়ায় তিনি পরে নোটিশ দিতে পারেননি।

ওয়াকআউট: প্রতিবাদের সংসদীয় কৌশল

কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৭ বিধিতে সংসদ সদস্যের পদত্যাগের বিধান থাকলেও সংসদীয় চর্চায় কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন বর্জন করে বেরিয়ে যাওয়াকে ‘ওয়াকআউট’ বলা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে একাধিকবার বিরোধী দল ও জোট ওয়াকআউট করেছে। গত ১ এপ্রিল বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান গণভোটের সংস্কার প্রস্তাব এবং সংবিধান পরিষদ গঠন বিষয়ে সরকারের অবস্থান না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন।

৭১ বিধি: জরুরি বিষয়ে দুই মিনিটের বক্তব্য

কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী, জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো সদস্যের নোটিশ গ্রহণযোগ্য হলেও তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনা সম্ভব না হলে তাকে দুই মিনিট করে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায়। তবে সব সদস্যের বক্তব্যের মোট সময় ৩০ মিনিটের বেশি হতে পারবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যতজন সদস্য বক্তব্য দিতে পারবেন, কেবল তারাই সুযোগ পাবেন। বিধি অনুযায়ী কার্যাবলি শেষ হওয়ার পর স্পিকার এ ধরনের বিবৃতির জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব সংসদের টেবিলে উপস্থাপন করতে হয়।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে.....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধি লঙ্ঘন নিয়ে স্পিকারের কড়া বার্তা: ‘সংসদ ফ্রি স্টাইল বক্তব্য দেওয়ার জায়গা নয়’

আপডেট সময় ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১৯ জুন ২০২৬ ইং,সময়: সকাল ১০:৩০ মিনিট। ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধি লঙ্ঘন নিয়ে স্পিকারের কড়া বার্তা: ‘সংসদ ফ্রি স্টাইল বক্তব্য দেওয়ার জায়গা নয়’

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম বাজেট অধিবেশনে বারবার কার্যপ্রণালী বিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, সংসদ কোনোভাবেই ‘ফ্রি স্টাইল বক্তব্য দেওয়ার জায়গা নয়’; এখানে সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি মেনেই কথা বলতে হবে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বের কার্যসূচি উপস্থাপনের পর বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নেন স্পিকার। এ সময় একজন সংসদ সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার জন্য দাঁড়ালে স্পিকার তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘পয়েন্ট অব অর্ডার তো চলমান বিষয়ের ওপর হয়। আপনার কারও বক্তব্যে আপত্তি আছে কিনা? কিংবা সংসদের ডিসিপ্লিন নষ্ট হয়ে গেছে, সে সম্পর্কে কিছু বলবেন?’ সংসদ সদস্য বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে স্পিকার আরও বলেন, ‘সংসদ তো ফ্রি স্টাইল বক্তব্য দেওয়ার জায়গা না। আইন মোতাবেক, রুলস অব প্রসিডিউর বা কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী আপনাকে দাঁড়াতে হবে। তারপরও আপনারটা শুনবো, দু-একজনের বক্তব্য শুনে নিই।’ এরপর তিনি অন্য একজন সংসদ সদস্যকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনার সুযোগ দেন। তবে কার্যপ্রণালী বিধি অমান্য করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই এমন ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন বৈঠকে স্পিকার সংসদ সদস্যদের এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং কার্যপ্রণালী বিধি অধ্যয়নের তাগিদ দিয়েছেন। কিন্তু দ্বিতীয় অধিবেশনেও প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে।

পয়েন্ট অব অর্ডার: হুটহাট বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই

সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৩০১ বিধি অনুযায়ী, বৈধতার প্রশ্ন বা পয়েন্ট অব অর্ডার অবশ্যই কার্যপ্রণালী বিধি এবং সংসদের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণকারী সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা ও কার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে। শুধু সংসদের বিবেচনাধীন বিষয়ের ওপর বৈধতার প্রশ্ন উত্থাপন করা যায়। তবে সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা বা কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত হলে স্পিকার কার্যসূচির এক দফা শেষ হওয়ার পর ও অন্য দফা শুরুর আগে পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপনের অনুমতি দিতে পারেন। কোনো প্রশ্ন বৈধতার প্রশ্ন হিসেবে গণ্য হবে কিনা, তা নির্ধারণের একমাত্র ক্ষমতা স্পিকারের হাতে ন্যস্ত। স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং এ বিষয়ে কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে প্রয়োজন মনে করলে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে তিনি সদস্যদের বক্তব্য শুনতে পারেন। একই বিধিতে আরও বলা হয়েছে, তথ্য জানার জন্য, নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যার জন্য, কোনো প্রস্তাবে ভোট গ্রহণের সময়, অনুমাননির্ভর বিষয়ে কিংবা বিভক্তি-ভোটের ঘণ্টা না শোনা যাওয়ার অভিযোগে বৈধতার প্রশ্ন তোলা যাবে না। তবে মঙ্গলবার (১৬ জুন) একাধিকবার এ বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন এবং রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। পরে স্পিকার বলেন, ‘সংসদ চলে রুলস অব প্রসিডিউর ও সংবিধানের ভিত্তিতে। এখানে ৩৫০ জন সদস্যই সমান অধিকার ভোগ করেন এবং সবারই বক্তব্য দেওয়ার অধিকার আছে। তবে সমস্যা অন্তহীন হলেও সংসদ চলে নির্দিষ্ট আইন-কানুনের মধ্যে।’ পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার সঠিক সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পরপরই পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপনের নির্দিষ্ট সময়। বাজেট অধিবেশন চলাকালে সাধারণত পয়েন্ট অব অর্ডার দেওয়া হয় না, কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন এবং এখানে দীর্ঘ সময় বক্তব্য রাখতে হয়। যখন ইচ্ছা দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়ে দেওয়া সংসদে চলে না।’ মুজিবুর রহমানের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ‘তিনি দেখেছেন, আমি মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেছি, যা তার কাছে সংসদীয় রীতির পরিপন্থি মনে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি পয়েন্ট অব অর্ডার তুলেছেন।’ অন্যদিকে, মো. নুরুল আমীনের বক্তব্যের বিষয়ে স্পিকার বলেন, ‘আমি আপনার অনুভূতির প্রশংসা করি। আপনি শিক্ষক এবং বেতন না পাওয়া পৌর কর্মচারীদের দুঃখ-দুর্দশার কথা বলেছেন। কিন্তু সবকিছুর একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সংসদ মুখোমুখি চালানো যায় না। কোনো বিষয়ে আলোচনা করতে হলে আগে নোটিশ দিতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দিতেন, তবে আমরা হয়তো বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করতে পারতাম। ভবিষ্যতে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে দাঁড়ানোর জন্য আপনাদের কাছে সবিনয় নিবেদন রইলো।’

ফ্লোর ক্রস: সংসদীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের আরেক চিত্র

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বা অবস্থান নেওয়াকে সাধারণত ‘ফ্লোর ক্রস’ বলা হয়। তবে সংসদীয় কার্যক্রম চলাকালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, স্পিকারের সামনে দিয়ে চলাচল কিংবা অপ্রত্যাশিত আলাপ-আলোচনাও সংসদীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা চলাকালে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংসদ সদস্যদের মোবাইল ফোনে কথা বলা এবং বক্তব্যের সময় মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি চিফ হুইপ নুরুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘সংসদের ভেতর থেকে অনেক সদস্য মোবাইল ফোনে কথা বলছেন। আওয়াজ এই পর্যন্ত আসছে। নিশ্চয় যারা বক্তব্য রাখছেন বা শুনছেন, তাদের জন্য এটি বিরক্তিকর।’ জবাবে চিফ হুইপ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা কথা বলছি, সে কথা তার (স্পিকার) কান পর্যন্ত পৌঁছেছে। আমরা হাউজের মধ্যে কেউ কথা না বলি। ফ্লোর ক্রস না করি।’

নোটিশ ছাড়া সংসদে বিষয় উত্থাপন নয়

সংসদে কোনো বিষয় উত্থাপন, আলোচনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আগে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিতভাবে জানানোকে নোটিশ বলা হয়। কোনো সংসদ সদস্য হঠাৎ করে কোনো বিষয় উত্থাপন করতে পারেন না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্দেশ করে স্পিকার বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু হলে চলবে না মিস্টার আবদুল্লাহ। দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট। এখানে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে, শুনতে হবে। আর মৌখিক কথাবার্তার স্কোপ খুবই কম। নোটিশ দেবেন, উইল এডুকেট ইউ অন দ্য নোটিসেস।’

