জেটিভি নিউজ বাংলা
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬ ইং,সনয় ঃ৷ বেলা ০১:৪৮ মিনিট।দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ৬ যুবকের আমৃত্যু কারাদণ্ড, প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা
চার বছর আগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন শেষে বাসায় ফেরার পথে দুই তরুণীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ৬ যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— রাহুল (২৩), মো. ডায়মন্ড (২০), আফসার উদ্দিন অনিম (২২), পারভেজ হক পলাশ (২৫), মিনহাজ ওরফে মিনহাজ আবেদীন (২১) এবং মিনহাজ ওরফে বাবু ওরফে মিনহাজ বাবু (২৪)। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (কালেক্টর)কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি আরও জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রাহুল পলাতক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অপর পাঁচ আসামিকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।যেভাবে ঘটেছিল নৃশংস ঘটনা
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন বিকেলে দুই তরুণী ও তাদের কয়েকজন বন্ধু এক বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন করতে বের হন। রাত পৌনে ১০টার দিকে তারা কেরানীগঞ্জের পানকৌড়ি রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে শুভাঢ্যা এলাকায় বাসায় ফেরার জন্য অটোরিকশার অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি অটোমিশুক নিয়ে আসামিরা তাদের পথরোধ করে। পরে মারধর করতে করতে রতনের খামার এলাকার একটি নির্জন অন্ধকার মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে দুই তরুণীর বন্ধুদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মারধর করা হয় এবং তাদের টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর দুই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। আসামিরা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে এবং ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোনও নিয়ে নেয়। পরে দুই তরুণীর বন্ধুরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে।তদন্ত ও বিচার
ঘটনার চার দিন পর, ২০২২ সালের ২৯ জুন এক ভুক্তভোগীর বাবা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র্যাব মিনহাজ আবেদীনকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে এক ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। সেই মোবাইলেই দুই তরুণীকে ধর্ষণের ভিডিও পাওয়া যায়, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। তদন্ত শেষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরজিৎ কুমার ঘোষ ৬ যুবকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল ৬ আসামির বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।জেটিভি নিউজ বাংলা
দেশ ও দশের কথা বলে.....

স্টাফ রিপোর্টার 














