ঢাকা , বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে বসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর সম্ভাব্য আলোচনার নতুন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার থেকে টানা পতনে পোশাক রপ্তানি, কর্মসংস্থানে শঙ্কার মেঘ কূটনীতিককে পেছন থেকে জড়িয়ে! ঈদের খুনসুটি নাকি ‘অতিরিক্ত আবেগ’—ট্রলে সরব নেটদুনিয়া পরিবারের বাইরে, দায়িত্বেই ঈদ—রাজধানীর সড়কে ব্যস্ত ট্রাফিক পুলিশ ঈদের দিনেও রাজধানীতে সচল গণপরিবহন, যাত্রী কম হলেও চলছে বাস-সিএনজি ইসরায়েলে ড্রোন হামলা, নেতানিয়াহু টার্গেট ভিআইপি  বন্দিদের বিষাদময় ঈদ ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা

খুলনায় গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা জলবায়ু পরিবর্তন ও খরচ বৃদ্ধিতে বিলুপ্তির পথে এক সময়ের জনপ্রিয় ফসল

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৩৭ বার পড়া হয়েছে

 

খুলনায় গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা

জলবায়ু পরিবর্তন ও খরচ বৃদ্ধিতে বিলুপ্তির পথে এক সময়ের জনপ্রিয় ফসল জেটিভি নিউজ বাংলা, খুলনা | নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনায় গম চাষের সোনালি দিন এখন কেবলই স্মৃতি। জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা ধীরে ধীরে গম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এক সময় শীত মৌসুমে চাষিদের অন্যতম ভরসা ছিল গম, এখন তারা ঝুঁকছেন অধিক লাভজনক সবজি ও মাছ চাষে। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে খুলনায় গমের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মাত্র ২৪৮ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৭৯৬ মেট্রিক টন। গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৩.২১ মেট্রিক টন। জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গমের আবাদ হয়েছে পাইকগাছায় ৪২ হেক্টর, ডুমুরিয়ায় ২৪ হেক্টর ও রূপসায় ১৮ হেক্টরে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত দশকে গমের আবাদ ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে গমের আবাদ হয়েছিল ৬৯০ হেক্টর জমিতে, ২০১৭-১৮ তে তা নেমে আসে ১৯২ হেক্টরে। ২০২০-২১ মৌসুমে আবাদ হয় ২২১ হেক্টরে এবং গত বছর সর্বনিম্ন ১৩২ হেক্টরে গম চাষ হয়। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, গম চাষের উপযুক্ত সময় নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। কিন্তু আমন ধান কাটতে দেরি হওয়ায় জমি চাষের উপযোগী হতে সময় লাগে, ফলে গম বপনে বিলম্ব ঘটে এবং ফলন কমে যায়। তার ওপর বীজবাহিত ব্লাস্ট রোগ, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গম চাষ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত প্রণোদনা না থাকাও কৃষকদের অনীহা বাড়িয়েছে। পাইকগাছার কৃষক আবুল কালাম বলেন, “গম চাষে খরচ বেশি, লাভ কম। মাছ ও সবজি চাষে আয় বেশি। তবুও কিছু জমিতে করছি, কিন্তু ভবিষ্যতে হয়তো গমের আবাদ বন্ধই করে দেব।” জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুস সামাদ বলেন, “খুলনায় গমের আবাদ ক্রমেই কমছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেরিতে জো আসা এবং লবণাক্ততা এর মূল কারণ। কৃষকরা লাভজনক বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।” তবে আশার আলো দেখছেন কৃষি কর্মকর্তারা। সম্প্রতি উদ্ভাবিত ‘বিডব্লিউএমআরআই-৪’ নামের নতুন জাতটি তাপ সহনশীল ও মরিচা রোগ প্রতিরোধী, যার গড় ফলন সাড়ে চার থেকে সাড়ে পাঁচ টন পর্যন্ত। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, লবণাক্ত সহনশীল জাত উদ্ভাবন ও প্রণোদনা বাড়ানো গেলে খুলনায় আবারও আংশিকভাবে গম চাষ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
 

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে বসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি।

খুলনায় গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা জলবায়ু পরিবর্তন ও খরচ বৃদ্ধিতে বিলুপ্তির পথে এক সময়ের জনপ্রিয় ফসল

আপডেট সময় ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
 

খুলনায় গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা

জলবায়ু পরিবর্তন ও খরচ বৃদ্ধিতে বিলুপ্তির পথে এক সময়ের জনপ্রিয় ফসল জেটিভি নিউজ বাংলা, খুলনা | নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনায় গম চাষের সোনালি দিন এখন কেবলই স্মৃতি। জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা ধীরে ধীরে গম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এক সময় শীত মৌসুমে চাষিদের অন্যতম ভরসা ছিল গম, এখন তারা ঝুঁকছেন অধিক লাভজনক সবজি ও মাছ চাষে। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে খুলনায় গমের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মাত্র ২৪৮ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৭৯৬ মেট্রিক টন। গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৩.২১ মেট্রিক টন। জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গমের আবাদ হয়েছে পাইকগাছায় ৪২ হেক্টর, ডুমুরিয়ায় ২৪ হেক্টর ও রূপসায় ১৮ হেক্টরে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত দশকে গমের আবাদ ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে গমের আবাদ হয়েছিল ৬৯০ হেক্টর জমিতে, ২০১৭-১৮ তে তা নেমে আসে ১৯২ হেক্টরে। ২০২০-২১ মৌসুমে আবাদ হয় ২২১ হেক্টরে এবং গত বছর সর্বনিম্ন ১৩২ হেক্টরে গম চাষ হয়। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, গম চাষের উপযুক্ত সময় নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। কিন্তু আমন ধান কাটতে দেরি হওয়ায় জমি চাষের উপযোগী হতে সময় লাগে, ফলে গম বপনে বিলম্ব ঘটে এবং ফলন কমে যায়। তার ওপর বীজবাহিত ব্লাস্ট রোগ, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গম চাষ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত প্রণোদনা না থাকাও কৃষকদের অনীহা বাড়িয়েছে। পাইকগাছার কৃষক আবুল কালাম বলেন, “গম চাষে খরচ বেশি, লাভ কম। মাছ ও সবজি চাষে আয় বেশি। তবুও কিছু জমিতে করছি, কিন্তু ভবিষ্যতে হয়তো গমের আবাদ বন্ধই করে দেব।” জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুস সামাদ বলেন, “খুলনায় গমের আবাদ ক্রমেই কমছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেরিতে জো আসা এবং লবণাক্ততা এর মূল কারণ। কৃষকরা লাভজনক বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।” তবে আশার আলো দেখছেন কৃষি কর্মকর্তারা। সম্প্রতি উদ্ভাবিত ‘বিডব্লিউএমআরআই-৪’ নামের নতুন জাতটি তাপ সহনশীল ও মরিচা রোগ প্রতিরোধী, যার গড় ফলন সাড়ে চার থেকে সাড়ে পাঁচ টন পর্যন্ত। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, লবণাক্ত সহনশীল জাত উদ্ভাবন ও প্রণোদনা বাড়ানো গেলে খুলনায় আবারও আংশিকভাবে গম চাষ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।