ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর পৃথক অভিযানে সশস্ত্র সংগঠনের এক সদস্য নিহত, আত্মসমর্পণ দুই জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় হত্যা চেষ্টা মামলায় মমতাজ বেগমকে নতুন করে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো ৫,৪৮২ টাকা; রুপার দামও কমিয়েছে বাজুস চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের প্রত্যাশা বিদেশি দূতাবাস ও ভিসা সেন্টারের অর্থ প্রেরণ সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি ক্রয়ে ৪৬ মার্কিন কোম্পানির পণ্য কেনায় নিষেধাজ্ঞা দিল চীন সিলেট ডিসির বদলির সঙ্গে মাজার ইস্যুর কোনো সম্পর্ক নেই: তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সংসদে,  মসজিদে রাজনীতি, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ও মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে তুমুল আলোচনা সাভার এলজিইডিতে দুর্নীতির ‘সিন্ডিকেট’ অভিযোগ: ১৮ বছর একই কার্যালয়ে অ্যাকাউন্টেন্ট,নিম্নমানের কাজ নিয়ে ক্ষোভ মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নিখোঁজের ৬ দিন পর স্কুলছাত্রীর খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে সহপাঠী

চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নগরী এখন সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য!

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১৪ জুন ২০২৬ ইং,সময়: সকাল ১০:২৭ মিনিট।

চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নগরী এখন সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য!

  সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বে থমকে জঙ্গল সলিমপুরের উন্নয়ন: বাস্তবায়নের অপেক্ষায় স্পোর্টস ভিলেজ, হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও কেন্দ্রীয় কারাগার-২ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে আধুনিক উপশহরে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সরকার গত পাঁচ বছর ধরে একাধিক বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু চক্রের দখলদারিত্বই এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে স্পোর্টস ভিলেজ, হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, ইকোপার্ক, নাইট সাফারি পার্ক, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার-২, সবুজ শিল্প এলাকা, আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর ওপর চাপ কমার পাশাপাশি সৃষ্টি হবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এবং বদলে যাবে পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র। তিন হাজার ১০০ একর খাস জমিকে ঘিরে সরকারের মহাপরিকল্পনা জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জঙ্গল সলিমপুরের পাঁচটি মৌজায় প্রায় তিন হাজার ১০০ একর সরকারি খাস জমি রয়েছে। পূর্ব ও উত্তরে চট্টগ্রাম সেনানিবাস এবং বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি, পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণে চট্টগ্রাম নগরী দ্বারা বেষ্টিত এ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু। ভৌগোলিক অবস্থান ও বিস্তীর্ণ খাস জমির কারণে জঙ্গল সলিমপুরকে নগর সম্প্রসারণের বিকল্প এলাকা হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি পরিকল্পনায় যেসব প্রকল্প

জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরে স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ, হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল স্থাপন, ইকোপার্ক ও নাইট সাফারি পার্ক, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার-২, উচ্চক্ষমতার বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র, পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রশিক্ষণকেন্দ্র, কাস্টমস ডাম্পিং হাউজ, ভূমিহীনদের পুনর্বাসন প্রকল্প, সবুজ শিল্প এলাকা এবং আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ আরও বেশ কিছু বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে নগরীর ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, ক্রীড়া, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

কেন্দ্রীয় কারাগার-২ নির্মাণের পরিকল্পনা

চট্টগ্রামে বর্তমানে একটি কেন্দ্রীয় কারাগার রয়েছে। এক হাজার ৭১৩ জনের ধারণক্ষমতার এই কারাগারে বর্তমানে প্রায় ছয় হাজার বন্দি রয়েছে। ফলে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি বন্দিকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জঙ্গল সলিমপুরে দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগরের কাছাকাছি নতুন কারাগার নির্মিত হলে বন্দি ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি আসবে। একইসঙ্গে কারাগারকেন্দ্রিক প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “চট্টগ্রামে কারাগারের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি আগে থেকেই বিবেচনায় ছিল। জঙ্গল সলিমপুরে নতুন একটি কারাগার প্রতিষ্ঠার আলোচনা চলছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম কারাগারে মাদক, মহানগর, জেলা ও সন্ত্রাস প্রকৃতির বন্দি রয়েছে। তাদের জন্য পৃথক কারাগার হলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসতে পারে।” ইকোপার্ক ও নাইট সাফারি পার্কে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা চট্টগ্রাম নগরীতে এখনও বড় পরিসরের উন্মুক্ত পার্কের অভাব রয়েছে। এ কারণে জঙ্গল সলিমপুরে ইকোপার্ক ও নাইট সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের আদলে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নাইট সাফারি পার্ক নির্মাণ করা হবে এখানে। প্রায় ৫৭ দশমিক ৫০ একর জমির ওপর নির্মিতব্য এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। একইসঙ্গে পাহাড় ও বনাঞ্চল সংরক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের সুযোগও তৈরি হবে। পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা গত তিন দশকে জঙ্গল সলিমপুরের শত শত একর পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে হাজার হাজার বাড়িঘর। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সমিতির নামে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে আবাসিক প্লট। মাত্র ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লাখ লাখ টাকায় এসব জমির মালিকানা বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ একরের বেশি পাহাড় কেটে ফেলা হয়েছে। তবে পরিবেশবাদীদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। চট্টগ্রাম পরিবেশ ফোরামের তথ্যমতে, গত দুই দশকে ৪০ থেকে ৫০ জন চিহ্নিত ভূমিদস্যু জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় নিজেদের প্রভাব বলয় গড়ে তুলেছে। তাদের সহযোগী হিসেবে রয়েছে আরও প্রায় ৩০০ দখলদার। সংগঠনটির দাবি, ২০০০ সালের পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে ভূমিদস্যুরা নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি পাহাড় কেটে প্লট তৈরি করে হাজার হাজার ছিন্নমূল মানুষের কাছে বিক্রি ও ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসব পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আস্তানা গড়ে ওঠে। আধিপত্য বিস্তার ও অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে নিয়মিত সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। পরিবেশ ফোরামের দাবি, ভূমিদস্যুরা এ অঞ্চলের প্রায় ৪০ শতাংশ পাহাড় ধ্বংস করেছে।

সমবায়ের আড়ালে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের সরকারি খাস জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে ১৫টি সমবায় সমিতির নামে হাউজিং প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে আলী নগর ভূমিহীন সমবায় সমিতি, ছিন্নমূল বহুমুখী সমবায় সমিতি, একতা ভূমিহীন সমবায় সমিতি, নুর নবী শাহ হাউজিং সমবায় সমিতি, জঙ্গল সলিমপুর জনকল্যাণ কর্মজীবী সমবায় সমিতি, গোলপাহাড়া ভূমিহীন সমবায় সমিতি, আল মদিনা সমবায় সমিতি, মায়ের আঁচল সমবায় সমিতি, ভিত্তিহীন সমবায় সমিতি, চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল সংগ্রামী বস্তিবাসী সমন্বয় পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা হাউজিং সমবায় সমিতি, নবীনগর বহুমুখী সমবায় সমিতি এবং আলী নগর বহুমুখী সমবায় সমিতি। এসব সমিতির অনেকগুলোর বিরুদ্ধে খাস জমি দখল, পাহাড় কাটা ও প্লট বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫টি সমবায় সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।

উন্নয়নের পূর্বশর্ত জমি উদ্ধার

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গল সলিমপুরে পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো পুরো এলাকা সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা। এজন্য অবৈধ দখল উচ্ছেদ, জমির সীমানা নির্ধারণ, জরিপ সম্পন্ন এবং পাহাড় ধ্বংস বন্ধ করতে হবে। তাদের মতে, ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী চক্রের প্রভাবমুক্ত করা গেলে জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রামের নতুন অর্থনৈতিক, আবাসিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। বদলে যেতে পারে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের নগরায়ণে নতুন মাত্রা যোগ হবে। সৃষ্টি হবে হাজার হাজার কর্মসংস্থান। পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্পায়ন ও আবাসন খাতে নতুন বিনিয়োগ আসবে। সন্ত্রাস, পাহাড় কাটা ও ভূমিদস্যুতার জন্য পরিচিত এ অঞ্চল পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামের অন্যতম সম্ভাবনাময় উপশহরে রূপ নিতে পারে। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আগে সরকারি জমিকে সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বাধা ইয়াসিন ও রোকন বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পাহাড়বেষ্টিত জঙ্গল সলিমপুরে অস্থিরতা তৈরির নেপথ্যে রয়েছে ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন এবং রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ইয়াসিন জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকার অবৈধ দখলদার এবং ‘একচ্ছত্র স্বঘোষিত রাজা’ হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর কারণেই সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। সবশেষ গত ২৪ মে গভীর রাতে আলীনগর এলাকায় যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, প্রায় ৩০০ জনের সশস্ত্র দল হামলায় অংশ নেয় এবং একে-৪৭সহ বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। পরিকল্পিতভাবে ইয়াসিন বাহিনী এ হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়। হামলার সময় বুলডোজার দিয়ে নির্মাণাধীন একটি ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলাচল ব্যাহত করতে সড়কের বিভিন্ন অংশ কেটে দেওয়া হয়। ঘটনার পর র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান কিংবা তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও মন্ত্রণালয় থেকে কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি। চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অতীতে যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।” জঙ্গল সলিমপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখনো অনিশ্চয়তায় থাকলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দখলদার ও সন্ত্রাসী চক্রের প্রভাব দূর করে সরকারি জমি উদ্ধার করা গেলে এই অঞ্চল ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের অন্যতম আধুনিক উপশহর এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে.....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর পৃথক অভিযানে সশস্ত্র সংগঠনের এক সদস্য নিহত, আত্মসমর্পণ দুই

চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নগরী এখন সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য!

আপডেট সময় ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১৪ জুন ২০২৬ ইং,সময়: সকাল ১০:২৭ মিনিট।

চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নগরী এখন সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য!

  সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বে থমকে জঙ্গল সলিমপুরের উন্নয়ন: বাস্তবায়নের অপেক্ষায় স্পোর্টস ভিলেজ, হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও কেন্দ্রীয় কারাগার-২ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে আধুনিক উপশহরে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সরকার গত পাঁচ বছর ধরে একাধিক বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু চক্রের দখলদারিত্বই এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে স্পোর্টস ভিলেজ, হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, ইকোপার্ক, নাইট সাফারি পার্ক, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার-২, সবুজ শিল্প এলাকা, আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর ওপর চাপ কমার পাশাপাশি সৃষ্টি হবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এবং বদলে যাবে পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র। তিন হাজার ১০০ একর খাস জমিকে ঘিরে সরকারের মহাপরিকল্পনা জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জঙ্গল সলিমপুরের পাঁচটি মৌজায় প্রায় তিন হাজার ১০০ একর সরকারি খাস জমি রয়েছে। পূর্ব ও উত্তরে চট্টগ্রাম সেনানিবাস এবং বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি, পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণে চট্টগ্রাম নগরী দ্বারা বেষ্টিত এ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু। ভৌগোলিক অবস্থান ও বিস্তীর্ণ খাস জমির কারণে জঙ্গল সলিমপুরকে নগর সম্প্রসারণের বিকল্প এলাকা হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি পরিকল্পনায় যেসব প্রকল্প

জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরে স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ, হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল স্থাপন, ইকোপার্ক ও নাইট সাফারি পার্ক, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার-২, উচ্চক্ষমতার বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র, পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রশিক্ষণকেন্দ্র, কাস্টমস ডাম্পিং হাউজ, ভূমিহীনদের পুনর্বাসন প্রকল্প, সবুজ শিল্প এলাকা এবং আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ আরও বেশ কিছু বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে নগরীর ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, ক্রীড়া, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

কেন্দ্রীয় কারাগার-২ নির্মাণের পরিকল্পনা

চট্টগ্রামে বর্তমানে একটি কেন্দ্রীয় কারাগার রয়েছে। এক হাজার ৭১৩ জনের ধারণক্ষমতার এই কারাগারে বর্তমানে প্রায় ছয় হাজার বন্দি রয়েছে। ফলে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি বন্দিকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জঙ্গল সলিমপুরে দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগরের কাছাকাছি নতুন কারাগার নির্মিত হলে বন্দি ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি আসবে। একইসঙ্গে কারাগারকেন্দ্রিক প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “চট্টগ্রামে কারাগারের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি আগে থেকেই বিবেচনায় ছিল। জঙ্গল সলিমপুরে নতুন একটি কারাগার প্রতিষ্ঠার আলোচনা চলছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম কারাগারে মাদক, মহানগর, জেলা ও সন্ত্রাস প্রকৃতির বন্দি রয়েছে। তাদের জন্য পৃথক কারাগার হলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসতে পারে।” ইকোপার্ক ও নাইট সাফারি পার্কে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা চট্টগ্রাম নগরীতে এখনও বড় পরিসরের উন্মুক্ত পার্কের অভাব রয়েছে। এ কারণে জঙ্গল সলিমপুরে ইকোপার্ক ও নাইট সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের আদলে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নাইট সাফারি পার্ক নির্মাণ করা হবে এখানে। প্রায় ৫৭ দশমিক ৫০ একর জমির ওপর নির্মিতব্য এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। একইসঙ্গে পাহাড় ও বনাঞ্চল সংরক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের সুযোগও তৈরি হবে। পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা গত তিন দশকে জঙ্গল সলিমপুরের শত শত একর পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে হাজার হাজার বাড়িঘর। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সমিতির নামে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে আবাসিক প্লট। মাত্র ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লাখ লাখ টাকায় এসব জমির মালিকানা বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ একরের বেশি পাহাড় কেটে ফেলা হয়েছে। তবে পরিবেশবাদীদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। চট্টগ্রাম পরিবেশ ফোরামের তথ্যমতে, গত দুই দশকে ৪০ থেকে ৫০ জন চিহ্নিত ভূমিদস্যু জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় নিজেদের প্রভাব বলয় গড়ে তুলেছে। তাদের সহযোগী হিসেবে রয়েছে আরও প্রায় ৩০০ দখলদার। সংগঠনটির দাবি, ২০০০ সালের পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে ভূমিদস্যুরা নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি পাহাড় কেটে প্লট তৈরি করে হাজার হাজার ছিন্নমূল মানুষের কাছে বিক্রি ও ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসব পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আস্তানা গড়ে ওঠে। আধিপত্য বিস্তার ও অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে নিয়মিত সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। পরিবেশ ফোরামের দাবি, ভূমিদস্যুরা এ অঞ্চলের প্রায় ৪০ শতাংশ পাহাড় ধ্বংস করেছে।

