ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে বসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর সম্ভাব্য আলোচনার নতুন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার থেকে টানা পতনে পোশাক রপ্তানি, কর্মসংস্থানে শঙ্কার মেঘ কূটনীতিককে পেছন থেকে জড়িয়ে! ঈদের খুনসুটি নাকি ‘অতিরিক্ত আবেগ’—ট্রলে সরব নেটদুনিয়া পরিবারের বাইরে, দায়িত্বেই ঈদ—রাজধানীর সড়কে ব্যস্ত ট্রাফিক পুলিশ ঈদের দিনেও রাজধানীতে সচল গণপরিবহন, যাত্রী কম হলেও চলছে বাস-সিএনজি ইসরায়েলে ড্রোন হামলা, নেতানিয়াহু টার্গেট ভিআইপি  বন্দিদের বিষাদময় ঈদ ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা

আশুলিয়ার বাইপাইলে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অঘোষিত সাম্রাজ্য: আতঙ্কের নাম ‘শুটার’ ইয়াসিন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা তারিখ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সময়: রাত ২:২৬ মিনিট। 

আশুলিয়ার বাইপাইলে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অঘোষিত সাম্রাজ্য: আতঙ্কের নাম ‘শুটার’ ইয়াসিন

আশুলিয়া প্রতিনিধি: রাজধানীর উপকণ্ঠ আশুলিয়ার বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ উঠেছে ‘শুটার’ ইয়াসিনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ভাষ্য—তার নাম শুনলেই ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে নেমে আসে আতঙ্ক। রাজনৈতিক ছত্রছায়া থেকে সন্ত্রাসের উত্থান স্থানীয় সূত্র জানায়, এক সময়ের আশুলিয়া থানা যুবলীগ নেতা মইনুল ভুইয়ার অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পান ইয়াসিন। রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করে তিনি দ্রুতই শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় থেকেই অস্ত্রের মহড়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতিপক্ষ দমনে সক্রিয় ছিলেন তিনি। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে পড়লে কিছুদিন আত্মগোপনে চলে যান ইয়াসিন। তবে সময়ের ব্যবধানে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বর্তমানে শামীম, টিটু, হাবিব, হাফিজুল ও মঈনকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠিতভাবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাইপাইল স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের আড়ৎকেন্দ্রিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে ইয়াসিন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীরা জানান, নিয়মিত ‘মাসিক চাঁদা’ না দিলে দোকান ভাঙচুর, মারধর কিংবা ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একাধিক সূত্র বলছে, এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখতে মাঝেমধ্যে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেওয়া হয়। এতে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “ভয়ে কেউ মুখ খোলে না, কারণ প্রতিবাদ করলেই বিপদ।” একাধিক হত্যা মামলার আসামি স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ইয়াসিনের বিরুদ্ধে ছাত্র হত্যা মামলাসহ একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। পাশাপাশি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামেও বিভিন্ন থানায় হত্যা মামলা ও গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি। শ্রমিক দলের নেতার ছায়ায়? অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ইয়াসিন আশুলিয়া থানা শ্রমিক দল–এর সভাপতি পাষাণ রহমানের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পাষাণ রহমান বলেন, “চাঁদাবাজির বিষয়ে কোনো ছাড় নেই, সে যেই হোক।” তবে ইয়াসিনের সঙ্গে পরিচয় ও সম্পৃক্ততার বিষয় স্বীকার করে তিনি বলেন, “ইয়াসিন এলাকার লোক, তবে সে চাঁদাবাজি করে কিনা আমি জানি না।” যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শুটার ইয়াসিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এত অভিযোগ ও মামলার পরও কীভাবে প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন ইয়াসিন? বাইপাইলের ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড এখন যেন এক অঘোষিত আতঙ্কের রাজ্যে পরিণত হয়েছে—যেখানে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলা মানেই জীবনের ঝুঁকি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপে ফিরবে স্বস্তি ও নিরাপত্তা।     জেটিভি নিউজ বাংলা 

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে বসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি।

আশুলিয়ার বাইপাইলে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অঘোষিত সাম্রাজ্য: আতঙ্কের নাম ‘শুটার’ ইয়াসিন

আপডেট সময় ০২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
জেটিভি নিউজ বাংলা তারিখ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সময়: রাত ২:২৬ মিনিট। 

আশুলিয়ার বাইপাইলে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অঘোষিত সাম্রাজ্য: আতঙ্কের নাম ‘শুটার’ ইয়াসিন

আশুলিয়া প্রতিনিধি: রাজধানীর উপকণ্ঠ আশুলিয়ার বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ উঠেছে ‘শুটার’ ইয়াসিনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ভাষ্য—তার নাম শুনলেই ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে নেমে আসে আতঙ্ক। রাজনৈতিক ছত্রছায়া থেকে সন্ত্রাসের উত্থান স্থানীয় সূত্র জানায়, এক সময়ের আশুলিয়া থানা যুবলীগ নেতা মইনুল ভুইয়ার অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পান ইয়াসিন। রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করে তিনি দ্রুতই শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় থেকেই অস্ত্রের মহড়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতিপক্ষ দমনে সক্রিয় ছিলেন তিনি। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে পড়লে কিছুদিন আত্মগোপনে চলে যান ইয়াসিন। তবে সময়ের ব্যবধানে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বর্তমানে শামীম, টিটু, হাবিব, হাফিজুল ও মঈনকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠিতভাবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাইপাইল স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের আড়ৎকেন্দ্রিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে ইয়াসিন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীরা জানান, নিয়মিত ‘মাসিক চাঁদা’ না দিলে দোকান ভাঙচুর, মারধর কিংবা ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একাধিক সূত্র বলছে, এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখতে মাঝেমধ্যে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেওয়া হয়। এতে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “ভয়ে কেউ মুখ খোলে না, কারণ প্রতিবাদ করলেই বিপদ।” একাধিক হত্যা মামলার আসামি স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ইয়াসিনের বিরুদ্ধে ছাত্র হত্যা মামলাসহ একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। পাশাপাশি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামেও বিভিন্ন থানায় হত্যা মামলা ও গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি। শ্রমিক দলের নেতার ছায়ায়? অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ইয়াসিন আশুলিয়া থানা শ্রমিক দল–এর সভাপতি পাষাণ রহমানের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পাষাণ রহমান বলেন, “চাঁদাবাজির বিষয়ে কোনো ছাড় নেই, সে যেই হোক।” তবে ইয়াসিনের সঙ্গে পরিচয় ও সম্পৃক্ততার বিষয় স্বীকার করে তিনি বলেন, “ইয়াসিন এলাকার লোক, তবে সে চাঁদাবাজি করে কিনা আমি জানি না।” যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শুটার ইয়াসিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এত অভিযোগ ও মামলার পরও কীভাবে প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন ইয়াসিন? বাইপাইলের ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড এখন যেন এক অঘোষিত আতঙ্কের রাজ্যে পরিণত হয়েছে—যেখানে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলা মানেই জীবনের ঝুঁকি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপে ফিরবে স্বস্তি ও নিরাপত্তা।     জেটিভি নিউজ বাংলা 

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....