ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী বারিধারায় ময়লার ডিপো নিয়ে গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিন আসামি গ্রেফতার, আত্মগোপনে ছিলেন বান্দরবানের রিসোর্টে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মাটিচাপা পড়ে নারীর মৃত্যু, ঝুঁকিতে এখনও লাখো শরণার্থী ফরিদপুরের মধুখালীতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জন্মগত জটিল রোগে আক্রান্ত শিশু আনিফার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ, গঠন করা হলো বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড শ্রমিকদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ই-পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর স্মৃতি, অনুমোদন দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিটফোর্ডের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা মামলা: আদালতের প্রতি এক আসামির অনাস্থা, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জুলাই ইসিতে বিএনপির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা, বছরে আয় ২২.১৯ কোটি টাকা, উদ্বৃত্ত ৬.৯৩ কোটি

অভিমান যখন ভালোবাসার ভাষা: দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব নয়, প্রয়োজন আন্তরিকতা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১৬ জুন ২০২৬ ইং| সময়: রাত ১১:০৩ মিনিট

অভিমান যখন ভালোবাসার ভাষা: দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব নয়, প্রয়োজন আন্তরিকতা

গবেষণায়,  রুমন জোয়ার্দ্দার জনি  ঃ   সংসার শুধু একসঙ্গে বসবাসের নাম নয়; এটি দুই মানুষের স্বপ্ন, বিশ্বাস, দায়িত্ব, ত্যাগ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক অনন্য বন্ধন। এই সম্পর্কে যেমন থাকে আনন্দ, তেমনি থাকে মান-অভিমান, প্রত্যাশা, না বলা কিছু কষ্ট এবং একে অপরকে আরও বেশি করে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ও গভীর সম্পর্কগুলোর একটি। এখানে একজন অন্যজনের কাছে শুধু জীবনসঙ্গী নন, বরং সবচেয়ে কাছের বন্ধু, নির্ভরতার জায়গা এবং সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার নিরাপদ আশ্রয়। তবে ভালোবাসা যত গভীর হয়, প্রত্যাশাও তত বেড়ে যায়। আর সেই প্রত্যাশার কোনো অংশ অপূর্ণ থাকলে জন্ম নেয় অভিমান। কখনও একটি না বলা কথা, কখনও ব্যস্ততার কারণে সময় না দেওয়া, কখনও ছোট কোনো ভুল বোঝাবুঝি—এসবই ধীরে ধীরে দুই মানুষের মাঝে অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি করে। অথচ সেই দূরত্বের দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে দুজন মানুষই নীরবে একই প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন

—‘কে আগে এগিয়ে আসবে?’

সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিমান দূরে সরে যাওয়ার ভাষা নয়; বরং আরও একটু কাছে আসার নীরব আকাঙ্ক্ষা। মানুষ সাধারণত তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির প্রতিই অভিমান করে, যার কাছে সে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব, যত্ন ও ভালোবাসা প্রত্যাশা করে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রত্যেক মানুষ তার প্রিয়জনের কাছ থেকে মানসিক নিরাপত্তা, গ্রহণযোগ্যতা ও আন্তরিকতা প্রত্যাশা করে। যখন সেই প্রত্যাশা পূরণ হয় না, তখন মনের ভেতরে জন্ম নেয় কষ্ট, নীরবতা ও অভিমান। অভিমানের সময় দুজন মানুষই ভেতরে ভেতরে অস্থির থাকেন। কেউ হয়তো কথা বলা বন্ধ করে দেন, কেউ নিজেকে গুটিয়ে নেন, আবার কেউ অপেক্ষা করেন একটি বার্তা, একটি ফোনকল কিংবা একটি আন্তরিক স্পর্শের জন্য। কিন্তু এই অপেক্ষা যত দীর্ঘ হয়, ততই শুরু হয় আত্মসম্মান আর ভালোবাসার টানাপোড়েন। ‘আমি কেন আগে বলব?’—এই একটি প্রশ্ন অনেক সম্পর্কের মাঝখানে অদৃশ্য দেয়াল তুলে দেয়। আর সেই নীরব মানসিক লড়াই ধীরে ধীরে মনের ভেতরটাকে বিধ্বস্ত শহরের মতো ভেঙে দেয়। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, দাম্পত্য সম্পর্কে জয়-পরাজয়ের কোনো জায়গা নেই। এখানে একজন হারলে, আসলে দুজনই হারেন। তাই অভিমান ভাঙার জন্য প্রথম পদক্ষেপটি কে নিলেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো সম্পর্কটিকে বাঁচিয়ে রাখার আন্তরিক ইচ্ছা। একটি আন্তরিক ‘ক্ষমা করো’, একটি ছোট্ট খোঁজ নেওয়া, ক্লান্ত দিনের শেষে এক কাপ চা এগিয়ে দেওয়া কিংবা নীরবে সঙ্গীর হাত ধরে বলা—‘তোমাকে ছাড়া ভালো নেই’—এসব ছোট ছোট মুহূর্তই সম্পর্ককে আবার নতুন করে বাঁচিয়ে তোলে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা, সঙ্গীর না বলা কথাগুলো বোঝার চেষ্টা করা এবং খোলামেলা কথা বলার অভ্যাস দাম্পত্য সম্পর্ককে আরও গভীর ও দৃঢ় করে। অভিমানকে কখনও অহংকারে রূপ নিতে দেওয়া উচিত নয়। কারণ ভালোবাসার সম্পর্কে ‘কে আগে কথা বলল’ বা ‘কে আগে ক্ষমা চাইল’—এই হিসাব নয়; বরং ‘কে সম্পর্কটিকে বেশি গুরুত্ব দিল’—সেটিই সবচেয়ে মূল্যবান। জীবনের ব্যস্ততা, কর্মক্ষেত্রের চাপ কিংবা পারিবারিক দায়িত্বের ভিড়ে আমরা অনেক সময় ভুলে যাই—প্রিয় মানুষটিও হয়তো অপেক্ষা করছেন একটি কথার জন্য, একটি স্পর্শের জন্য কিংবা একটি আশ্বাসের জন্য। হয়তো সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তটি তখনই তৈরি হয়, যখন দীর্ঘ নীরবতার পর একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘চলো, আবার নতুন করে শুরু করি।’ কারণ ভালোবাসার সবচেয়ে বড় শক্তি জিতে যাওয়ায় নয়, বরং বারবার একে অপরের কাছে ফিরে আসায়। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের সবচেয়ে মধুর সত্যটি হলো—অভিমান যত গভীরই হোক, ভালোবাসা যদি সত্যিকারের হয়, তবে একটি আন্তরিক আলিঙ্গনই পারে সব দূরত্ব মুছে দিতে।  

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে.....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী

অভিমান যখন ভালোবাসার ভাষা: দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব নয়, প্রয়োজন আন্তরিকতা

আপডেট সময় ১১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১৬ জুন ২০২৬ ইং| সময়: রাত ১১:০৩ মিনিট

অভিমান যখন ভালোবাসার ভাষা: দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব নয়, প্রয়োজন আন্তরিকতা

গবেষণায়,  রুমন জোয়ার্দ্দার জনি  ঃ   সংসার শুধু একসঙ্গে বসবাসের নাম নয়; এটি দুই মানুষের স্বপ্ন, বিশ্বাস, দায়িত্ব, ত্যাগ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক অনন্য বন্ধন। এই সম্পর্কে যেমন থাকে আনন্দ, তেমনি থাকে মান-অভিমান, প্রত্যাশা, না বলা কিছু কষ্ট এবং একে অপরকে আরও বেশি করে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ও গভীর সম্পর্কগুলোর একটি। এখানে একজন অন্যজনের কাছে শুধু জীবনসঙ্গী নন, বরং সবচেয়ে কাছের বন্ধু, নির্ভরতার জায়গা এবং সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার নিরাপদ আশ্রয়। তবে ভালোবাসা যত গভীর হয়, প্রত্যাশাও তত বেড়ে যায়। আর সেই প্রত্যাশার কোনো অংশ অপূর্ণ থাকলে জন্ম নেয় অভিমান। কখনও একটি না বলা কথা, কখনও ব্যস্ততার কারণে সময় না দেওয়া, কখনও ছোট কোনো ভুল বোঝাবুঝি—এসবই ধীরে ধীরে দুই মানুষের মাঝে অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি করে। অথচ সেই দূরত্বের দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে দুজন মানুষই নীরবে একই প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন

—‘কে আগে এগিয়ে আসবে?’

সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিমান দূরে সরে যাওয়ার ভাষা নয়; বরং আরও একটু কাছে আসার নীরব আকাঙ্ক্ষা। মানুষ সাধারণত তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির প্রতিই অভিমান করে, যার কাছে সে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব, যত্ন ও ভালোবাসা প্রত্যাশা করে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রত্যেক মানুষ তার প্রিয়জনের কাছ থেকে মানসিক নিরাপত্তা, গ্রহণযোগ্যতা ও আন্তরিকতা প্রত্যাশা করে। যখন সেই প্রত্যাশা পূরণ হয় না, তখন মনের ভেতরে জন্ম নেয় কষ্ট, নীরবতা ও অভিমান। অভিমানের সময় দুজন মানুষই ভেতরে ভেতরে অস্থির থাকেন। কেউ হয়তো কথা বলা বন্ধ করে দেন, কেউ নিজেকে গুটিয়ে নেন, আবার কেউ অপেক্ষা করেন একটি বার্তা, একটি ফোনকল কিংবা একটি আন্তরিক স্পর্শের জন্য। কিন্তু এই অপেক্ষা যত দীর্ঘ হয়, ততই শুরু হয় আত্মসম্মান আর ভালোবাসার টানাপোড়েন। ‘আমি কেন আগে বলব?’—এই একটি প্রশ্ন অনেক সম্পর্কের মাঝখানে অদৃশ্য দেয়াল তুলে দেয়। আর সেই নীরব মানসিক লড়াই ধীরে ধীরে মনের ভেতরটাকে বিধ্বস্ত শহরের মতো ভেঙে দেয়। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, দাম্পত্য সম্পর্কে জয়-পরাজয়ের কোনো জায়গা নেই। এখানে একজন হারলে, আসলে দুজনই হারেন। তাই অভিমান ভাঙার জন্য প্রথম পদক্ষেপটি কে নিলেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো সম্পর্কটিকে বাঁচিয়ে রাখার আন্তরিক ইচ্ছা। একটি আন্তরিক ‘ক্ষমা করো’, একটি ছোট্ট খোঁজ নেওয়া, ক্লান্ত দিনের শেষে এক কাপ চা এগিয়ে দেওয়া কিংবা নীরবে সঙ্গীর হাত ধরে বলা—‘তোমাকে ছাড়া ভালো নেই’—এসব ছোট ছোট মুহূর্তই সম্পর্ককে আবার নতুন করে বাঁচিয়ে তোলে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা, সঙ্গীর না বলা কথাগুলো বোঝার চেষ্টা করা এবং খোলামেলা কথা বলার অভ্যাস দাম্পত্য সম্পর্ককে আরও গভীর ও দৃঢ় করে। অভিমানকে কখনও অহংকারে রূপ নিতে দেওয়া উচিত নয়। কারণ ভালোবাসার সম্পর্কে ‘কে আগে কথা বলল’ বা ‘কে আগে ক্ষমা চাইল’—এই হিসাব নয়; বরং ‘কে সম্পর্কটিকে বেশি গুরুত্ব দিল’—সেটিই সবচেয়ে মূল্যবান। জীবনের ব্যস্ততা, কর্মক্ষেত্রের চাপ কিংবা পারিবারিক দায়িত্বের ভিড়ে আমরা অনেক সময় ভুলে যাই—প্রিয় মানুষটিও হয়তো অপেক্ষা করছেন একটি কথার জন্য, একটি স্পর্শের জন্য কিংবা একটি আশ্বাসের জন্য। হয়তো সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তটি তখনই তৈরি হয়, যখন দীর্ঘ নীরবতার পর একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘চলো, আবার নতুন করে শুরু করি।’ কারণ ভালোবাসার সবচেয়ে বড় শক্তি জিতে যাওয়ায় নয়, বরং বারবার একে অপরের কাছে ফিরে আসায়। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের সবচেয়ে মধুর সত্যটি হলো—অভিমান যত গভীরই হোক, ভালোবাসা যদি সত্যিকারের হয়, তবে একটি আন্তরিক আলিঙ্গনই পারে সব দূরত্ব মুছে দিতে।  

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে.....