ঢাকা , বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হঠাৎ করে ঠান্ডা-জ্বরের প্রকোপ বেড়ে গেছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন গ্রামের দখল যুদ্ধ: লক্ষ্মীপুরে গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে বসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর সম্ভাব্য আলোচনার নতুন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার থেকে টানা পতনে পোশাক রপ্তানি, কর্মসংস্থানে শঙ্কার মেঘ কূটনীতিককে পেছন থেকে জড়িয়ে! ঈদের খুনসুটি নাকি ‘অতিরিক্ত আবেগ’—ট্রলে সরব নেটদুনিয়া পরিবারের বাইরে, দায়িত্বেই ঈদ—রাজধানীর সড়কে ব্যস্ত ট্রাফিক পুলিশ ঈদের দিনেও রাজধানীতে সচল গণপরিবহন, যাত্রী কম হলেও চলছে বাস-সিএনজি

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর করবের পাশেই শেষ সমাধি হলো, বিদ্রোহী নেতা ওসমান হাদীর

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১১৯ বার পড়া হয়েছে

  বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর করবের পাশেই শেষ সমাধি হলো,বিদ্রোহী নেতা ওসমান হাদীর।    জেটিভি নিউজ বাংলা, স্পেশাল ডেস্ক ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইংরেজি ৪:৪৬ পিএম। জাতীয় কবি নজরুলের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে বিকেল ৩টায় হাদির মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স কবরস্থানে পৌঁছালে সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দাফনকে কেন্দ্র করে কবরস্থানের আশপাশে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও সোয়াটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও শাহবাগ মোড় থেকে সমাধিসৌধ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত রাখা হয়। এর আগে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শরিফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ভাই ড. মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া মো. গোলাম পরওয়ার, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব জাবের এবং ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। জানাজায় অংশ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “ওসমান হাদি যে স্বপ্ন ও আদর্শ রেখে গেছেন, তা শুধু আমরা নয়—এই দেশের মানুষ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করবে। তার মানবিকতা, মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ভঙ্গি এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।” জানাজার আগে আবেগঘন কণ্ঠে হাদির বড় ভাই ড. মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক তার হত্যার বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, “দিবালোকের মধ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে যদি অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, তাহলে তা জাতির জন্য চরম লজ্জার। আমার কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া নেই, শুধু চাই—আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার এই বাংলার মাটিতেই প্রকাশ্যে হোক।” ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “যারা ওসমান হাদিকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল, তারা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আজ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। আল্লাহ যেন তাকে শাহাদতের মর্যাদা দান করেন এবং তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের তৌফিক দেশবাসীকে দেন।” উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দেশজুড়ে তার মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও ওসমান হাদির নাম উচ্চারিত হচ্ছে সাহস, প্রতিবাদ ও মানবিকতার প্রতীক হিসেবে।

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হঠাৎ করে ঠান্ডা-জ্বরের প্রকোপ বেড়ে গেছে।

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর করবের পাশেই শেষ সমাধি হলো, বিদ্রোহী নেতা ওসমান হাদীর

আপডেট সময় ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর করবের পাশেই শেষ সমাধি হলো,বিদ্রোহী নেতা ওসমান হাদীর।    জেটিভি নিউজ বাংলা, স্পেশাল ডেস্ক ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইংরেজি ৪:৪৬ পিএম। জাতীয় কবি নজরুলের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে বিকেল ৩টায় হাদির মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স কবরস্থানে পৌঁছালে সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দাফনকে কেন্দ্র করে কবরস্থানের আশপাশে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও সোয়াটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও শাহবাগ মোড় থেকে সমাধিসৌধ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত রাখা হয়। এর আগে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শরিফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ভাই ড. মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া মো. গোলাম পরওয়ার, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব জাবের এবং ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। জানাজায় অংশ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “ওসমান হাদি যে স্বপ্ন ও আদর্শ রেখে গেছেন, তা শুধু আমরা নয়—এই দেশের মানুষ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করবে। তার মানবিকতা, মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ভঙ্গি এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।” জানাজার আগে আবেগঘন কণ্ঠে হাদির বড় ভাই ড. মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক তার হত্যার বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, “দিবালোকের মধ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে যদি অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, তাহলে তা জাতির জন্য চরম লজ্জার। আমার কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া নেই, শুধু চাই—আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার এই বাংলার মাটিতেই প্রকাশ্যে হোক।” ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “যারা ওসমান হাদিকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল, তারা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আজ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। আল্লাহ যেন তাকে শাহাদতের মর্যাদা দান করেন এবং তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের তৌফিক দেশবাসীকে দেন।” উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দেশজুড়ে তার মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও ওসমান হাদির নাম উচ্চারিত হচ্ছে সাহস, প্রতিবাদ ও মানবিকতার প্রতীক হিসেবে।