সমবায়ের আড়ালে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের সরকারি খাস জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে ১৫টি সমবায় সমিতির নামে হাউজিং প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে আলী নগর ভূমিহীন সমবায় সমিতি, ছিন্নমূল বহুমুখী সমবায় সমিতি, একতা ভূমিহীন সমবায় সমিতি, নুর নবী শাহ হাউজিং সমবায় সমিতি, জঙ্গল সলিমপুর জনকল্যাণ কর্মজীবী সমবায় সমিতি, গোলপাহাড়া ভূমিহীন সমবায় সমিতি, আল মদিনা সমবায় সমিতি, মায়ের আঁচল সমবায় সমিতি, ভিত্তিহীন সমবায় সমিতি, চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল সংগ্রামী বস্তিবাসী সমন্বয় পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা হাউজিং সমবায় সমিতি, নবীনগর বহুমুখী সমবায় সমিতি এবং আলী নগর বহুমুখী সমবায় সমিতি। এসব সমিতির অনেকগুলোর বিরুদ্ধে খাস জমি দখল, পাহাড় কাটা ও প্লট বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫টি সমবায় সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।

উন্নয়নের পূর্বশর্ত জমি উদ্ধার

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গল সলিমপুরে পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো পুরো এলাকা সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা। এজন্য অবৈধ দখল উচ্ছেদ, জমির সীমানা নির্ধারণ, জরিপ সম্পন্ন এবং পাহাড় ধ্বংস বন্ধ করতে হবে। তাদের মতে, ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী চক্রের প্রভাবমুক্ত করা গেলে জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রামের নতুন অর্থনৈতিক, আবাসিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। বদলে যেতে পারে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের নগরায়ণে নতুন মাত্রা যোগ হবে। সৃষ্টি হবে হাজার হাজার কর্মসংস্থান। পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্পায়ন ও আবাসন খাতে নতুন বিনিয়োগ আসবে। সন্ত্রাস, পাহাড় কাটা ও ভূমিদস্যুতার জন্য পরিচিত এ অঞ্চল পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামের অন্যতম সম্ভাবনাময় উপশহরে রূপ নিতে পারে। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আগে সরকারি জমিকে সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বাধা ইয়াসিন ও রোকন বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পাহাড়বেষ্টিত জঙ্গল সলিমপুরে অস্থিরতা তৈরির নেপথ্যে রয়েছে ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন এবং রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ইয়াসিন জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকার অবৈধ দখলদার এবং ‘একচ্ছত্র স্বঘোষিত রাজা’ হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর কারণেই সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। সবশেষ গত ২৪ মে গভীর রাতে আলীনগর এলাকায় যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, প্রায় ৩০০ জনের সশস্ত্র দল হামলায় অংশ নেয় এবং একে-৪৭সহ বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। পরিকল্পিতভাবে ইয়াসিন বাহিনী এ হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়। হামলার সময় বুলডোজার দিয়ে নির্মাণাধীন একটি ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলাচল ব্যাহত করতে সড়কের বিভিন্ন অংশ কেটে দেওয়া হয়। ঘটনার পর র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান কিংবা তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও মন্ত্রণালয় থেকে কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি। চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অতীতে যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।” জঙ্গল সলিমপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখনো অনিশ্চয়তায় থাকলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দখলদার ও সন্ত্রাসী চক্রের প্রভাব দূর করে সরকারি জমি উদ্ধার করা গেলে এই অঞ্চল ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের অন্যতম আধুনিক উপশহর এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে.....