ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ রাজধানীতে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর হামের পর এবার ডেঙ্গুর প্রকোপে বিপর্যস্ত ময়মনসিংহ, হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন আফতাবনগর প্রকল্পের ভেতরে ২১ কোটি টাকার সরকারি খাস জমি উদ্ধার দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ও উসকানি ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপরাধ অনেক নিয়ন্ত্রণে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাড়িবহর ছাড়াই সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ভর্তুকির সার সাগরপথে নিয়মিত মিয়ানমারে পাচার, দুই মাসে জব্দ ৩ হাজার ৩১০ বস্তা

এবারের ভোটযুদ্ধে অনুপস্থিত শীর্ষ নেতারা: নেপথ্যের কারণকী?

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১৬ বার পড়া হয়েছে

এবারের ভোটযুদ্ধে অনুপস্থিত শীর্ষ নেতারা: নেপথ্যের কারণকী?   স্টাফ রিপোর্ট | JTV News Bangla ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি ৯:৫২ এএম।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলেও এবারের ভোটযুদ্ধে চোখে পড়ছে একটি বড় শূন্যতা—দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বহু পরিচিত ও প্রভাবশালী শীর্ষ নেতা নির্বাচনের মাঠে নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্ধক্য, অসুস্থতা, দলীয় দায়িত্ব, কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তাই এসব নেতার অনুপস্থিতির প্রধান কারণ। বিএনপি: নেতৃত্ব থাকলেও প্রার্থী নন অনেকে বিএনপির বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতা এবার ভোটে নেই। সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বার্ধক্যজনিত কারণে নির্বাচন করছেন না। তার স্থলে পঞ্চগড়-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তার ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির সরকার। একই কারণে নির্বাচনে নেই স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় তিনি রাজনীতির মাঠ থেকে অনেকটাই দূরে। দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে থাকার কারণে প্রার্থী হননি নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান। পাশাপাশি রুহুল কবির রিজভী, শামসুজ্জামান দুদু, মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা নির্বাচন পরিচালনায় যুক্ত থাকায় ভোটে অংশ নেননি। জামায়াতে ইসলামি: কৌশলগত সিদ্ধান্ত জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম বার্ধক্যজনিত কারণে নির্বাচন করছেন না। পাঁচজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলও দলীয় সিদ্ধান্তে ভোটের বাইরে রয়েছেন। কেউ কেউ নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন, আবার কেউ জোটগত সমঝোতার কারণে সরে দাঁড়িয়েছেন। জাতীয় পার্টি ও মিত্ররা জাতীয় পার্টির প্রবীণ নেত্রী রওশন এরশাদও এবার নির্বাচনে নেই। জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বার্ধক্য ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কথা বিবেচনা করে ভোটে অংশ নেননি। এছাড়া জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোস্তফা জামাল হায়দারও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনি মাঠে নামেননি। নতুন দল, নতুন কৌশল জাতীয় নাগরিক পার্টির বেশিরভাগ শীর্ষ নেতা এবার প্রথমবার ভোটে নামলেও দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ায় প্রার্থী হননি। একই কারণে নির্বাচন করছেন না দলের আরও দুই শীর্ষ নেত্রী। ধর্মভিত্তিক ও বাম দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম ঐতিহ্যগত কারণেই নির্বাচনে অংশ নেননি। দলীয় প্রধান হিসেবে তিনি সারাদেশে প্রচারণায় ভূমিকা রাখবেন বলে জানিয়েছে দলটি। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই’ দাবি করে এবার নির্বাচন বর্জন করেছেন। এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ নিজ সিদ্ধান্তে ভোটে নেই। জাসদ সভাপতি আ স ম আবদুর রব বার্ধক্যজনিত কারণে নির্বাচন করছেন না। বাসদ নেতা বজলুর রশিদ ফিরোজও দলীয় সিদ্ধান্তে ভোটের বাইরে রয়েছেন। বিশ্লেষণ রাজনীতিকদের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে—এবারের নির্বাচন কেবল প্রার্থী বনাম প্রার্থী নয়, বরং কৌশল, বার্ধক্য, জোট রাজনীতি ও সাংগঠনিক বাস্তবতারও প্রতিফলন। ভোটের মাঠে না থেকেও অনেক শীর্ষ নেতা পর্দার আড়াল থেকে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা রাখবেন—এটাই রাজনৈতিক বাস্তবতা। শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলই বলে দেবে, কার অনুপস্থিতি কতটা প্রভাব ফেলেছে।     জেটিভি নিউজ বাংলা, রাজনীতি 

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

এবারের ভোটযুদ্ধে অনুপস্থিত শীর্ষ নেতারা: নেপথ্যের কারণকী?

