মুক্তিযুদ্ধের বিকল্প নেই, ফেসবুকে রাজনীতি নয়—সংসদে শামা ওবায়েদের বক্তব্যে তর্ক-বিতর্ক
জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ইং | সময়: রাত ৮:১৪ মিনিট। জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব কোনোভাবেই অন্য কিছুর সঙ্গে তুলনীয় নয়। তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তিনি বিশ্বাস করেন—মুক্তিযুদ্ধ একদিকে, আর অন্য সবকিছু অন্যদিকে; এটি কোনোভাবেই প্রতিস্থাপনযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে যত আন্দোলনই হোক না কেন, মুক্তিযুদ্ধের অবস্থান থাকবে স্বতন্ত্র ও সর্বোচ্চ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত সরকারে থাকা নতুন প্রজন্মের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যা হতাশাজনক। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ ও নতুন প্রজন্মের রাজনীতির ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি প্রত্যাশিত ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক রাজনীতির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বড় বড় কথা বললেই রাজনীতি হয় না। জনগণের জন্য কাজ করতে হলে অভিজ্ঞতা, সাহস ও বুদ্ধিমত্তা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, বিএনপি কখনোই ফেসবুকনির্ভর রাজনীতি করে না; বরং মাঠে থেকে সংগ্রাম করে। বট বাহিনী দিয়ে মানুষকে আক্রমণ বা ভাইরাল হয়ে রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থাকতো, তাহলে দেশের স্বাধীনতা অর্জন হতো কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা কখনো নিজেদের পরিচয় গোপন করেননি। তারা প্রকাশ্যে দলীয় প্রতীক ধারণ করে আন্দোলন করেছেন, গুলি খেয়েছেন এবং কারাবরণ করেছেন, কিন্তু অন্য কোনো দলে গিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করেননি। রাষ্ট্র সংস্কার ও ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, বিএনপির কাছে এসব নিয়ে আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। তার মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রকৃত সংস্কার ও উন্নয়ন বিএনপির সময়েই হয়েছে। বর্তমানের বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ—যেমন ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মারস কার্ড এবং নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান—এসবের পেছনেও তারেক রহমান ও বিএনপির অবদান রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব উদ্যোগের সুফল দেশবাসী ভোগ করবে। এদিকে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ হিসেবে তিনি নিজেও কিছু সময় দায়িত্বে ছিলেন, তাই সংসদে উত্থাপিত অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তার বিরুদ্ধে আদৌ কোনো দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না এবং থাকলে কোথায় তিনি দুর্নীতি করেছেন—তা স্পষ্ট করতে হবে।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

Reporter Name 











