জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ৭ জুন ২০২৬ ইং, সময়: দুপুর ১২:১১ মিনিট। ছবি সংগৃহীতছয় দফা দিবস আজ: বাঙালির মুক্তির সনদ থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়
আজ ৭ জুন, ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে পরিচিত ছয় দফা দাবির পক্ষে এই দিনেই দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। ১৯৬৬ সালের ৭ জুনের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধিকার সংগ্রাম নতুন পর্যায়ে উন্নীত হয় এবং স্বাধীনতার রূপরেখা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ছয় দফাভিত্তিক আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা সংগ্রামে। পাকিস্তানি শাসকদের দুঃশাসন থেকে বাঙালির মুক্তির পথনির্দেশক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি প্রণয়ন করেন এবং তা জনগণের সামনে বাংলার মানুষের মুক্তির সনদ হিসেবে উপস্থাপন করেন। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়েই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন স্বাধীনতা-সংগ্রামের ভিত্তি লাভ করে। পরবর্তী সময়ে ছয় দফা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১১ দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বশেষ স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ছয় দফা উত্থাপন করা হয়। সে সময় শেখ মুজিবুর রহমান সম্মেলনের পরদিনের আলোচ্যসূচিতে ছয় দফাকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। কিন্তু আয়োজক পক্ষ সেই প্রস্তাবকে গুরুত্ব না দিয়ে প্রত্যাখ্যান করে। এর প্রতিবাদে তিনি সম্মেলনের কার্যক্রমে আর অংশগ্রহণ করেননি। তবে লাহোরে অবস্থানকালেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা জনগণের সামনে তুলে ধরেন। ছয় দফা ঘোষণার পর পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদপত্রে শেখ মুজিবুর রহমানকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে তিনি ঢাকায় ফিরে ১৩ মার্চ দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ছয় দফা এবং দলের অন্যান্য কর্মসূচি অনুমোদন করিয়ে নেন। ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন ও হরতাল শুরু হয়। হরতাল চলাকালে নিরস্ত্র জনতার ওপর পুলিশ ও তৎকালীন ইপিআর গুলিবর্ষণ করে। এতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, সফিক এবং শামসুল হকসহ ১১ জন শহীদ হন। এই আত্মত্যাগ আন্দোলনকে আরও বেগবান করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ছয় দফার প্রতি ব্যাপক সমর্থন সৃষ্টি হয়। ক্রমেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ অবস্থায় সামরিক জান্তা আইয়ুব খানের নেতৃত্বাধীন সরকার ১৯৬৬ সালের ৮ মে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। তবে দমন-পীড়ন আন্দোলনকে থামাতে পারেনি। বরং ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয় দফা আন্দোলন নতুন মাত্রা লাভ করে। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ১১ দফা কর্মসূচি প্রণীত হয় এবং তারই পথ ধরে শুরু হয় ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান। এরপর ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলার জনগণ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে একচেটিয়া রায় দেয়। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনে বিজয়ী দলকে সরকার গঠন করতে না দিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়। ছয় দফার মূল বক্তব্য ছিল— প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার প্রায় সব ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করা। পাশাপাশি পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য পৃথক ও সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু, কর ও শুল্ক আরোপ ও আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে প্রদান, দুই অঞ্চলের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার পৃথক হিসাব সংরক্ষণ এবং পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি হ্রাসে একটি আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌবাহিনীর সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি উত্থাপন করা হয়। ঐতিহাসিক ছয় দফা আজও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, ছয় দফাই ছিল বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক মুক্তির সুস্পষ্ট রূপরেখা, যা শেষ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পথ প্রশস্ত করে।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....

ডেস্ক রিপোর্ট 






