আপডেট সময় ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
এবারের ভোটযুদ্ধে অনুপস্থিত শীর্ষ নেতারা: নেপথ্যের কারণকী?   স্টাফ রিপোর্ট | JTV News Bangla ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি ৯:৫২ এএম।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলেও এবারের ভোটযুদ্ধে চোখে পড়ছে একটি বড় শূন্যতা—দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বহু পরিচিত ও প্রভাবশালী শীর্ষ নেতা নির্বাচনের মাঠে নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্ধক্য, অসুস্থতা, দলীয় দায়িত্ব, কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তাই এসব নেতার অনুপস্থিতির প্রধান কারণ। বিএনপি: নেতৃত্ব থাকলেও প্রার্থী নন অনেকে বিএনপির বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতা এবার ভোটে নেই। সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বার্ধক্যজনিত কারণে নির্বাচন করছেন না। তার স্থলে পঞ্চগড়-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তার ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির সরকার। একই কারণে নির্বাচনে নেই স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় তিনি রাজনীতির মাঠ থেকে অনেকটাই দূরে। দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে থাকার কারণে প্রার্থী হননি নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান। পাশাপাশি রুহুল কবির রিজভী, শামসুজ্জামান দুদু, মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা নির্বাচন পরিচালনায় যুক্ত থাকায় ভোটে অংশ নেননি। জামায়াতে ইসলামি: কৌশলগত সিদ্ধান্ত জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম বার্ধক্যজনিত কারণে নির্বাচন করছেন না। পাঁচজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলও দলীয় সিদ্ধান্তে ভোটের বাইরে রয়েছেন। কেউ কেউ নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন, আবার কেউ জোটগত সমঝোতার কারণে সরে দাঁড়িয়েছেন। জাতীয় পার্টি ও মিত্ররা জাতীয় পার্টির প্রবীণ নেত্রী রওশন এরশাদও এবার নির্বাচনে নেই। জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বার্ধক্য ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কথা বিবেচনা করে ভোটে অংশ নেননি। এছাড়া জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোস্তফা জামাল হায়দারও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনি মাঠে নামেননি। নতুন দল, নতুন কৌশল জাতীয় নাগরিক পার্টির বেশিরভাগ শীর্ষ নেতা এবার প্রথমবার ভোটে নামলেও দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ায় প্রার্থী হননি। একই কারণে নির্বাচন করছেন না দলের আরও দুই শীর্ষ নেত্রী। ধর্মভিত্তিক ও বাম দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম ঐতিহ্যগত কারণেই নির্বাচনে অংশ নেননি। দলীয় প্রধান হিসেবে তিনি সারাদেশে প্রচারণায় ভূমিকা রাখবেন বলে জানিয়েছে দলটি। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই’ দাবি করে এবার নির্বাচন বর্জন করেছেন। এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ নিজ সিদ্ধান্তে ভোটে নেই। জাসদ সভাপতি আ স ম আবদুর রব বার্ধক্যজনিত কারণে নির্বাচন করছেন না। বাসদ নেতা বজলুর রশিদ ফিরোজও দলীয় সিদ্ধান্তে ভোটের বাইরে রয়েছেন। বিশ্লেষণ রাজনীতিকদের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে—এবারের নির্বাচন কেবল প্রার্থী বনাম প্রার্থী নয়, বরং কৌশল, বার্ধক্য, জোট রাজনীতি ও সাংগঠনিক বাস্তবতারও প্রতিফলন। ভোটের মাঠে না থেকেও অনেক শীর্ষ নেতা পর্দার আড়াল থেকে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা রাখবেন—এটাই রাজনৈতিক বাস্তবতা। শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলই বলে দেবে, কার অনুপস্থিতি কতটা প্রভাব ফেলেছে।     জেটিভি নিউজ বাংলা, রাজনীতি