ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ রাজধানীতে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর হামের পর এবার ডেঙ্গুর প্রকোপে বিপর্যস্ত ময়মনসিংহ, হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন আফতাবনগর প্রকল্পের ভেতরে ২১ কোটি টাকার সরকারি খাস জমি উদ্ধার দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ও উসকানি ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপরাধ অনেক নিয়ন্ত্রণে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাড়িবহর ছাড়াই সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ভর্তুকির সার সাগরপথে নিয়মিত মিয়ানমারে পাচার, দুই মাসে জব্দ ৩ হাজার ৩১০ বস্তা

১৮ মাস পর কবরের সন্ধান: রায়েরবাজারে অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় শনাক্ত, কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৭২ বার পড়া হয়েছে

১৮ মাস পর কবরের সন্ধান: রায়েরবাজারে অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় শনাক্ত, কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার ডেস্ক রিপোর্ট | জেটিভি নিউজ বাংলা ৫ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ১:২৬  পিএম ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত বহু মানুষের মরদেহ অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে দাফন করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৮ মাস পর অবশেষে প্রিয়জনের কবরের সন্ধান পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে সোমবার এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং আদালতের নির্দেশে পরিচালিত ‘অজ্ঞাতপরিচয়ের শহীদদের মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম’-এর অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। ১১৪ মরদেহ উত্তোলন, শনাক্ত ৮ জন রাজধানীর মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে এ পর্যন্ত ১১৪ জন অজ্ঞাতপরিচয়ের মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে ৯টি পরিবারের দেওয়া নমুনার ভিত্তিতে ৮ জন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি একটি মরদেহের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ। পরিচয় শনাক্ত হওয়া শহীদরা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাদের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে তারা হলেন— ঢাকার মাদারটেকের শহীদ কাবিল হোসেন (৫৮) ঢাকার মোহাম্মদপুরের শহীদ সোহেল রানা (৩৮) শেরপুরের শহীদ আসাদুল্লাহ (৩১) ফেনীর শহীদ রফিকুল ইসলাম (২৯) ময়মনসিংহের শহীদ মাহিম (৩২) কুমিল্লার শহীদ ফয়সাল সরকার (২৬) পিরোজপুরের শহীদ রফিকুল ইসলাম (৫২) চাঁদপুরের শহীদ পারভেজ বেপারী (২৩) কবর বুঝে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা পরিচয় শনাক্তের পর আটটি পরিবারের কাছে তাদের স্বজনদের কবর বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কবরের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, কেউ নিঃশব্দে চোখের জল ফেলেন—রায়েরবাজারে সৃষ্টি হয় এক শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক পরিবেশ। এই পুরো কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মিনেসোটা প্রটোকল অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়েছে। মরদেহ উত্তোলন, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, প্রোফাইলিং এবং পুনঃসমাধিস্থকরণ—প্রতিটি ধাপেই মানবাধিকার ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে বিচারবহির্ভূত ও নির্বিচার হত্যাকাণ্ড বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফরে এসে সিআইডির ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিকেল ফরেনসিক টিমকে দুই দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ দেন। রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ২১ দিনে ১১৪টি মরদেহ উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এই কার্যক্রমে সিআইডির পাশাপাশি সহযোগিতা করে— ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি), ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। উপস্থিত ছিলেন   মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মানবাধিকারভিত্তিক তদন্তে দৃষ্টান্ত রায়েরবাজারে পরিচালিত এই বৃহৎ ফরেনসিক উদ্যোগ বাংলাদেশে মানবাধিকারভিত্তিক তদন্তের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এতে একদিকে শহীদ পরিবারের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ বিচারিক কার্যক্রমের জন্য সংরক্ষিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ।

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

১৮ মাস পর কবরের সন্ধান: রায়েরবাজারে অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় শনাক্ত, কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার

আপডেট সময় ০১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
১৮ মাস পর কবরের সন্ধান: রায়েরবাজারে অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় শনাক্ত, কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার ডেস্ক রিপোর্ট | জেটিভি নিউজ বাংলা ৫ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ১:২৬  পিএম ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত বহু মানুষের মরদেহ অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে দাফন করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৮ মাস পর অবশেষে প্রিয়জনের কবরের সন্ধান পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে সোমবার এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং আদালতের নির্দেশে পরিচালিত ‘অজ্ঞাতপরিচয়ের শহীদদের মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম’-এর অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। ১১৪ মরদেহ উত্তোলন, শনাক্ত ৮ জন রাজধানীর মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে এ পর্যন্ত ১১৪ জন অজ্ঞাতপরিচয়ের মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে ৯টি পরিবারের দেওয়া নমুনার ভিত্তিতে ৮ জন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি একটি মরদেহের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ। পরিচয় শনাক্ত হওয়া শহীদরা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাদের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে তারা হলেন— ঢাকার মাদারটেকের শহীদ কাবিল হোসেন (৫৮) ঢাকার মোহাম্মদপুরের শহীদ সোহেল রানা (৩৮) শেরপুরের শহীদ আসাদুল্লাহ (৩১) ফেনীর শহীদ রফিকুল ইসলাম (২৯) ময়মনসিংহের শহীদ মাহিম (৩২) কুমিল্লার শহীদ ফয়সাল সরকার (২৬) পিরোজপুরের শহীদ রফিকুল ইসলাম (৫২) চাঁদপুরের শহীদ পারভেজ বেপারী (২৩) কবর বুঝে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা পরিচয় শনাক্তের পর আটটি পরিবারের কাছে তাদের স্বজনদের কবর বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কবরের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, কেউ নিঃশব্দে চোখের জল ফেলেন—রায়েরবাজারে সৃষ্টি হয় এক শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক পরিবেশ। এই পুরো কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মিনেসোটা প্রটোকল অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়েছে। মরদেহ উত্তোলন, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, প্রোফাইলিং এবং পুনঃসমাধিস্থকরণ—প্রতিটি ধাপেই মানবাধিকার ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে বিচারবহির্ভূত ও নির্বিচার হত্যাকাণ্ড বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফরে এসে সিআইডির ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিকেল ফরেনসিক টিমকে দুই দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ দেন। রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ২১ দিনে ১১৪টি মরদেহ উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এই কার্যক্রমে সিআইডির পাশাপাশি সহযোগিতা করে— ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি), ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। উপস্থিত ছিলেন   মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মানবাধিকারভিত্তিক তদন্তে দৃষ্টান্ত রায়েরবাজারে পরিচালিত এই বৃহৎ ফরেনসিক উদ্যোগ বাংলাদেশে মানবাধিকারভিত্তিক তদন্তের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এতে একদিকে শহীদ পরিবারের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ বিচারিক কার্যক্রমের জন্য সংরক্ষিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ।