শহীদ মিনারে শিশুদের সঙ্গে প্রজন্মের শ্রদ্ধা
📅 ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ 🕰️ সময় ২:২৪ মিনিট। 📝 জেটিভি নিউজ বাংলা (ঢাকা) “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি”– আব্দুল গাফফার চৌধুরীর কালজয়ী গানটির সুরে তাল মিলিয়ে শহীদ মিনারে শিশুদের সঙ্গে উপস্থিত হচ্ছেন অভিভাবকরা। ১৯৫২ সালের রক্তঝরা রাজপথ থেকে জন্ম নেওয়া ভাষা আন্দোলনের চেতনাটি আজ আর কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই। বরং প্রতিটি প্রজন্মের ধমনিতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে সকালভোর থেকে হাজারো শিশু বাবার হাত ধরে কিংবা মায়ের কোলে চড়ে শহীদ মিনারে পৌঁছেছে। সকালেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে দেখা গেছে, শিশুরা হাতে হাতে ফুল এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে। তারা বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছে শহীদ ভাষা যোদ্ধাদের প্রতি। বেসরকারি চাকরিজীবী ইয়াসিন আহমেদ তার দুই সন্তান মাগফিরা জাফরিন ও আবরার জায়িম নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে যখন বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রভাবে দেশীয় ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার পথে, সন্তানদের শিকড়ের সন্ধান দিতে এখানে নিয়ে এসেছি। আমাদের ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন আমাদের বীর যোদ্ধারা। তাদের সেই উজ্জ্বল ত্যাগ ছড়িয়ে দিতে আজকে ওদের সঙ্গে আছি।” অন্যদিকে, ইয়য়ুনা মারমা বলেন, “একুশের চেতনা কেবল বইয়ের পাতায় নয়, এটি ছড়িয়ে পড়ুক আমাদের উত্তরসূরিদের রক্তে। বাঙালির অস্তিত্ব আর বর্ণমালার অহংকার কখনো মুছে যাবে না। জয় হোক আমাদের প্রাণের ভাষার।” সরকারি চাকরিজীবী মশিউর রহমান তার দুই সন্তান মো. মোস্তফা ও মো. আব্দুল্লাহ্ নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, “শহীদ মিনারের আঙিনায় শিশুরা যখন বেদীতে ফুল রাখে, তখন মনে হয় তারা আমাদের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার গ্রহণ করছে। আমাদের লক্ষ্য, আগামী প্রজন্মের মধ্যে ভাষার গুরুত্ব ও দেশপ্রেম ছড়িয়ে দেওয়া।” শহীদ মিনার চত্বর সকাল থেকেই প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকায় ভিড় লক্ষ্যনীয়। খালি পায়ে প্রভাত ফেরিতে অংশ নিতে এসে মানুষ হাতে জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে শহীদ বেদীতে ফুল দিচ্ছেন। পুরো এলাকা এখন একুশের চেতনা ও দেশপ্রেমের আবহে উদ্বেলিত।

Reporter Name 



















