ডেস্ক, জেটিভি নিউজ বাংলা
প্রকাশের সময়: নভেম্বর ২০২৫
📰 তফসিলের আগে ফের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইসি
নিরাপত্তার পাশাপাশি বাজেট আলোচনাতেও গুরুত্ব
দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক সভা শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার তফসিল ঘোষণার আগে চলতি মাসের শেষের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠকে বসতে যাচ্ছে সংস্থাটি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বৈঠকে সুষ্ঠু ভোট আয়োজন ও নিরাপত্তা পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে আসন্ন বৈঠকে বাজেট ইস্যুকেও অগ্রাধিকার দেবে কমিশন।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, “২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর মোট ২১টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।”
বৈঠকে নেওয়া ২১টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত:
১. প্রতিটি বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতামত ও সুপারিশ লিখিতভাবে দিতে হবে।
২. নিরাপত্তা পরিকল্পনা সময়মতো কমিশনে পাঠাতে হবে।
৩. থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান করতে হবে।
৪. জুলাই সনদ অনুযায়ী গণভোটের সম্ভাবনা থাকলে পরিকল্পনা সমন্বয় করতে হবে।
৫. গোয়েন্দা তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও কমিশনে প্রেরণ করতে হবে।
৬. অস্বাভাবিক পরিস্থিতির আশঙ্কায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
৭. যেকোনো অপতৎপরতা রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
৮. শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
৯. ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী বাহিনী প্রথমে রেসপন্স দেবে।
১০. প্রযুক্তি, এআই ও কন্টিনজেন্সি ম্যানেজমেন্টে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।
১১. নারীদের প্রতি সাইবার বুলিং ও সংখ্যালঘু ইস্যুতে সতর্ক থাকতে হবে।
১২. ভয়েস ক্লোন ও চরিত্র হননের অপপ্রচার মোকাবিলা করতে হবে।
১৩. ভুল তথ্যের বিপরীতে দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচার করতে হবে।
১৪. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, তল্লাশি ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে।
১৫. সংঘাত প্রতিরোধে সব বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে।
১৬. বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য পৃথক তালিকা তৈরি করতে হবে।
১৭. কালো টাকা ব্যবহারের বিরুদ্ধে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে হবে।
১৮. পোস্টাল ব্যালট ও Out of Country Voting (OCV) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
১৯. দীর্ঘদিন একই স্থানে থাকা কর্মকর্তাদের বদলি করতে হবে।
২০. ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করে তালিকা দিতে হবে।
২১. সব নির্বাচন অফিসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম, বিমানবাহিনীর প্রতিনিধি এয়ার ভাইস মার্শাল রুশাদ দিন আসাদ, নৌবাহিনীর প্রতিনিধি রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানসহ পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা।
নির্বাচন কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো— আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নির্ধারণ।”