জেটিভি নিউজ বাংলা,
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তারিখ: ৭ এপ্রিল ২০২৬ | সময়: ০৮:৩২ মিনিট।
খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলা: ইরানের তেল ‘হৃদপিণ্ড’ ঘিরে নতুন উত্তেজনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর নির্দেশে ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। Kharg Island—পারস্য উপসাগরের উত্তরে অবস্থিত এই ছোট দ্বীপটি ইরানের মোট তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, Strait of Hormuz-এ ইরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে চাপ সৃষ্টি করতেই এই হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, এবারের হামলায় তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি; কেবল সামরিক অবকাঠামোতেই আঘাত হানা হয়েছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত বদলানো হতে পারে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা ৯০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে মাইন ও মিসাইল স্টোরেজ এবং একটি রানওয়ে অন্তর্ভুক্ত। মঙ্গলবার আবারও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি আগে Iran–Iraq War চলাকালেও ইরাকের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। প্রায় চার দশক পর আবারও সেই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রফতানিকারক ইউনিয়নের বোর্ড সদস্য হামিদ হোসেইনি জানিয়েছেন, হামলায় সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তেল জেটি ও মজুদাগার এখনো অক্ষত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপ ইরানি তেল শিল্পের ‘হৃদপিণ্ড’। এখান থেকেই তেলের মজুদ ও ট্যাঙ্কারে লোডিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই দ্বীপ অকেজো হয়ে গেলে বিকল্প ব্যবস্থার অভাবে ইরানের তেল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এদিকে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করা দেশগুলোর তেল ও জ্বালানি অবকাঠামো ‘ধ্বংস করে দেওয়া হবে’। বিশ্ববাজারে এর প্রভাব নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হবে। বর্তমানে ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে রয়েছে China। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চীনের ছোট বেসরকারি শোধনাগারগুলো এই তেল আমদানি করে যাচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও খার্গ দ্বীপ থেকে ট্যাঙ্কারযোগে তেল পরিবহন অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপকে ঘিরে এই উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক নয়—এটি দ্রুতই বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির বড় সংকটে রূপ নিতে পারে।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....
ফাইল ছবি

Reporter Name 




















