ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী বারিধারায় ময়লার ডিপো নিয়ে গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিন আসামি গ্রেফতার, আত্মগোপনে ছিলেন বান্দরবানের রিসোর্টে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মাটিচাপা পড়ে নারীর মৃত্যু, ঝুঁকিতে এখনও লাখো শরণার্থী ফরিদপুরের মধুখালীতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জন্মগত জটিল রোগে আক্রান্ত শিশু আনিফার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ, গঠন করা হলো বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড শ্রমিকদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ই-পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর স্মৃতি, অনুমোদন দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিটফোর্ডের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা মামলা: আদালতের প্রতি এক আসামির অনাস্থা, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জুলাই ইসিতে বিএনপির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা, বছরে আয় ২২.১৯ কোটি টাকা, উদ্বৃত্ত ৬.৯৩ কোটি

মার্কিন অবরোধে ইরান কি ভেঙে পড়ছে, নাকি আরও শক্তিশালী হচ্ছে?

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

মার্কিন অবরোধে ইরান কি ভেঙে পড়ছে, নাকি আরও শক্তিশালী হচ্ছে?

তারিখ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং | সময়: রাত ১১: ৪৪ মিনিট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের কঠোর নৌ-অবরোধের কারণে ইরান অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে দেশটি। তার ভাষায়, ইরানে বর্তমানে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জোরদার করে। এর অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় একটি ইরানি ট্যাংকারে গুলি চালিয়ে তা জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ইরানগামী বা ইরান থেকে পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপকে ইরান ‘অবৈধ’ ও ‘দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব বিদেশি জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং কয়েকটি বিদেশি জাহাজ আটক করেছে। আগে যেখানে শুধুমাত্র ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলোর জাহাজ চলাচল করতে পারত, এখন সেখানে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অবরোধে ক্ষতি হলেও ইরান তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। যুদ্ধের আগে তেল বিক্রি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করলেও বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় আয় বেড়ে গড়ে ১৬ কোটি ডলারের বেশি হয়েছে। অর্থাৎ অবরোধের মধ্যেও দেশটি আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি আয় করছে। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের উপকূল ও সমুদ্রে ভাসমান ট্যাঙ্কারগুলোতে ১৬০ থেকে ১৮০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে। এই মজুত দিয়েই অন্তত আগস্ট পর্যন্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করে নতুন আয়ের পথও তৈরি করেছে ইরান, যেখানে একটি জাহাজ থেকেই সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিনামূল্যে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না হলে কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভ্যন্তরীণ বিভক্তির অভিযোগ নাকচ করে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন। তার বক্তব্য, দেশের সব রাজনৈতিক শক্তি এখন একসঙ্গে কাজ করছে এবং বাহ্যিক চাপ মোকাবিলায় প্রস্তুত। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন ‘ধৈর্যের লড়াইয়ে’ রূপ নিয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, অন্যদিকে ইরানের প্রতিরোধ—এই দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হবে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বড় প্রশ্ন।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ...

    সূত্র :আল জাজিরা

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী

মার্কিন অবরোধে ইরান কি ভেঙে পড়ছে, নাকি আরও শক্তিশালী হচ্ছে?

আপডেট সময় ১১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

মার্কিন অবরোধে ইরান কি ভেঙে পড়ছে, নাকি আরও শক্তিশালী হচ্ছে?

তারিখ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং | সময়: রাত ১১: ৪৪ মিনিট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের কঠোর নৌ-অবরোধের কারণে ইরান অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে দেশটি। তার ভাষায়, ইরানে বর্তমানে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জোরদার করে। এর অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় একটি ইরানি ট্যাংকারে গুলি চালিয়ে তা জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ইরানগামী বা ইরান থেকে পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপকে ইরান ‘অবৈধ’ ও ‘দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব বিদেশি জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং কয়েকটি বিদেশি জাহাজ আটক করেছে। আগে যেখানে শুধুমাত্র ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলোর জাহাজ চলাচল করতে পারত, এখন সেখানে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অবরোধে ক্ষতি হলেও ইরান তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। যুদ্ধের আগে তেল বিক্রি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করলেও বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় আয় বেড়ে গড়ে ১৬ কোটি ডলারের বেশি হয়েছে। অর্থাৎ অবরোধের মধ্যেও দেশটি আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি আয় করছে। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের উপকূল ও সমুদ্রে ভাসমান ট্যাঙ্কারগুলোতে ১৬০ থেকে ১৮০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে। এই মজুত দিয়েই অন্তত আগস্ট পর্যন্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করে নতুন আয়ের পথও তৈরি করেছে ইরান, যেখানে একটি জাহাজ থেকেই সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিনামূল্যে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না হলে কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভ্যন্তরীণ বিভক্তির অভিযোগ নাকচ করে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন। তার বক্তব্য, দেশের সব রাজনৈতিক শক্তি এখন একসঙ্গে কাজ করছে এবং বাহ্যিক চাপ মোকাবিলায় প্রস্তুত। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন ‘ধৈর্যের লড়াইয়ে’ রূপ নিয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, অন্যদিকে ইরানের প্রতিরোধ—এই দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হবে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বড় প্রশ্ন।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ...

    সূত্র :আল জাজিরা