ঢাকা , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদের মামলা—১১ মে চার্জগঠন শুনানি বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়েছে দেশের স্বর্ণবাজারে। কালিয়াকৈরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ওষুধ কারখানার কর্মচারী হত্যা, গ্রেফতার ২ ১৪ আইনজীবীকে মামলা থেকে অব্যাহতি  দিনাজপুরে অগ্নিকাণ্ডে দম্পতির মৃত্যু চাকরির দেওয়ার নামে যৌন সঙ্গী খোঁজা যার কাজ তিন গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিল সরকার বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্বিগুণ, দেশে সীমিত সমন্বয়—মন্ত্রী টুকু হরমুজ প্রণালি—উত্তপ্ত রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারের স্পর্শকাতর কেন্দ্রবিন্দু বাগমারায় অস্ত্রসহ কিশোর আটক, উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ অবরুদ্ধ

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে বর্ণিল ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

১৪ এপ্রিল ২০২৬ ইং| সকাল ০৯: ৫১ মিনিট।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে বর্ণিল ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।

  মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে এই ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার সূচনা হয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ এতে অংশ নিয়ে উৎসবকে করে তুলেছেন প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে শোভাযাত্রাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে এর নাম পরিবর্তিত হলেও এর সাংস্কৃতিক তাৎপর্য অপরিবর্তিত রয়েছে। যশোরে এটি ‘বর্ষবরণ শোভাযাত্রা’ এবং ঢাকায় ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিত ছিল। তিন দশকেরও বেশি সময় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিত থাকার পর বর্তমানে এটি ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে আয়োজন করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো এই শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়। এ বছরের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের সুরে ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ’। শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত বিভিন্ন মোটিফে ফুটে উঠেছে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রতীকী বার্তা। মোরগকে দেখানো হয়েছে গণতান্ত্রিক ভোরের প্রতীক হিসেবে, হাতি বহন করছে সোনারগাঁওয়ের ঐতিহ্য, পায়রা শান্তির বার্তা দিচ্ছে। টেপা পুতুল ও ঘোড়া গ্রামীণ সংস্কৃতিকে তুলে ধরছে, আর দোতারা বাউল সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংহতি এবং তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। শোভাযাত্রায় পাঁচটি বড় মোটিফের পাশাপাশি রয়েছে পাঁচটি পটচিত্র, যা নির্মাণ করেছেন পটচিত্রী টাইগার নাজির। এসব পটচিত্রে সুন্দরবনের জীবিকা নির্ভর মানুষের দেবী বনবিবি, বাংলা নববর্ষের প্রবর্তক মুঘল সম্রাট আকবর, বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গাজীর পট এবং মঙ্গলকাব্যের বেহুলা চরিত্রকে তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পুলিশের অশ্বারোহী দল শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেয়। এরপর জাতীয় পতাকা বহনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের মিছিল, প্রধান ব্যানারসহ রাষ্ট্রীয় অতিথি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এগিয়ে যান। তাদের পেছনে ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, আবাসিক হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও কর্মচারীরা। এরপর জাসাস ও জাতীয় কবিতা পরিষদের সদস্যরা একযোগে মিছিল করেন। শোভাযাত্রায় ছিল পাঁচটি বড় মোটিফ, ঢাকের বাদ্যদল এবং ১৫০ ফুট দীর্ঘ স্ক্রল পেইন্টিং। সবশেষে অংশ নেন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী এবং দেশের ১১৫টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। বর্ণিল আয়োজন, ঐতিহ্য ও বার্তার সমন্বয়ে এবারের বৈশাখী শোভাযাত্রা নতুন বছরের সূচনাকে আরও অর্থবহ ও উদযাপনমুখর করে তুলেছে।

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদের মামলা—১১ মে চার্জগঠন শুনানি

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে বর্ণিল ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।

আপডেট সময় ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

১৪ এপ্রিল ২০২৬ ইং| সকাল ০৯: ৫১ মিনিট।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে বর্ণিল ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।

  মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে এই ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার সূচনা হয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ এতে অংশ নিয়ে উৎসবকে করে তুলেছেন প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে শোভাযাত্রাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে এর নাম পরিবর্তিত হলেও এর সাংস্কৃতিক তাৎপর্য অপরিবর্তিত রয়েছে। যশোরে এটি ‘বর্ষবরণ শোভাযাত্রা’ এবং ঢাকায় ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিত ছিল। তিন দশকেরও বেশি সময় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিত থাকার পর বর্তমানে এটি ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে আয়োজন করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো এই শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়। এ বছরের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের সুরে ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ’। শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত বিভিন্ন মোটিফে ফুটে উঠেছে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রতীকী বার্তা। মোরগকে দেখানো হয়েছে গণতান্ত্রিক ভোরের প্রতীক হিসেবে, হাতি বহন করছে সোনারগাঁওয়ের ঐতিহ্য, পায়রা শান্তির বার্তা দিচ্ছে। টেপা পুতুল ও ঘোড়া গ্রামীণ সংস্কৃতিকে তুলে ধরছে, আর দোতারা বাউল সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংহতি এবং তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। শোভাযাত্রায় পাঁচটি বড় মোটিফের পাশাপাশি রয়েছে পাঁচটি পটচিত্র, যা নির্মাণ করেছেন পটচিত্রী টাইগার নাজির। এসব পটচিত্রে সুন্দরবনের জীবিকা নির্ভর মানুষের দেবী বনবিবি, বাংলা নববর্ষের প্রবর্তক মুঘল সম্রাট আকবর, বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গাজীর পট এবং মঙ্গলকাব্যের বেহুলা চরিত্রকে তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পুলিশের অশ্বারোহী দল শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেয়। এরপর জাতীয় পতাকা বহনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের মিছিল, প্রধান ব্যানারসহ রাষ্ট্রীয় অতিথি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এগিয়ে যান। তাদের পেছনে ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, আবাসিক হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও কর্মচারীরা। এরপর জাসাস ও জাতীয় কবিতা পরিষদের সদস্যরা একযোগে মিছিল করেন। শোভাযাত্রায় ছিল পাঁচটি বড় মোটিফ, ঢাকের বাদ্যদল এবং ১৫০ ফুট দীর্ঘ স্ক্রল পেইন্টিং। সবশেষে অংশ নেন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী এবং দেশের ১১৫টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। বর্ণিল আয়োজন, ঐতিহ্য ও বার্তার সমন্বয়ে এবারের বৈশাখী শোভাযাত্রা নতুন বছরের সূচনাকে আরও অর্থবহ ও উদযাপনমুখর করে তুলেছে।