জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ১০ জুন ২০২৬ ইং,সময়: রাত ৮:৫৪ মিনিট।নারী ও শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯-এর কর্মীরা ২-৩ বছর বেতন পাননি: সংসদে মন্ত্রী
নারী ও শিশুদের জরুরি সহায়তা প্রদানের জন্য চালু থাকা জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯-এর কলসেন্টারে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী গত দুই থেকে তিন বছর ধরে কোনো বেতন পাননি বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বুধবার (১০ জুন) সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর ৭১ বিধিতে আনা মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। নিপুণ রায় চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় সামাজিক উদ্বেগ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউএনএফপিএ পরিচালিত ‘ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন সার্ভে ২০২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭৬ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে স্বামী বা ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এছাড়া ৬২ শতাংশ ভুক্তভোগী কখনও তাদের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা অন্য কারও কাছে প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, এই নীরবতা শুধু ভয় বা লজ্জার কারণে নয়, বরং সহায়তা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা, নিরাপত্তা ও সহজপ্রাপ্যতার সংকটও এর পেছনে রয়েছে। একজন নারী বা কন্যাশিশু যদি নিজের ঘর বা পরিচিত পরিবেশেও নিরাপদ না থাকে, তাহলে তাদের স্বাধীন ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। নোটিশে তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্যাতনের শিকার একজন ব্যক্তিকে শুধু মামলার বাদী বা প্রমাণ হিসেবে দেখলে চলবে না। চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয়, আইনি সহযোগিতা এবং মর্যাদার সঙ্গে সমাজে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ কারণে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওএসসিসি) ও ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলের কার্যকারিতা, জেলা-ভিত্তিক তথ্য, সেবার পরিসংখ্যান এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণের বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি। জবাবে মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী খুরশিদ জাহান হকের উদ্যোগে দেশে প্রথম ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার চালু করা হয়। শুরুতে আটটি পুরোনো মেডিক্যাল কলেজে এ কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরে আরও ছয়টি নতুন মেডিক্যাল কলেজে সম্প্রসারণ করা হয়। মন্ত্রী জানান, এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, ফরেনসিক পরীক্ষা, ডিএনএ সাপোর্ট, পুনর্বাসন এবং সমাজে পুনঃএকীভূত করার সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে দেশে ১৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ২২ জন জনবল থাকার কথা, যার মধ্যে রয়েছেন চারজন চিকিৎসক, ছয়জন নার্স, চারজন পুলিশ কর্মকর্তা, একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, একজন আইন কর্মকর্তা, একজন কম্পিউটার অপারেটরসহ অন্যান্য সহায়ক কর্মী। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারগুলোর মাধ্যমে মোট ৮১ হাজার ৯২৮ জন ভুক্তভোগীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের শিকার ৪৯ হাজার ৭৬৭ জন, যৌন নির্যাতনের শিকার ৩১ হাজার ৫৯৬ জন এবং অগ্নিদগ্ধ ৫৬৫ জন রয়েছেন। মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে নতুন করে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার চালুর কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের ৬৪টি জেলা এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলায় ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল ও ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। তিনি বলেন, পূর্বে এ কার্যক্রম ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল নামে পরিচিত ছিল, পরে মাল্টি-সেক্টরাল অ্যাপ্রোচ হিসেবে পরিচালিত হয় এবং বর্তমানে এর নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (কিউআরটি)। কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য সরকার, বিরোধী দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী গণসচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কিশোর-কিশোরী ক্লাব, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। হেল্পলাইন ১০৯-এর কর্মীদের বেতন না পাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার দেখতে পেয়েছে যে এই কলসেন্টারে কর্মরত অনেকেই দুই থেকে তিন বছর ধরে বেতন পাচ্ছিলেন না। বিষয়টি সমাধানে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং থোক বরাদ্দ থেকে তাদের বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছরে ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলো এই কর্মসূচির সম্প্রসারণ ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। ক্রাইসিস সেন্টার সম্প্রসারণ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একদিকে যেমন নারী ও শিশু সুরক্ষায় সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, অন্যদিকে প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে এবং তাদের সম্পৃক্ত করতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।জেটিভি নিউজ বাংলা
দেশ ও দশের কথা বলে....

ডেস্ক রিপোর্ট 






















