ঢাকা , শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Bangladesh Prime Minister Tarique Rahman Vacates Bogura-6 Seat প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া‑৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন ভাষার জন্য রক্তের বিনিময়: মহান ২১ ফেব্রুয়ারি – শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মহান শহীদ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী: একুশের চেতনায় গণতন্ত্র সুসংহত করার অঙ্গীকার হেমায়েতপুর ফুটপাত: চাঁদাবাজি, জুয়া ও লটারি শ্রমিকদের নিঃস্ব করছে একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্যের নিরাপত্তা বলয়: সুনির্দিষ্ট কোনো শঙ্কা নেই—ডিএমপি কমিশনার রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না চাঁদাবাজির লাগাম টানতে ও নির্মূল করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ: গণতান্ত্রিক সরকারের পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ রমজানজুড়ে বন্ধ সব বিদ্যালয়, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ছুটি

শীতে উষ্ণতার খোঁজে আগুন, আর তাতেই বাড়ছে দগ্ধের মর্মান্তিক ঘটনা❞

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

শীতে উষ্ণতার খোঁজে আগুন, আর তাতেই বাড়ছে দগ্ধের মর্মান্তিক ঘটনা❞  নিজস্ব প্রতিবেদক   | জেটিভি নিউজ বাংলা ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৩ এএম। রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির জরুরি বিভাগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড। একটি শয্যায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন ৭০ বছর বয়সী সকিনা বেগম। শরীরের বড় একটি অংশ আগুনে পুড়ে গেছে। অক্সিজেন সাপোর্টে চিকিৎসাধীন এই বৃদ্ধার পুরো শরীর ব্যান্ডেজে মোড়ানো। তার মেয়ে জামিলা খাতুন জানান, গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বাড়ির উঠানে আগুন পোহাতে বসেছিলেন সকিনা। হঠাৎ করেই তার পরনের শাড়িতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে শরীরে। আগুন নেভাতে গিয়ে হাত ও মুখমণ্ডলও দগ্ধ হয়। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে, পরে বিকাল ৪টার দিকে রাজধানীর বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। একই দিনে, প্রায় একই ধরনের দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হন চট্টগ্রামের ৪৫ বছর বয়সী গৃহিণী হালিমা বেগম। শীতের সকালে গোসলের জন্য চুলা থেকে গরম পানি নামাতে গিয়ে অসাবধানতায় গরম পানি পড়ে যায় শরীর ও হাত-পায়ে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করালেও অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকায় পাঠানো হয়। রাত ১১টার দিকে বার্ন ইনস্টিটিউটে পৌঁছানোর পর তাকে জরুরি অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। এদিকে, ভালুকায় ৮ বছর বয়সী শিশু তোহা বন্ধুদের সঙ্গে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়। তার পিঠ, কোমর ও হাঁটুর নিচের অংশ পুড়ে গেছে। তোহা জানায়, “হঠাৎ গরম লাগতে শুরু করে। বুঝতেই পারিনি কাপড়ে কীভাবে আগুন লাগল।” তার কান্নার শব্দে মা ছুটে এসে আগুন নেভান। পরে তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, শীত মৌসুম এলেই দগ্ধ রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। তিনি বলেন, “শীতে উষ্ণতার জন্য আগুন পোহানো, গরম পানিতে গোসল কিংবা রান্নার সময় অসতর্কতার কারণে সব বয়সী মানুষ দগ্ধ হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরাই বেশি ঝুঁকিতে।” তার তথ্যমতে, শীতকাল ছাড়া প্রতিদিন যেখানে ৪০–৪৫ জন দগ্ধ রোগী আসে, শীতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০–৬৫ জনে। শুধু ঢাকা নয়, উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংকটাপন্ন রোগীরা এখানে আসেন। ডা. শাওন আরও জানান, দগ্ধ হলে প্রথম ২০ থেকে ৩০ মিনিট সাধারণ তাপমাত্রার পানি দিয়ে পোড়া স্থান ধুয়ে ফেলতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “পোড়া জায়গায় টুথপেস্ট, ডিম বা বরফ লাগানো যাবে না। দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে।” বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩২৪ জন দগ্ধ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮০ জনকে ভর্তি করতে হয়েছে। গত ডিসেম্বরে ১,২০০, নভেম্বরে ১,১৩৮ এবং অক্টোবরে ১,০৯১ জন রোগী এখানে চিকিৎসা নেন। ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য রয়েছে মাত্র ৭২টি বিশেষ শয্যা— এর মধ্যে আইসিইউ ২০টি, আর হাই-ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে পুরুষ ও নারীদের জন্য মোট ৫২টি শয্যা। ঢাকার বাইরে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা সহজ করতে সিলেট, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও ফরিদপুরে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি নানা জটিলতায় স্থবির হয়ে পড়ে। বর্তমানে সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী প্রকল্প ব্যয় প্রায় ৭৯ শতাংশ বেড়ে ৮১৬ কোটি ১৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিই পারে শীতকালে দগ্ধের মর্মান্তিক ঘটনা কমাতে।   জেটিভি নিউজ বাংলা

