🖋️ জেটিভি নিউজ বাংলা ডেস্ক নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তাহীনতা: আতঙ্কে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উদ্বেগ বাড়ছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তাদের মধ্যে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সম্ভাব্য হামলা, ভয়ভীতি ও রাজনৈতিক চাপের আশঙ্কায় অনেকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে আতঙ্কে আছেন। এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন কার্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তাও ততই বাড়ছে। মাঠপর্যায়ে জনবল সংকট, রাজনৈতিক চাপ এবং ‘মব কালচার’-এর কারণে কর্মকর্তাদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নির্বাচনের সময় হামলা ও নাশকতার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। সম্প্রতি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামসহ তিনজন আহত হন। গুরুতর আহত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আমজাদ হোসেনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইসি সচিবালয়সহ সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত ২৫ অক্টোবর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের পর ভবনের নিরাপত্তা জোরদারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে গত ২৮ অক্টোবর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য চিঠি দেয় কমিশন। চিঠিতে এলাকাটিকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনার পাশাপাশি অফিস সময়ের বাইরে ভবনের আশপাশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। নির্বাচনে নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, “আসন্ন নির্বাচনে অনেক প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে, তবে সমন্বয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে তা মোকাবিলা সম্ভব। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর পেশাদারিত্বই সুষ্ঠু নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি।” নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “প্রিজাইডিং অফিসারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন কঠিন হবে না।” অন্য কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “নির্বাচনের সময় প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, বিশৃঙ্খলার চেষ্টা বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো হতে পারে। তাই শুরুতেই অপরাধ দমন ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় জোরদার করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “ভয়েস ক্লোন, সাইবার বুলিং, সংখ্যালঘু বা উগ্রবাদ ইস্যু ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে। তাই আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে এবং দ্রুততার সঙ্গে সঠিক তথ্য প্রচার নিশ্চিত করতে হবে।” ইসি সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৩ নভেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে নভেম্বরে সব প্রস্তুতি সম্পন্নের পর তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায় থাকবে সংস্থা।

Reporter Name 






















