ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে বসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর সম্ভাব্য আলোচনার নতুন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার থেকে টানা পতনে পোশাক রপ্তানি, কর্মসংস্থানে শঙ্কার মেঘ কূটনীতিককে পেছন থেকে জড়িয়ে! ঈদের খুনসুটি নাকি ‘অতিরিক্ত আবেগ’—ট্রলে সরব নেটদুনিয়া পরিবারের বাইরে, দায়িত্বেই ঈদ—রাজধানীর সড়কে ব্যস্ত ট্রাফিক পুলিশ ঈদের দিনেও রাজধানীতে সচল গণপরিবহন, যাত্রী কম হলেও চলছে বাস-সিএনজি ইসরায়েলে ড্রোন হামলা, নেতানিয়াহু টার্গেট ভিআইপি  বন্দিদের বিষাদময় ঈদ ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল: ঐতিহাসিক রায়ের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৪৬ বার পড়া হয়েছে

 

📰 জেটিভি নিউজ বাংলা – ডেস্ক 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল: ঐতিহাসিক রায়ের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের ১৪ বছর পর অবশেষে পুনর্বিবেচনার রায়ে এই ব্যবস্থা ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, “আজকের রায়ের ফলে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরে এসেছে। দেশের মানুষ এতদিন যে ভোট দিতে পারেনি এখন ভোট দিতে পারবে।” রায় ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই সিদ্ধান্ত।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ১৯৯৬ সালের ২৮ মার্চ সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার অধীনে তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট এই সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়। এরপর অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনই বিভিন্ন বিতর্কের জন্ম দেয় এবং রাজনৈতিক সংকট আরও তীব্র হয়।

ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে নতুন ৫৮ক, ৫৮খ, ৫৮গ, ৫৮ঘ ও ৫৮ঙ অনুচ্ছেদ যুক্ত হয়, যেগুলোতে উল্লেখ ছিল—
  • নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন
  • প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের নিয়োগ
  • নির্বাচনকালীন সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
  • সংবিধানের কিছু বিধানের অকার্যকারিতা
এই সংশোধনীকে কেন্দ্র করে ১৯৯৯ সালে রিট দায়ের করা হয়, যার প্রেক্ষিতে ২০০৪ সালে হাইকোর্ট তা বৈধ ঘোষণা করে। তবে ২০১১ সালে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিক, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মো. গোলাম পরওয়ারসহ একাধিক ব্যক্তি রিভিউ আবেদন করেন। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি ও সেন্টার ফর ল’ গভর্ন্যান্স অ্যান্ড পলিসিসহ বিভিন্ন সংগঠনও মামলায় যুক্ত হয়। ২৭ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ লিভ অনুমোদন করেন এবং রিভিউ আবেদনগুলোকে পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য গ্রহণ করেন।

২১ অক্টোবর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত টানা দশ দিন শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ২০ নভেম্বর রায়ের দিন ধার্য করেন। আজকের রায়ে স্পষ্ট হয়েছে—নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বৈধতা পুনরুদ্ধার হওয়ায় দেশজুড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

রায় নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন— “এতে জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার হলো। ত্রুটিপূর্ণ ও বিতর্কিত নির্বাচনের যুগ শেষ হওয়া উচিত।”

বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থার ইতিহাসে এই রায়কে এক watershed moment হিসেবে দেখা হচ্ছে। রায় বাস্তবায়নের পর আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কীভাবে পরিচালিত হবে—এ নিয়ে এখন জাতির দৃষ্টি সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার দিকে।
 

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে বসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল: ঐতিহাসিক রায়ের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা

আপডেট সময় ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
 

📰 জেটিভি নিউজ বাংলা – ডেস্ক 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল: ঐতিহাসিক রায়ের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের ১৪ বছর পর অবশেষে পুনর্বিবেচনার রায়ে এই ব্যবস্থা ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, “আজকের রায়ের ফলে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরে এসেছে। দেশের মানুষ এতদিন যে ভোট দিতে পারেনি এখন ভোট দিতে পারবে।” রায় ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই সিদ্ধান্ত।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ১৯৯৬ সালের ২৮ মার্চ সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার অধীনে তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট এই সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়। এরপর অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনই বিভিন্ন বিতর্কের জন্ম দেয় এবং রাজনৈতিক সংকট আরও তীব্র হয়।

ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে নতুন ৫৮ক, ৫৮খ, ৫৮গ, ৫৮ঘ ও ৫৮ঙ অনুচ্ছেদ যুক্ত হয়, যেগুলোতে উল্লেখ ছিল—
  • নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন
  • প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের নিয়োগ
  • নির্বাচনকালীন সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
  • সংবিধানের কিছু বিধানের অকার্যকারিতা
এই সংশোধনীকে কেন্দ্র করে ১৯৯৯ সালে রিট দায়ের করা হয়, যার প্রেক্ষিতে ২০০৪ সালে হাইকোর্ট তা বৈধ ঘোষণা করে। তবে ২০১১ সালে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিক, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মো. গোলাম পরওয়ারসহ একাধিক ব্যক্তি রিভিউ আবেদন করেন। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি ও সেন্টার ফর ল’ গভর্ন্যান্স অ্যান্ড পলিসিসহ বিভিন্ন সংগঠনও মামলায় যুক্ত হয়। ২৭ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ লিভ অনুমোদন করেন এবং রিভিউ আবেদনগুলোকে পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য গ্রহণ করেন।

২১ অক্টোবর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত টানা দশ দিন শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ২০ নভেম্বর রায়ের দিন ধার্য করেন। আজকের রায়ে স্পষ্ট হয়েছে—নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বৈধতা পুনরুদ্ধার হওয়ায় দেশজুড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

রায় নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন— “এতে জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার হলো। ত্রুটিপূর্ণ ও বিতর্কিত নির্বাচনের যুগ শেষ হওয়া উচিত।”

বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থার ইতিহাসে এই রায়কে এক watershed moment হিসেবে দেখা হচ্ছে। রায় বাস্তবায়নের পর আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কীভাবে পরিচালিত হবে—এ নিয়ে এখন জাতির দৃষ্টি সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার দিকে।