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

Bangladesh Prime Minister Tarique Rahman Vacates Bogura-6 Seat

শীতে উষ্ণতার খোঁজে আগুন, আর তাতেই বাড়ছে দগ্ধের মর্মান্তিক ঘটনা❞

আপডেট সময় ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
শীতে উষ্ণতার খোঁজে আগুন, আর তাতেই বাড়ছে দগ্ধের মর্মান্তিক ঘটনা❞  নিজস্ব প্রতিবেদক   | জেটিভি নিউজ বাংলা ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৩ এএম। রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির জরুরি বিভাগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড। একটি শয্যায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন ৭০ বছর বয়সী সকিনা বেগম। শরীরের বড় একটি অংশ আগুনে পুড়ে গেছে। অক্সিজেন সাপোর্টে চিকিৎসাধীন এই বৃদ্ধার পুরো শরীর ব্যান্ডেজে মোড়ানো। তার মেয়ে জামিলা খাতুন জানান, গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বাড়ির উঠানে আগুন পোহাতে বসেছিলেন সকিনা। হঠাৎ করেই তার পরনের শাড়িতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে শরীরে। আগুন নেভাতে গিয়ে হাত ও মুখমণ্ডলও দগ্ধ হয়। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে, পরে বিকাল ৪টার দিকে রাজধানীর বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। একই দিনে, প্রায় একই ধরনের দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হন চট্টগ্রামের ৪৫ বছর বয়সী গৃহিণী হালিমা বেগম। শীতের সকালে গোসলের জন্য চুলা থেকে গরম পানি নামাতে গিয়ে অসাবধানতায় গরম পানি পড়ে যায় শরীর ও হাত-পায়ে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করালেও অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকায় পাঠানো হয়। রাত ১১টার দিকে বার্ন ইনস্টিটিউটে পৌঁছানোর পর তাকে জরুরি অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। এদিকে, ভালুকায় ৮ বছর বয়সী শিশু তোহা বন্ধুদের সঙ্গে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়। তার পিঠ, কোমর ও হাঁটুর নিচের অংশ পুড়ে গেছে। তোহা জানায়, “হঠাৎ গরম লাগতে শুরু করে। বুঝতেই পারিনি কাপড়ে কীভাবে আগুন লাগল।” তার কান্নার শব্দে মা ছুটে এসে আগুন নেভান। পরে তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, শীত মৌসুম এলেই দগ্ধ রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। তিনি বলেন, “শীতে উষ্ণতার জন্য আগুন পোহানো, গরম পানিতে গোসল কিংবা রান্নার সময় অসতর্কতার কারণে সব বয়সী মানুষ দগ্ধ হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরাই বেশি ঝুঁকিতে।” তার তথ্যমতে, শীতকাল ছাড়া প্রতিদিন যেখানে ৪০–৪৫ জন দগ্ধ রোগী আসে, শীতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০–৬৫ জনে। শুধু ঢাকা নয়, উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংকটাপন্ন রোগীরা এখানে আসেন। ডা. শাওন আরও জানান, দগ্ধ হলে প্রথম ২০ থেকে ৩০ মিনিট সাধারণ তাপমাত্রার পানি দিয়ে পোড়া স্থান ধুয়ে ফেলতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “পোড়া জায়গায় টুথপেস্ট, ডিম বা বরফ লাগানো যাবে না। দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে।” বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩২৪ জন দগ্ধ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮০ জনকে ভর্তি করতে হয়েছে। গত ডিসেম্বরে ১,২০০, নভেম্বরে ১,১৩৮ এবং অক্টোবরে ১,০৯১ জন রোগী এখানে চিকিৎসা নেন। ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য রয়েছে মাত্র ৭২টি বিশেষ শয্যা— এর মধ্যে আইসিইউ ২০টি, আর হাই-ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে পুরুষ ও নারীদের জন্য মোট ৫২টি শয্যা। ঢাকার বাইরে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা সহজ করতে সিলেট, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও ফরিদপুরে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি নানা জটিলতায় স্থবির হয়ে পড়ে। বর্তমানে সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী প্রকল্প ব্যয় প্রায় ৭৯ শতাংশ বেড়ে ৮১৬ কোটি ১৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিই পারে শীতকালে দগ্ধের মর্মান্তিক ঘটনা কমাতে।   জেটিভি নিউজ বাংলা