ঢাকা , বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কক্সবাজার বিমানবন্দরে ফিরছে আন্তর্জাতিক মর্যাদা, চালু হবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বর্ণের দামে আবারও ঊর্ধ্বগতি, ভরিতে বেড়েছে ২,২১৬ টা ই-ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ালো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সাভারে জমির নথিপত্রে ভয়ংকর জালিয়াতি: সিরাজুল ইসলামের ‘খুঁটির জোর’ কোথায়? শেরপুরের নবীনগরে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা: ইতিহাস, জনশ্রুতি আর গ্রামবাংলার উৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে বর্ণিল ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ চালু হলেও শুরুতেই ভোগান্তি, সার্ভার জটিলতায় বিপাকে গ্রাহকরা মানবিকতার স্পর্শে ফিরে পেলেন হারানো মোবাইল—অজ্ঞাত বাইকারে আবেগে ভাসলেন চেয়ারম্যান তীব্র গরমে পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি, অবহেলায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি রাজধানীতে বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের ইন্তেকাল

কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ চালু হলেও শুরুতেই ভোগান্তি, সার্ভার জটিলতায় বিপাকে গ্রাহকরা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ইং | সময়: ০৮:০৬ মিনিট।

কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ চালু হলেও শুরুতেই ভোগান্তি, সার্ভার জটিলতায় বিপাকে গ্রাহকরা

কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালুর মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নিলেও শুরুতেই ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি পেট্রোলপাম্পে চালু করা এই সেবা সার্ভার সমস্যায় বারবার ব্যাহত হচ্ছে, ফলে নিবন্ধন করা কিংবা না করা— কেউই প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে ঢাকার তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ও আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উদ্যোগে তৈরি এ ব্যবস্থায় ‘কিউআর কোড’ স্ক্যান করে নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি তেল নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অন্য পেট্রোলপাম্পে পাস ছাড়াই তেল নেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। এরপর শনিবার ৫টি পাম্পে শুরুর এক দিনের মাথায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর রবিবার থেকে সাতটি পাম্পে চালুর ঘোষণা দেয়া হলেও আজ সোমবার অ্যাপসের সার্ভার ডাউন বা সার্ভারে ঢুকে রেজিস্ট্রেশন করা যাচ্ছে না বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। আবার রেজিস্ট্রেশন করার পর পাম্পে গিয়ে দেখেন পাম্পের সার্ভার ডাউন— তাই তার সব লাইন এক করেই তেল দিচ্ছে। এতে করে যারা ফুয়েল পাসের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন বা যা করেননি তারা কেউই এই পাসের সুবিধা এখনও পুরোপুরি পাচ্ছেন না। যে যাই কারণ দেখাক না কেন— দিনশেষে তেল চাহিদা মতো না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। তবে দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে পেট্রোলপাম্পে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেয়— তেল নিতে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টার পাম্পের সামনে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এই অবস্থায় সমস্যা সমাধানে গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় ডিজিটাল সিস্টেমে ফুয়েল পাস চালুর ঘোষণা দেয়। সোমবার কয়েকটি পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, ফুয়েল পাসের জন্য আলাদা লাইন করা হয়েছে, যেখানে একজন মোটরসাইকেলচালক এক হাজার টাকা পর্যন্ত তেল নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আর যারা অ্যাপ ডাউনলোড বা ফুয়েল পাসের জন্য নিবন্ধন করেননি, তাদের দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল। কিন্তু অনেক স্টেশনে ফুয়েল পাসের সমস্যার কারণে সব এক লাইনের দীর্ঘ অপেক্ষা করে তেল নিচ্ছে। সন্ধ্যায় দেখা যায়, শেরাটনের বিপরীতে থাকা মেঘনা পাম্পের লাইন আজিজ সুপার মার্কেটের ওপাশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। খিলক্ষেতে যানবাহনের সারি দীর্ঘ হয়ে ‘লে মেরিডিয়ান’ হোটেল পর্যন্ত ঠেকেছে। আলাদা কোনও ফুয়েল পাস লাইন না থাকায় ভোগান্তি চরমে। সোনার বাংলা পাম্পে লাইনের দৈর্ঘ্য অনেক বেশি, এখানেও আলাদা কোনও সেবার ব্যবস্থা নেই। এয়ারপোর্ট বিপরীতে থাকা পেট্রোল পাম্প ও সুমাত্রা পাম্পে উভয় পাম্পেই লাইনের দূরত্ব এবং দৈর্ঘ্য অনেক বেশি। আলাদা কোনও শৃঙ্খলার ব্যবস্থা না থাকায় সব গাড়ি একই লাইনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছে। ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনেও কোনও স্পেশাল বা ফুয়েল পাস লাইন নেই; ফলে সব ধরনের যানবাহন একই সারিতে দাঁড়িয়ে আছে। সবগুলো পাম্পেই আলাদা কোনও ফুয়েল পাস লাইন না থাকা এবং বিশৃঙ্খলভাবে দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় যানজট ও জনভোগান্তি তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভোগান্তির কথা জানাতে গিয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের গণযোগাযোগ বিভাগের লেকচারার আল আমিন রাকিব বলেন, “প্রথম দিনই ফুয়েল পাসের অ্যাপসে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম। এরপর পাম্পে গিয়ে দেখি সার্ভারে সমস্যা— তেল দিচ্ছে না। পরে তেল দেওয়া শুরু করলেও এক লাইনে সব। কারণ নানা জটিলতায় নাকি পাম্পে অ্যাপস চেক করতে পারছে না। তবে ফুয়েল পাসের সুবিধা এখনও আমরা পাচ্ছি না। আগে ট্যাংকি ফুল করে নিলে এক সপ্তাহ চলে যেতো। এখন যে পরিমাণ তেল দেয় তাতে করে সপ্তাহে দুইবার তেল নিতে আসতে হচ্ছে।” এদিকে আজ সকাল থেকে অনেকেই নিবন্ধন করতে পারছিলেন না। ফুয়েল পাসের জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইটটি কেউ ঢুকতে পারছেন না। সকালের দিকে সাইটটিতে প্রবেশ করা গেলেও নিবন্ধন করা যাচ্ছিল না। এদিকে রাতে বেশ কয়েকটা স্টেশনে ফুয়েল পাস ছাড়া তেল দেওয়া হবে না বলে নোটিশ ট্যাংকি দেওয়া হয়। সোনার বাংলা পাম্পে তেল নিতে আসা এলিফ্যান্ট রোড থেকে আসা জাকির হোসেন বলেন, “দুদিন ধরে তেল নিতে না পেরে মোটরসাইকেল বন্ধ হয়ে গেছে। সকালে অনলাইনে গিয়ে নিবন্ধন করার সময় জটিলতার মুখে পড়ি। এখন এখানে এসেও সমাধান হলো না। এবং লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছি।” একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান, মামুন হোসেন নামের এক বেসরকারি চাকুরিজীবী। তিনি বলেন, “অফিসে আসা যাওয়া করার তেলও নেওয়ার সময় পাচ্ছি না। অফিস টাইমে এসে এত সময় বসে থাকা যায় না। অপরদিকে ছুটির দিকে লাইন হয় আরও অনেক বড়। তাই আজকে অফিস থেকে ছুটি নিয়েই তেল নিতে এসেছি। তিনি বলেন, “এমনিতেই তেল নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। এখন আবার নতুন করে ফুয়েল পাস নিয়ে যে ঝামেলা হচ্ছে তা কে দেখবে? সরকার হুট করে এসব না করে আমাদের প্রয়োজন মতো তেল দিয়ে দিলেই তো হয়। কেউ তো তেল কিনে খাবে না। সেটা তো পরিবহনেই ব্যবহার করা হবে। তাহলে এই তেল দিতে এতো সমস্যার কারণ তো আমরা বুঝতে পারছি না।” এদিকে জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন পদ্ধতিটি চালুর পর ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত প্রায় ৫১ হাজার মোটরসাইকেল চালক নিবন্ধন করেন। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত চাপের কারণে বিআরটিএ’র সার্ভারে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়। ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা যাচাই ও সিস্টেম আরও উন্নত করতে কাজ করা হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ জানায়, সার্ভারের সক্ষমতা বাড়িয়ে দ্রুতই এটি আরও কার্যকর করা হবে। শুরুতে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য চালু হলেও পরে অন্যান্য যানবাহনেও এই সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা  

