ঢাকা , শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সেন্টমার্টিন আকাশে বিদেশি ড্রোন, সীমান্তে নতুন ফ্লোরিডায় হাতুড়ি হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ: নিহত বাংলাদেশি এস এম তারেকের মরদেহ দেশে, পরিবারকে আর্থিক সহায়তা গাজীপুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি মদ জব্দ করেছে র‌্যাব-১। ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ সংকট: যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করলেন সাবেক সিআইএ প্রধান বিল বার্নস বারছে গরম অসুস্থ হচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ  ছোট উপসর্গেই বড় ভয়: ‘ইলনেস অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার’ থেকে মুক্তির কার্যকর উপায় বাণিজ্য ঘাটতির চাপ বাড়ছে, অর্থনীতিতে সতর্ক সংকেত মানবীয় হস্তক্ষেপ ছাড়াই ভ্যাট নিরীক্ষা: ঝুঁকি বিশ্লেষণে ৬০০ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত গাজীপুর জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী

বাণিজ্য ঘাটতির চাপ বাড়ছে, অর্থনীতিতে সতর্ক সংকেত

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | সময়: ২:২৮ মিনিট।

বাণিজ্য ঘাটতির চাপ বাড়ছে, অর্থনীতিতে সতর্ক সংকেত

দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে সতর্ক সংকেত দেখা দিচ্ছে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির মাধ্যমে। রফতানি আয় কমে যাওয়া এবং আমদানি ব্যয় বাড়ার ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭.৪৪ শতাংশ বেশি। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ প্রায় ৩৯.৮৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪.৬ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস, খাদ্যশস্য ও শিল্প কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিশেষ করে রমজানকে কেন্দ্র করে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরের মতো নিত্যপণ্যের আমদানি বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, রফতানি আয় প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি। বরং সামান্য কমে ২৬.০৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.১ শতাংশ কম। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর শক্ত অবস্থান—এসব কারণে রফতানি খাত চাপে রয়েছে। তৈরি পোশাক খাত এখনও প্রধান অবলম্বন হলেও এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ঝুঁকি তৈরি করছে। বাণিজ্য ঘাটতির এই প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বিনিময় হারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। আমদানি ব্যয় মেটাতে ডলারের চাহিদা বাড়ায় টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করতে পারে। একইসঙ্গে শিল্পখাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় প্রতিযোগিতাও কমে যেতে পারে। তবে কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। চলতি হিসাবের ঘাটতি কমে এসেছে এবং সামগ্রিক লেনদেনে উদ্বৃত্ত দেখা গেছে। এর বড় কারণ প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি। আলোচিত সময়ে প্রবাসীরা দেশে ১৯.৪৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ২১.৮ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ইতিবাচক সূচকগুলো সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য ঘাটতির চাপ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানিতে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং শিল্পখাতে প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সংকট নয়, বরং একটি সতর্কবার্তা। সময়মতো সঠিক নীতি গ্রহণ করা গেলে অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব  

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

সেন্টমার্টিন আকাশে বিদেশি ড্রোন, সীমান্তে নতুন

বাণিজ্য ঘাটতির চাপ বাড়ছে, অর্থনীতিতে সতর্ক সংকেত

আপডেট সময় ০২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | সময়: ২:২৮ মিনিট।

বাণিজ্য ঘাটতির চাপ বাড়ছে, অর্থনীতিতে সতর্ক সংকেত

দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে সতর্ক সংকেত দেখা দিচ্ছে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির মাধ্যমে। রফতানি আয় কমে যাওয়া এবং আমদানি ব্যয় বাড়ার ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭.৪৪ শতাংশ বেশি। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ প্রায় ৩৯.৮৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪.৬ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস, খাদ্যশস্য ও শিল্প কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিশেষ করে রমজানকে কেন্দ্র করে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরের মতো নিত্যপণ্যের আমদানি বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, রফতানি আয় প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি। বরং সামান্য কমে ২৬.০৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.১ শতাংশ কম। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর শক্ত অবস্থান—এসব কারণে রফতানি খাত চাপে রয়েছে। তৈরি পোশাক খাত এখনও প্রধান অবলম্বন হলেও এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ঝুঁকি তৈরি করছে। বাণিজ্য ঘাটতির এই প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বিনিময় হারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। আমদানি ব্যয় মেটাতে ডলারের চাহিদা বাড়ায় টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করতে পারে। একইসঙ্গে শিল্পখাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় প্রতিযোগিতাও কমে যেতে পারে। তবে কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। চলতি হিসাবের ঘাটতি কমে এসেছে এবং সামগ্রিক লেনদেনে উদ্বৃত্ত দেখা গেছে। এর বড় কারণ প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি। আলোচিত সময়ে প্রবাসীরা দেশে ১৯.৪৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ২১.৮ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ইতিবাচক সূচকগুলো সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য ঘাটতির চাপ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানিতে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং শিল্পখাতে প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সংকট নয়, বরং একটি সতর্কবার্তা। সময়মতো সঠিক নীতি গ্রহণ করা গেলে অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব  

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....