জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ৯ মার্চ ২০২৬ | সময়: রাত,৭৪৩ মিনিট ।নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নতুন একটি কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার।
নারী প্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করা হবে মঙ্গলবার (১০ মার্চ)। রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, গৃহস্থালি সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল) এবং রেমিট্যান্সসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে সারা দেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নারী প্রধান পরিবারকে একটি আধুনিক স্পর্শবিহীন চিপযুক্ত কার্ড দেওয়া হবে। এতে থাকবে QR কোড ও এনএফসি (Near Field Communication) প্রযুক্তি, যা কার্ড ব্যবহারে নিরাপত্তা ও সহজতা নিশ্চিত করবে। প্রতি পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য একটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। তবে যৌথ পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পাইলটিং পর্যায়ে নির্বাচিত পরিবারগুলো প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। ভবিষ্যতে একই মূল্যের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এই ভাতা জি-টু-পি (Government to Person) পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগী বা দুর্নীতির সুযোগ কমে যাবে এবং উপকারভোগীরা ঘরে বসেই সরাসরি সরকারের সহায়তা পাবেন। তবে যেসব পরিবারের সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, পেনশন পান, বড় ব্যবসা রয়েছে, বাণিজ্যিক লাইসেন্স আছে, বিলাসবহুল সম্পদ যেমন গাড়ি বা এসি রয়েছে অথবা ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র আছে—সেসব পরিবার এই ভাতার আওতায় আসবে না। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম ও কার্ড প্রস্তুতসহ বাস্তবায়ন ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে। সরকারের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে নারী প্রধান পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে এবং সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন আরও জোরদার হবে।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ...

Reporter Name 





