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার বিমানবন্দরে ফিরছে আন্তর্জাতিক মর্যাদা, চালু হবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট

কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ চালু হলেও শুরুতেই ভোগান্তি, সার্ভার জটিলতায় বিপাকে গ্রাহকরা

আপডেট সময় ০৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ইং | সময়: ০৮:০৬ মিনিট।

কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ চালু হলেও শুরুতেই ভোগান্তি, সার্ভার জটিলতায় বিপাকে গ্রাহকরা

কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালুর মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নিলেও শুরুতেই ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি পেট্রোলপাম্পে চালু করা এই সেবা সার্ভার সমস্যায় বারবার ব্যাহত হচ্ছে, ফলে নিবন্ধন করা কিংবা না করা— কেউই প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে ঢাকার তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ও আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উদ্যোগে তৈরি এ ব্যবস্থায় ‘কিউআর কোড’ স্ক্যান করে নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি তেল নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অন্য পেট্রোলপাম্পে পাস ছাড়াই তেল নেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। এরপর শনিবার ৫টি পাম্পে শুরুর এক দিনের মাথায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর রবিবার থেকে সাতটি পাম্পে চালুর ঘোষণা দেয়া হলেও আজ সোমবার অ্যাপসের সার্ভার ডাউন বা সার্ভারে ঢুকে রেজিস্ট্রেশন করা যাচ্ছে না বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। আবার রেজিস্ট্রেশন করার পর পাম্পে গিয়ে দেখেন পাম্পের সার্ভার ডাউন— তাই তার সব লাইন এক করেই তেল দিচ্ছে। এতে করে যারা ফুয়েল পাসের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন বা যা করেননি তারা কেউই এই পাসের সুবিধা এখনও পুরোপুরি পাচ্ছেন না। যে যাই কারণ দেখাক না কেন— দিনশেষে তেল চাহিদা মতো না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। তবে দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে পেট্রোলপাম্পে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেয়— তেল নিতে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টার পাম্পের সামনে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এই অবস্থায় সমস্যা সমাধানে গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় ডিজিটাল সিস্টেমে ফুয়েল পাস চালুর ঘোষণা দেয়। সোমবার কয়েকটি পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, ফুয়েল পাসের জন্য আলাদা লাইন করা হয়েছে, যেখানে একজন মোটরসাইকেলচালক এক হাজার টাকা পর্যন্ত তেল নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আর যারা অ্যাপ ডাউনলোড বা ফুয়েল পাসের জন্য নিবন্ধন করেননি, তাদের দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল। কিন্তু অনেক স্টেশনে ফুয়েল পাসের সমস্যার কারণে সব এক লাইনের দীর্ঘ অপেক্ষা করে তেল নিচ্ছে। সন্ধ্যায় দেখা যায়, শেরাটনের বিপরীতে থাকা মেঘনা পাম্পের লাইন আজিজ সুপার মার্কেটের ওপাশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। খিলক্ষেতে যানবাহনের সারি দীর্ঘ হয়ে ‘লে মেরিডিয়ান’ হোটেল পর্যন্ত ঠেকেছে। আলাদা কোনও ফুয়েল পাস লাইন না থাকায় ভোগান্তি চরমে। সোনার বাংলা পাম্পে লাইনের দৈর্ঘ্য অনেক বেশি, এখানেও আলাদা কোনও সেবার ব্যবস্থা নেই। এয়ারপোর্ট বিপরীতে থাকা পেট্রোল পাম্প ও সুমাত্রা পাম্পে উভয় পাম্পেই লাইনের দূরত্ব এবং দৈর্ঘ্য অনেক বেশি। আলাদা কোনও শৃঙ্খলার ব্যবস্থা না থাকায় সব গাড়ি একই লাইনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছে। ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনেও কোনও স্পেশাল বা ফুয়েল পাস লাইন নেই; ফলে সব ধরনের যানবাহন একই সারিতে দাঁড়িয়ে আছে। সবগুলো পাম্পেই আলাদা কোনও ফুয়েল পাস লাইন না থাকা এবং বিশৃঙ্খলভাবে দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় যানজট ও জনভোগান্তি তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভোগান্তির কথা জানাতে গিয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের গণযোগাযোগ বিভাগের লেকচারার আল আমিন রাকিব বলেন, “প্রথম দিনই ফুয়েল পাসের অ্যাপসে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম। এরপর পাম্পে গিয়ে দেখি সার্ভারে সমস্যা— তেল দিচ্ছে না। পরে তেল দেওয়া শুরু করলেও এক লাইনে সব। কারণ নানা জটিলতায় নাকি পাম্পে অ্যাপস চেক করতে পারছে না। তবে ফুয়েল পাসের সুবিধা এখনও আমরা পাচ্ছি না। আগে ট্যাংকি ফুল করে নিলে এক সপ্তাহ চলে যেতো। এখন যে পরিমাণ তেল দেয় তাতে করে সপ্তাহে দুইবার তেল নিতে আসতে হচ্ছে।” এদিকে আজ সকাল থেকে অনেকেই নিবন্ধন করতে পারছিলেন না। ফুয়েল পাসের জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইটটি কেউ ঢুকতে পারছেন না। সকালের দিকে সাইটটিতে প্রবেশ করা গেলেও নিবন্ধন করা যাচ্ছিল না। এদিকে রাতে বেশ কয়েকটা স্টেশনে ফুয়েল পাস ছাড়া তেল দেওয়া হবে না বলে নোটিশ ট্যাংকি দেওয়া হয়। সোনার বাংলা পাম্পে তেল নিতে আসা এলিফ্যান্ট রোড থেকে আসা জাকির হোসেন বলেন, “দুদিন ধরে তেল নিতে না পেরে মোটরসাইকেল বন্ধ হয়ে গেছে। সকালে অনলাইনে গিয়ে নিবন্ধন করার সময় জটিলতার মুখে পড়ি। এখন এখানে এসেও সমাধান হলো না। এবং লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছি।” একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান, মামুন হোসেন নামের এক বেসরকারি চাকুরিজীবী। তিনি বলেন, “অফিসে আসা যাওয়া করার তেলও নেওয়ার সময় পাচ্ছি না। অফিস টাইমে এসে এত সময় বসে থাকা যায় না। অপরদিকে ছুটির দিকে লাইন হয় আরও অনেক বড়। তাই আজকে অফিস থেকে ছুটি নিয়েই তেল নিতে এসেছি। তিনি বলেন, “এমনিতেই তেল নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। এখন আবার নতুন করে ফুয়েল পাস নিয়ে যে ঝামেলা হচ্ছে তা কে দেখবে? সরকার হুট করে এসব না করে আমাদের প্রয়োজন মতো তেল দিয়ে দিলেই তো হয়। কেউ তো তেল কিনে খাবে না। সেটা তো পরিবহনেই ব্যবহার করা হবে। তাহলে এই তেল দিতে এতো সমস্যার কারণ তো আমরা বুঝতে পারছি না।” এদিকে জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন পদ্ধতিটি চালুর পর ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত প্রায় ৫১ হাজার মোটরসাইকেল চালক নিবন্ধন করেন। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত চাপের কারণে বিআরটিএ’র সার্ভারে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়। ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা যাচাই ও সিস্টেম আরও উন্নত করতে কাজ করা হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ জানায়, সার্ভারের সক্ষমতা বাড়িয়ে দ্রুতই এটি আরও কার্যকর করা হবে। শুরুতে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য চালু হলেও পরে অন্যান্য যানবাহনেও এই সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা  

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....