ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

রাজশাহীতে ফুটপাত দখলের মহোৎসব, চাঁদাবাজির অভিযোগে জনদুর্ভোগ চরমে

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ইং | সময়: ১১: ৩৮ মিনিট।

রাজশাহীতে ফুটপাত দখলের মহোৎসব, চাঁদাবাজির অভিযোগে জনদুর্ভোগ চরমে

রাজশাহী মহানগরীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে চলছে নানা ধরনের ব্যবসা। ফুল, ফল থেকে শুরু করে ভাতের হোটেল—সবই জায়গা করে নিয়েছে পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাতে। মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় সবকিছু। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ এবং বাড়ছে যানজট। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও ফুটপাত দখলের কারণে দিন-রাত যানজট লেগেই থাকে। পথচারীরা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়ক দিয়ে হাঁটছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর ৪১০ কিলোমিটার পাকা সড়কের মধ্যে মাত্র ১৫ কিলোমিটারে ফুটপাত রয়েছে। কিন্তু আলুপট্টি, রাজশাহী কলেজ এলাকা, রেলগেট, লক্ষ্মীপুর, শিরোইল, ভদ্রা, তালাইমারী, কাজলা, বিনোদপুর, কোর্ট স্টেশন, শালবাগান ও নওদপাড়াসহ অধিকাংশ এলাকার ফুটপাতই দখল হয়ে গেছে। এসব জায়গায় দোকানের সম্প্রসারিত অংশ, হকার, অস্থায়ী দোকান ও পার্ক করা যানবাহনে ফুটপাত প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উত্তর পাশের গুরুত্বপূর্ণ ফুটপাতটিও দখল হয়ে আছে। সেখানে প্লাস্টিক সামগ্রী ও ফলের দোকান বসানো হয়েছে। বাকি সামান্য জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে রিকশা ও অটোরিকশা, ফলে রোগী নিয়ে আসা স্বজনদের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সাহেব বাজার এলাকায় ফুটপাত যেন ব্যবসার স্থায়ী কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ফুল, ফল, তালাচাবি মেরামত, গামছা-লুঙ্গি, সুতা-দড়ি, টুপি, বেল্ট, আতর-সুরমাসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসে আছে ফুটপাতজুড়ে। ফুটপাত ব্যবহারকারীরা বলছেন, অবৈধ দখলের কারণে হাঁটা এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশু শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের ব্যস্ত সড়কে চলতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় রাজশাহীর হাঁটার উপযোগিতা ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৪৩.২০ স্কোর পেয়েছে, যা ‘হাঁটার অনুপযোগী’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পরিস্থিতির পেছনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও নিয়মিত চাঁদাবাজি বড় কারণ। স্কুলশিক্ষক শওকত হোসেন বলেন, ফুটপাত ব্যবহারযোগ্য না থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সড়কে চলতে হয়। এতে ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে সবসময়। অভিভাবক ফেরদৌসী রহমান জানান, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় সন্তানকে স্কুলে নিতে ব্যস্ত সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা সবসময় আতঙ্ক তৈরি করে। একইভাবে ব্যবসায়ী জিএম বাবুল চৌধুরী বলেন, ফুটপাত উন্মুক্ত থাকলে দুর্ঘটনা অনেক কমে আসত। সচেতন নাগরিক কমিটির নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও চাঁদাবাজির কারণে হকাররা বাধ্য হয়ে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছেন। তাদের জন্য বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ না নিলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে দখলকৃত ফুটপাত উদ্ধার করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

রাজশাহীতে ফুটপাত দখলের মহোৎসব, চাঁদাবাজির অভিযোগে জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেট সময় ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ইং | সময়: ১১: ৩৮ মিনিট।

রাজশাহীতে ফুটপাত দখলের মহোৎসব, চাঁদাবাজির অভিযোগে জনদুর্ভোগ চরমে

রাজশাহী মহানগরীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে চলছে নানা ধরনের ব্যবসা। ফুল, ফল থেকে শুরু করে ভাতের হোটেল—সবই জায়গা করে নিয়েছে পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাতে। মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় সবকিছু। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ এবং বাড়ছে যানজট। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও ফুটপাত দখলের কারণে দিন-রাত যানজট লেগেই থাকে। পথচারীরা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়ক দিয়ে হাঁটছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর ৪১০ কিলোমিটার পাকা সড়কের মধ্যে মাত্র ১৫ কিলোমিটারে ফুটপাত রয়েছে। কিন্তু আলুপট্টি, রাজশাহী কলেজ এলাকা, রেলগেট, লক্ষ্মীপুর, শিরোইল, ভদ্রা, তালাইমারী, কাজলা, বিনোদপুর, কোর্ট স্টেশন, শালবাগান ও নওদপাড়াসহ অধিকাংশ এলাকার ফুটপাতই দখল হয়ে গেছে। এসব জায়গায় দোকানের সম্প্রসারিত অংশ, হকার, অস্থায়ী দোকান ও পার্ক করা যানবাহনে ফুটপাত প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উত্তর পাশের গুরুত্বপূর্ণ ফুটপাতটিও দখল হয়ে আছে। সেখানে প্লাস্টিক সামগ্রী ও ফলের দোকান বসানো হয়েছে। বাকি সামান্য জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে রিকশা ও অটোরিকশা, ফলে রোগী নিয়ে আসা স্বজনদের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সাহেব বাজার এলাকায় ফুটপাত যেন ব্যবসার স্থায়ী কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ফুল, ফল, তালাচাবি মেরামত, গামছা-লুঙ্গি, সুতা-দড়ি, টুপি, বেল্ট, আতর-সুরমাসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসে আছে ফুটপাতজুড়ে। ফুটপাত ব্যবহারকারীরা বলছেন, অবৈধ দখলের কারণে হাঁটা এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশু শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের ব্যস্ত সড়কে চলতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় রাজশাহীর হাঁটার উপযোগিতা ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৪৩.২০ স্কোর পেয়েছে, যা ‘হাঁটার অনুপযোগী’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পরিস্থিতির পেছনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও নিয়মিত চাঁদাবাজি বড় কারণ। স্কুলশিক্ষক শওকত হোসেন বলেন, ফুটপাত ব্যবহারযোগ্য না থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সড়কে চলতে হয়। এতে ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে সবসময়। অভিভাবক ফেরদৌসী রহমান জানান, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় সন্তানকে স্কুলে নিতে ব্যস্ত সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা সবসময় আতঙ্ক তৈরি করে। একইভাবে ব্যবসায়ী জিএম বাবুল চৌধুরী বলেন, ফুটপাত উন্মুক্ত থাকলে দুর্ঘটনা অনেক কমে আসত। সচেতন নাগরিক কমিটির নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও চাঁদাবাজির কারণে হকাররা বাধ্য হয়ে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছেন। তাদের জন্য বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ না নিলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে দখলকৃত ফুটপাত উদ্ধার করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....