জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ : ১ এপ্রিল ২০২৬ | বুধবার,সময় :২:৫৩ মিনিট।ইরানকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে পারমাণবিক হামলার, তবে ভয় পায় না—ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত
ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হলেও তাতে ভয় পায় না দেশটি। হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য ধরে রাখতে কাজ করছে ইরান এবং চলমান সংঘাতকে তিনি মুসলিম উম্মাহ ও ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করেন। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রদূত জানান, হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা ছয়টি বাংলাদেশি জাহাজ পারাপারের অনুমতি দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায় না, বরং তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থেকে নিজেদের সুরক্ষায় সক্ষম হয়েছে ইরান। তিনি অভিযোগ করেন, ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনার সময়ই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করে এবং এতে ইসরায়েলের উসকানি ছিল। তার দাবি, এই সংঘাতের মাধ্যমে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থির করে তোলা হয়েছে। জলিল রহীমি জাহানাবাদী বলেন, যুদ্ধের নামে বেসামরিক জনগণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিশুদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এসব স্থানে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল কি না, কিংবা শিশুরা কোনো হুমকি ছিল কি না। রাষ্ট্রদূত আরও দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে এবং ইরানের প্রযুক্তি ধ্বংস ও ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজেদের বিজয়ী দাবি করলেও বাস্তবে তারা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ এবং হরমুজ প্রণালীতে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ ফিরিয়ে আনতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠিও দিয়েছেন। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত। তার মতে, শুধু উদ্বেগ নয়, এই ধরনের আগ্রাসনের নিন্দাও জানানো প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে ইরান স্বাগত জানায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি। ইরান এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যাতে ভবিষ্যতে কোনো দেশ অন্য দেশের ওপর আগ্রাসন চালাতে সাহস না পায়। জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শক্তিশালী দেশগুলোর প্রভাবের বাইরে থাকতে পারছে না এবং বাস্তব অভিজ্ঞতায় প্রমাণ হয়েছে, সংকট মোকাবেলায় নিজেদের সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করতে হয়।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

Reporter Name 