৩০০ বিধি নিয়ে বিতর্ক

কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধি অনুযায়ী, কোনো মন্ত্রী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিবৃতি দিতে পারেন। তবে এ সময় তাকে প্রশ্ন করা যাবে না এবং একবার দাঁড়িয়ে একটির বেশি বিবৃতি দেওয়ার সুযোগও নেই। গত ১৪ জুন বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের ৩০০ বিধিতে দেওয়া একটি বিবৃতি ঘিরে সংসদে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের এক নিখোঁজ নেতাকে উদ্ধার, ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়ে তিনি বিবৃতি দেন। এর বিরোধিতা করে বক্তব্য দিতে দাঁড়ান বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের। ডেপুটি স্পিকার রুলিং দিলে সংসদে হট্টগোল শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘৩০০ বিধিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর কোনো প্রশ্ন বা বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে বিরোধীদলীয় উপনেতা যেহেতু দাঁড়িয়েছেন, তাকে বিশেষ বিবেচনায় সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।’

এক্সপাঞ্জ: কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয় আপত্তিকর শব্দ

কার্যপ্রণালী বিধির ৩০৭ বিধি অনুযায়ী, সংসদীয় বিতর্কে অবমাননাকর, অশোভন, অমর্যাদাকর বা সংসদীয় রীতিবিরোধী কোনো শব্দ ব্যবহার হলে স্পিকার তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিতে পারেন। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘এক্সপাঞ্জ’। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার সরকার কিছু আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করলে স্পিকার তাকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ‘বক্তব্য রাখার সময় সাবধানতা অবলম্বন করবেন। অরুচিকর, অশ্লীল কোনো কথা এই সংসদে উচ্চারিত হোক, এটা আমরা চাই না। আপনার বক্তব্যে কিছু অশ্লীল শব্দ রয়েছে, সেগুলো এক্সপাঞ্জ করা হলো।’

৬৮ বিধি: জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা

৬৮ বিধি অনুযায়ী জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা উত্থাপন করতে হলে অন্তত দুই দিন আগে সচিবের কাছে লিখিত নোটিশ দিতে হয়। নোটিশে কমপক্ষে পাঁচজন সদস্যের স্বাক্ষর থাকতে হবে এবং কেন বিষয়টি জরুরি, তার ব্যাখ্যা সংযুক্ত করতে হবে। গত ৯ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ ৬৮ বিধিতে নোটিশ উত্থাপন করলে তা নিয়ে সংসদে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ-মার্কিন স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করলে স্পিকার তাকে ৬৮ বিধিতে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে প্রয়োজনীয় পাঁচজন সদস্যের সমর্থন না পাওয়ায় তিনি পরে নোটিশ দিতে পারেননি।

ওয়াকআউট: প্রতিবাদের সংসদীয় কৌশল

কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৭ বিধিতে সংসদ সদস্যের পদত্যাগের বিধান থাকলেও সংসদীয় চর্চায় কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন বর্জন করে বেরিয়ে যাওয়াকে ‘ওয়াকআউট’ বলা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে একাধিকবার বিরোধী দল ও জোট ওয়াকআউট করেছে। গত ১ এপ্রিল বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান গণভোটের সংস্কার প্রস্তাব এবং সংবিধান পরিষদ গঠন বিষয়ে সরকারের অবস্থান না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন।

৭১ বিধি: জরুরি বিষয়ে দুই মিনিটের বক্তব্য

কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী, জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো সদস্যের নোটিশ গ্রহণযোগ্য হলেও তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনা সম্ভব না হলে তাকে দুই মিনিট করে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায়। তবে সব সদস্যের বক্তব্যের মোট সময় ৩০ মিনিটের বেশি হতে পারবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যতজন সদস্য বক্তব্য দিতে পারবেন, কেবল তারাই সুযোগ পাবেন। বিধি অনুযায়ী কার্যাবলি শেষ হওয়ার পর স্পিকার এ ধরনের বিবৃতির জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব সংসদের টেবিলে উপস্থাপন করতে হয়।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে.....