ঢাকা , রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হাম থামছেই না, একদিনে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু—মোট প্রাণহানি ২১৬ টঙ্গীতে বাবা-ছেলের রহস্যজনক মৃত্যু, ছেলেরটি হত্যা সন্দেহে আটক ১ গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পৃথক অভিযানে ছয় মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার জ্বালানির দাম বাড়ায় বাস ভাড়ার নতুন তালিকা প্রকাশ, ঢাকা–কক্সবাজার ৯০০ টাকা মার্কিন অবরোধে ইরান কি ভেঙে পড়ছে, নাকি আরও শক্তিশালী হচ্ছে? সাভারের গেন্ডার মাঝির মোড়ে উন্মুক্ত পরিবেশে বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে কয়েল তৈরি, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শ্রমিক ও এলাকাবাসী জাতীয় সংসদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ ঢাবিতে ভুয়া ফটোকার্ড বিতর্ক—শিক্ষার্থীকে শোকজ, গঠন দুই তদন্ত কমিটি কুমিল্লায় অসৌজন্যমূলক আচরণ: বিচারপতি আব্দুল মান্নানকে বিচারকাজ থেকে বিরত রাখলেন প্রধান বিচারপতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই পরিবহন খাতে ভাড়া বৃদ্ধি, বাজারে নিত্যপণ্যের দামে নতুন চাপ

মার্কিন অবরোধে ইরান কি ভেঙে পড়ছে, নাকি আরও শক্তিশালী হচ্ছে?

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১৭ ঘন্টা আগে
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

মার্কিন অবরোধে ইরান কি ভেঙে পড়ছে, নাকি আরও শক্তিশালী হচ্ছে?

তারিখ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং | সময়: রাত ১১: ৪৪ মিনিট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের কঠোর নৌ-অবরোধের কারণে ইরান অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে দেশটি। তার ভাষায়, ইরানে বর্তমানে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জোরদার করে। এর অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় একটি ইরানি ট্যাংকারে গুলি চালিয়ে তা জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ইরানগামী বা ইরান থেকে পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপকে ইরান ‘অবৈধ’ ও ‘দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব বিদেশি জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং কয়েকটি বিদেশি জাহাজ আটক করেছে। আগে যেখানে শুধুমাত্র ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলোর জাহাজ চলাচল করতে পারত, এখন সেখানে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অবরোধে ক্ষতি হলেও ইরান তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। যুদ্ধের আগে তেল বিক্রি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করলেও বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় আয় বেড়ে গড়ে ১৬ কোটি ডলারের বেশি হয়েছে। অর্থাৎ অবরোধের মধ্যেও দেশটি আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি আয় করছে। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের উপকূল ও সমুদ্রে ভাসমান ট্যাঙ্কারগুলোতে ১৬০ থেকে ১৮০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে। এই মজুত দিয়েই অন্তত আগস্ট পর্যন্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করে নতুন আয়ের পথও তৈরি করেছে ইরান, যেখানে একটি জাহাজ থেকেই সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিনামূল্যে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না হলে কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভ্যন্তরীণ বিভক্তির অভিযোগ নাকচ করে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন। তার বক্তব্য, দেশের সব রাজনৈতিক শক্তি এখন একসঙ্গে কাজ করছে এবং বাহ্যিক চাপ মোকাবিলায় প্রস্তুত। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন ‘ধৈর্যের লড়াইয়ে’ রূপ নিয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, অন্যদিকে ইরানের প্রতিরোধ—এই দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হবে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বড় প্রশ্ন।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ...

    সূত্র :আল জাজিরা

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

হাম থামছেই না, একদিনে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু—মোট প্রাণহানি ২১৬

মার্কিন অবরোধে ইরান কি ভেঙে পড়ছে, নাকি আরও শক্তিশালী হচ্ছে?

আপডেট সময় ১৭ ঘন্টা আগে

জেটিভি নিউজ বাংলা

মার্কিন অবরোধে ইরান কি ভেঙে পড়ছে, নাকি আরও শক্তিশালী হচ্ছে?

তারিখ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং | সময়: রাত ১১: ৪৪ মিনিট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের কঠোর নৌ-অবরোধের কারণে ইরান অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে দেশটি। তার ভাষায়, ইরানে বর্তমানে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জোরদার করে। এর অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় একটি ইরানি ট্যাংকারে গুলি চালিয়ে তা জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ইরানগামী বা ইরান থেকে পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপকে ইরান ‘অবৈধ’ ও ‘দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব বিদেশি জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং কয়েকটি বিদেশি জাহাজ আটক করেছে। আগে যেখানে শুধুমাত্র ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলোর জাহাজ চলাচল করতে পারত, এখন সেখানে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অবরোধে ক্ষতি হলেও ইরান তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। যুদ্ধের আগে তেল বিক্রি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করলেও বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় আয় বেড়ে গড়ে ১৬ কোটি ডলারের বেশি হয়েছে। অর্থাৎ অবরোধের মধ্যেও দেশটি আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি আয় করছে। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের উপকূল ও সমুদ্রে ভাসমান ট্যাঙ্কারগুলোতে ১৬০ থেকে ১৮০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে। এই মজুত দিয়েই অন্তত আগস্ট পর্যন্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করে নতুন আয়ের পথও তৈরি করেছে ইরান, যেখানে একটি জাহাজ থেকেই সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিনামূল্যে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না হলে কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভ্যন্তরীণ বিভক্তির অভিযোগ নাকচ করে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন। তার বক্তব্য, দেশের সব রাজনৈতিক শক্তি এখন একসঙ্গে কাজ করছে এবং বাহ্যিক চাপ মোকাবিলায় প্রস্তুত। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন ‘ধৈর্যের লড়াইয়ে’ রূপ নিয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, অন্যদিকে ইরানের প্রতিরোধ—এই দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হবে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বড় প্রশ্ন।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ...

    সূত্র :আল জাজিরা